ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের সফর সূচী পিছিয়ে দেয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে বাংলাদেশের জঙ্গি পরিস্থিতি। অস্ট্রেলিয়ার পর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যাণ্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া বিদেশীদের উপর জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারী করে তাদের নাগরিকদের সাবধানে চলাফেরা এবং জনসমাগম করার নির্দেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিকেটারদের ভিভিআইপি স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন; বলেছেন, “দেশে জঙ্গিবাদী নেই”। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যা। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসলামিক স্টেট এর দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। আইএস ওয়েব সাইটে এই দাবীর সমর্থনে কোন বক্তব্য না পাওয়ায় এই সংবাদকে ভিত্তিহীণ বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইতালিয়ান দূতাবাসও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিকভাবে একমত প্রকাশ করেছে।

 

“দেশে জঙ্গিবাদী নেই” – এমন কথা কি করে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? জঙ্গিবাদীরা যদি না-ই থাকবে তাহলে তাঁর বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জিহাদি বইপত্র এবং অস্ত্রশস্ত্রসহ কাদের গ্রেফতার করছে? পাহার, জঙ্গল থেকে কাদের ট্রেইনিং সেন্টার, অস্ত্র আবিষ্কার করেছে র‍্যাব-পুলিশ? গ্রেফতারকৃত যেসব জঙ্গির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের যোগাযোগ আছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে তাদের বক্তব্য কি অসত্য? ভারতের মত বৃহৎ এবং শক্তিশালী দেশ তাহলে কাদের ভয়ে বারবার সতর্কতা জারী করছে, আক্রান্ত হচ্ছে? যারা ভারতে আক্রমণ করে শত শত মানুষ খুন করতে পারে তারা কি বাংলাদেশে হামলা করার শক্তি রাখে না? তুর্কির উগ্র ইসলামী দলের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়ে গোলাম আযমের মুক্তি দাবী করে কেন? ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের বিএনপি এ সময়ে স্বাভাবিক আন্দোলন না করে জঙ্গিদের উপর ভর করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক দাবী আদায়ের চেষ্টা করেছে কি কারণে? জামায়াত-শিবির কি আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত নয়? তা যদি না হবে, তবে পাকিস্তানী তালেবানেরা বাংলাদেশ আক্রমণ করতে চাইবে কেন? জামায়াত-শিবিরই বা কেন তালেবান হতে চাইবে?

 

আফগান যুদ্ধে অংশ নেয়া লোকেরা দেশে জঙ্গিবাদের সূচনা করে। অনেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বর্তমানে আইএস’এর সঙ্গে ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধরত। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশী জঙ্গিদের যোগাযোগ হওয়া এবং এক উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক আইএস, তালেবান বা আল-কায়েদার মত বৃহৎ জঙ্গিদলের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এজেন্টকে বা এজেন্টদেরকে ঢাকায় নিয়োগ দেয়া। আল-কায়েদা বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার জন্য ঢাকায় যদি তারা আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি নিয়োগ করে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দেশীয় কোন জঙ্গিগোষ্ঠী পশ্চিমাদের আশঙ্কা উস্কে দেয়ার জন্য কূটনীতি পাড়ায় ইতালিয়ান নাগরিককে হত্যা করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। ইতালিয়ান নাগরিককে যেই হত্যা করে থাকুক না কেন এটা যে একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা প্রাথমিক সকল আলামত থেকেই বোঝা যাচ্ছে। একজন পশ্চিমা উন্নয়ণ কর্মিকে জঙ্গিবাদী উদ্দেশ্য ছাড়া আর কি কারনেই বা হত্যা করা হবে?

 

তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়ার জন্য “দেশে জঙ্গি নেই” এমন অবান্তর ঘোষণা দেয়া মোটেই উচিৎ হয়নি। অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে এখন ক্রিকেট খেলার চেয়ে অনেক বেশি জরুরী জঙ্গিবাদের চির অবসান ঘটানো; জনমানসে জঙ্গিদের নিয়ে যে আশঙ্কা আছে তা দূর করার। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া যে বার্তা দিচ্ছে তা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করা উচিৎ। খতিয়ে দেখা দরকার তাদের উদ্বেগের কারণ। এই পশ্চিমা দেশগুলো ২০১৩ এবং ২০১৫ এর সহিংস অগ্নি আন্দোলনে ইনিয়ে বিনিয়ে সমর্থন দিয়েছে; বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধের বিচার। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই এরা পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সমর্থন যুগিয়ে এসেছে। জামায়াত-বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখন অগ্নি সন্ত্রাসের দায়ে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে, দূর্ণীতির দায়ে বিচারাধীন; রাজনৈতিকভাবে দূর্বল; অচল। এখন তাদের রাজনীতি চালিয়ে নিচ্ছে তথাকথিত সুশীল সমাজ, ইসলামিক বামেরা এবং পশ্চিমা দেশগুলো। ক্রিকেট লেখাকে উপলক্ষ করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা তাদের পক্ষে খুবই সম্ভব।