ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইসলামিক স্টেট’ বা আইএস-এর উত্থানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়। যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করা হলে বিএনপি’র আঁতে ঘা লাগে এটা সকলেরই জানা। তবে এমন প্রকাশ্যে আমেরিকার জন্য কান্নাকাটিতে অবাক হয়েছে রাজনীতি সচেতন আমজনতা।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমন করতে পাকিস্তানের সমর্থনে সপ্তম নৌবহর পাঠানো থেকে শুরু করে, জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের উত্থাপিত যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য কূট-কৌশল চালানো পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল রকম বিরোধিতা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের জন্য প্রেরিত খাদ্য ভর্তি জাহাজ মাঝপথে ফিরিয়ে দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশটিতে দূর্ভিক্ষ ঘটিয়ে; বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে; হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে; দেশে দুইটি সেনা শাসিত সরকারকে মদদ দিয়ে; স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশ রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে; ধর্মান্ধ, মৌলবাদী শক্তিকে মডারেট মুসলিম আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বারোটা বাজানোর জন্য যা যা দরকার তার সবকিছুই করেছে আমেরিকা। আমেরিকার নগ্ন সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করলে তার তাবেদার বিএনপি’র গায়ে লাগবে এটাতো স্বাভাবিক।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইবুন্যাল গঠন হলে কু-রাজনীতির সঙ্গি-সাথীদের রক্ষা করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আমেরিকা। নিয়োগ করে একজন বিশেষ দূত, যার কাজ হয়ে দাঁড়ায় ট্রাইবুন্যালকে বিতর্কিত করার ফন্দি-ফিকির করা। দূতের মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে ট্রাইবুন্যালকে বিশ্ববাসীর কাছে হেয় করার জন্য মার্কিন সরকার এবং সংসদের উভয় কক্ষ বিভিন্ন প্রস্তাব পাশ করতে থাকে। পাশাপাশি চলে সাম্রাজ্যবাদের বশংবদ মিডিয়ার প্রপাগাণ্ডা। অন্যদিকে সরাসরি জামায়াত-বিএনপি’র রাজনৈতিক দাবীগুলোকে সামনে এনে, হেফাজতে ইসলামের মত মধ্যযুগীয় বর্বরদের মাঠে নামিয়ে, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড করে, শত শত মানুষ হত্যা করে; ডানপন্থী-বামপন্থী-শুষিল সকল তল্পিবাহকদের এক লাইনে দাঁড় করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে হটিয়ে দিতে চায়। এতেও কাজ না হলে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিসর্জন দিয়ে প্রকাশ্যে নগ্ন হয়ে মিরপুরের কসাই খ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দড়ি থেকে রক্ষা করতে ফোন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

বিএনপি নেত্রী লোকলজ্জার মাথা খেয়ে, রাজনৈতিক শিষ্টাচার চুলায় দিয়ে মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমসে লিখেছেন বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আমেরিকাকে হস্তক্ষেপ করার জন্য; জিএসপি সুবিধা বাতিল করতে। বিএনপি’র আহবানে আমেরিকা সাড়া দেবে – এটাইতো স্বাভাবিক। সেই স্বাভাবিক কাজগুলোই করেছে আমেরিকা। বেগম জিয়ার লেখা প্রবন্ধ ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশের অল্পদিনের মধ্যে বাতিল হয়েছে জিএসপি সুবিধা। ২০১৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি যত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করেছে গণতন্ত্রের নামে তার সবকিছুর সাফাই গেয়েছে বিএনপি’র জন্মদাতা আমেরিকা। এদের নীতিহীণতা এত নিচুতে নেমেছে যে বাঙালির প্রিয় ক্রিকেট নিয়েও এরা সাম্রাজ্যবাদীতা করেছে। তাদের আরেক বশংবদ অস্ট্রেলিয়াকে দিয়ে নিরাপত্তার ধুয়া তুলে বাতিল করেছে বহু আগে ঘোষিত ক্রিকেট সফর। এখানেই শেষ নয়। বিএনপিকে দিয়ে হত্যা করিয়েছে ইতালি আর জাপানি নাগরিক। জামায়াত এবং তাদের সঙ্গীদের দিয়ে ঘটাচ্ছে লেখক হত্যা, বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যার হুমকি, চার্চের পুরোহিতদের হত্যার চেষ্টা, শিয়াদের উপর বর্বর হামলা। আমেরিকানদের পেইড এজেন্ট, সাইট ইন্টেলিজেন্সকে দিয়ে আওয়াজ তুলেছে – বাংলাদেশে আইএস আছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, “দেশে আইএস আছে এমন স্বীকারোক্তি দেয়ার জন্য চাপ আছে”।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পাকিস্তান-সৌদী-আমেরিকা আছে জামায়াত-বিএনপি’র সঙ্গে। জামায়াত-বিএনপি’র কাছে পাকিস্তান চায় সাতচল্লিশের পাকিস্তান; আমেরিকা চায় বাণিজ্য, তেল, গ্যাস আর তথাকথিত মুক্তবাজার অর্থনীতি। জামায়াত-বিএনপি তা দিয়ে বিনিময়ে পায় বাংলাদেশ শোষণ করার অধিকার। এমন লাভজনক রাজনৈতিক অংশীদারকে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী করলে বিএনপি’র গায়ে তো লাগবেই। আমেরিকার ইজ্জতে আঁচড় লাগলে বিএনপি চিৎকার করে তো কাঁদবেই।

জানি জানি সবই জানি/ জামায়াত মানে পাকিস্তানী।

জানি জানি সবই জানি/ বিএনপি মানে মার্কিনী।