ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ঘূষ কাকে বলে কত প্রকার ও কী কী? এই প্রশ্নের উত্তর আমরা হয়তো সবাই বেশ ভাল দিতে পারব। আমরা প্রায়ই বলি আম জনতা ঘুষ দেয় এটা ঠিক কিন্তু আম জনতাও ঘুষ খায়। এখন দেখি কখন খায়। যখন সাধারণ নির্বাচন হয় , তখন এক এক জন আম জনতা কত কাপ চা, কতটি সিগারেট ও কতটি পান খান? কত টাকা গ্রহন করেন তার খবর কি আমরা রাখি। আমি এমন এমন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের কথা শুনেছি যেখানে ধনী চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বী এক এক জন ভোটারের জন্য তিন হাজার টাকা বরাদ্দ (ঘুষ বরাদ্দ) করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। আমাদের দরিদ্র, লোভী ভোটাররা দুই তিন হাজার টাকা নিয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ/বাইবেল/গীতা প্রভৃতি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে ভোট দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। বিনিময়ে ঐ নির্বাচিত প্রতিনিধি তার আমলে কত টাকা আয় করেন জনপ্রতি আমরা আম জনতা কি জানি? আমি হিসাব করে দেখেছি জনপ্রতি আম জনতার ৫০ হাজার টাকা পরিমাণ বা তার বেশি লস হয়। যেমন চাউলের কার্ড, আটার কার্ড, সারের কার্ড, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা প্রভৃতি নিতে ঐ আম জনতারই টাকা দিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে আম জনতার অর্থ আত্মসাত করা হয় এবং আম জনতা এর প্রতিবাদ করতে পারেন না, কারণ তারা টাকার বা অন্য কিছুর বিনিময়ে ভোট দিয়েছেন। এভাবেই আমরা ব্যবসায়ী/সন্ত্রাসী/বিবেকহীন জনপ্রতিনিধিদের হাতে নিজেদের ও নিজেদের দেশকে সোপর্দ করি। মোট কথা আমরা ছোট ছোট ঘূষ খোর নির্বাচিত করি বড় বড় ঘুষখোরদের। এরপর আমরা ঐ জনপ্রতিনিধি বা জনপ্রতিনিধিদের আশীর্বাদপুষ্ট সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের টাকা দিই চাকুরি পাবার জন্য/স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার জন্য/মুক্তিযোদ্ধার সনদ পাবার জন্য(খুব কষ্টের সাথে বলছি একথা)/ অন্য যেকোন সুবিধা পাবার জন্য। আমরা আম জনতা ঘুষকে লালন পালন করি।

যখন বৃষ্টি হয় তখন আমরা রিকশা ওয়ালাদের ঘূষ দিই। থাইল্যাণ্ডে যে এত বড় বন্যা হয়েছিল, ওখানকার কোন কিছুর ভাড়া কিন্তু এক পয়সাও বাড়েনি।

আমরা রেলওয়ের কর্মচারীদের ঘুষ দিই ভাল ছিটে বসার জন্য। আমরা বাসের কর্মচারীদের ঘুষ দিই ছিট পারার জন্য, তারা বেশি ভাড়া ঘূষ হিসাবেই নেন। আমরা ঘুষ দিই দুই ভাবে, ইচ্ছে করে এবং বাধ্য হয়ে। আবার নিই দুই ভাবে (বাধ্য করে/অনেকে ইচ্ছে করে দেন আরো বেশি সুবিধা নেবার জন্য)। আমরা কি কখনো ঘুষ দেওয়া /নেওয়া বন্ধ করতে পারব?