ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমরা আমাদের স্বপ্নের প্রিয় দেশকে কোন গৃহযুদ্ধ আক্রান্ত দেশ হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা সবাই সোমালিয়া, আফগানিস্থান, পাকিস্থান প্রভৃতি দেশের বর্তমান অবস্থা জানি। ধর্মীয় গোঁড়ামি বা অন্য যে কোন কারণেই হোক এসব দেশের অবস্থা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে এসব দেশের মানুষ আজ কতটা অনিরাপদ। এসব দেশের ভবিষ্যত একেবারেই ম্লান। আমরা দেখেছি সোমালিয়াতে কিভাবে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের উথান ঘটেছে। পাকিস্থান আজ বিশ্বের অন্যতম অনিরাপদ দেশ হয়ে গেছে। সোমালিয়া, পাকিস্থানে মার্কিন ড্রোন নিয়মিত হামলা করে সাধারণ জনগণকেও হত্যা করছে। জামাতের উথান ঘটেছে এদেশে সামরিক সরকারগুলোর আমলে সবচেয়ে বেশী। এরপর আওয়ামিলীগ ও বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কারণে জামাতকে কাছে টেনেছে যদিও আওয়ামীলীগ এখন যুদ্ধপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বিএনপি জামাতকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন করে চলেছে।

শিবির কর্মীরা অত্যন্ত হিংস্র। তাদেরকে এমনভাবে মগজধোলাই করা হয় যে তারা অত্যন্ত আত্মঘাতী হয়ে উঠে। আমাদের দেশের প্রশাসন এ খোঁজ রাখতেন কিনা জানি না , যে শিবির অত্যন্ত সু-সংগঠিত, যার প্রমান তারা রাখছে এখন। শুধু তাই নয় তারা অত্যন্ত হিংস্র, গুপ্ত আক্রমণে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত, যে কোন সময় মানুষ হত্যা করতে পারে, মানুষের চোখ উঠিয়ে নিতে পারে, দেশের যে কোন মানুষ তাদের কাছে নিরাপদ নয়..। এসব প্রমান তারা রেখে চলেছে। জামাতের নয় দিনের কর্মসূচির শেষ দিনে তারা ঢাকা, খুলনা ও কক্সবাজারে ২০ জন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। তারা পুলিশের অস্ত্র ছিনেয়ে নিয়েছে, পুলিশ সদস্যের চোখ উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। এখন প্রশ্ন তারা দেশের পুলিশ বাহিনীকে কি হত্যার ভয়ে ভীতু করতে চাচ্ছে, এমনকি তারা তাদের বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যদেরও আক্রমন করছে। তারা কি তাহলে গৃহযুদ্ধ শুরু করেছে। আমরা কি অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছি তাদের হাতে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করার ও মানুষ হত্যা করার লাইচেন্স কি তাদের আমাদের অন্যন্য কিছু রাজনৈতিক দল দিয়েছে? সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার কথা আমরা ভুলে যাইনি, রমনার বটমুলে বোমা হামলা, উদিচির অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, ২১ শে আগষ্টে বোমা হামলা, ও বর্তমান হামলা কি একই সুত্রে গাথা? এমন যদি শিবিরের তাণ্ডব চলতে থাকে তাহলে আমাদের এই সুন্দর দেশ কি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে না? আমরা নিরাপত্তা চাই দেশের, দেশের সাধারণ মানুষের, দেশের সকল মানুষের, এই শিবিরের পরিকল্পিত গৃহযুদ্ধের অবস্থা থেকে। এমন অবস্থা যদি ১ বছরের অধিক চলতে থাকে তাহলে হয়তো আন্তঃজার্তিক মিডিয়া একসময় এই দেশকে অন্যভাবে সংজ্ঞায়িত করবে । আমরা শান্তি চাই, শান্তি চাই।