ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

সকালে পত্রিকা দেখেই মন ভাল হয়ে গেল। পত্রিকা খুললেই শুধু দুঃসংবাদ – এমন কথা শুনে আসছি সেই শৈশব থেকে। আজকালকার পত্রিকা আর তা নয়। প্রতিদিনই কিছু না কিছু সুসংবাদ থাকে। আজকের পত্রিকার সুসংবাদগুলো হচ্ছে ২১ সালের মধ্যে মধ্যেম আয়ের দেশে এবং ৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার প্রত্যয় আবারো ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে যখন তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন তিনি একনাগাড়ে গত সাত বছরের অর্জনগুলো বলে যাচ্ছেলেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের অধিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; অচিরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা; বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৬ সালের ৩,৫০০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৪,০৭৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়া; ৭৫% মানুষের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া; খাদ্য ঘাঁটতির দেশ থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ দেশে পরিণত হওয়া; ৩.৮ বিলিয়ন থেকে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ২৭ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়া; গড় আয়ু ৬৬.৫ বছর থেকে ৭১ বছর হওয়া; চরম দারিদ্র ২০০৬ সালের ২৪.২ শতাংশ থেকে ৭.৯ শতাংশে নেমে আসা; ৫ কোটি মানুষের দারিদ্র থেকে মধ্যে আয়ের জীবনে উঠে আসা; পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল – এসব চিহ্ন বলে দিচ্ছে বাংলাদেশে ভাল কিছু হচ্ছে, বাংলাদেশ বদলে যাচ্ছে।

চলতি বছরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (৬.৬%) অর্জনের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রথমে থাকবে ভারত (৭.৪)। চিনের প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা গতি হারিয়ে ৬.৫% হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ২০১৬ সালে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গ ৯৩টি দেশের তথ্য উপাত্ত নিয়ে এই আগাম বার্তা দিয়েছে। এই ৯৩টি দেশের মধ্যে আসার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বেগম জিয়ার পেয়ারে পাকিস্তান এবং তালেবানী আফগানিস্তান। বেগম জিয়ার সহচরেরা ২০০১-০৬ সময়ে ঢাকার রাস্তায় শ্লোগান দিয়েছে – আমরা হব তালেবান/ বাংলা হবে আফগান। না বাংলাদেশ আফগানিস্তান বা পাকিস্তান হয়নি। বাংলাদেশ পাকিস্তানী, আফগানী উপাদানগুলোকে একে একে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। বিচার চলছে জঙ্গিবাদের, অগ্নি সন্ত্রাসের। বাংলাদেশ দমন করেছে স্বাধীনতা বিরোধীদের সৃষ্ট জঙ্গিবাদ।

আজকের পত্রিকা আরও জানিয়েছে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে আশাবাদী মানুষের দেশ। ১৫ সালের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিশ্বখ্যাত জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান ডব্লিউআইইন এবং গলাপ পরিচালিত জরিপে ৭২% মানুষ বলেছে ১৬ সালে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। এই হার বিশ্ব গড় হারের চেয়ে ২৭% বেশি। অর্থাৎ গড়ে সারা পৃথিবীতে ৪৫% মানুষ মনে করে তার দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে সেখানে বাংলাদেশে ৭২% মানুষ মনে করে ২০১৬ সালে অর্থনৈতিক উন্নতি আসবে। জরিপটি আরও জানিয়েছে যে দেশে ৬৬% মানুষ তার জীবন নিয়ে সুখী। এই হারও বিশ্ব গড়ের চেয়ে ২৭% বেশি।

সুখী মানুষের দেশ, আশাবাদী মানুষের দেশ – বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রগতির দিকে। এই পথ পরিক্রমায় তাঁকে সম্মুখীন হতে হয়েছে, হচ্ছে পাহাড়সম বাঁধার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার মাধ্যমে তিনি ভেঙ্গে দিয়েছেন স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হাতে গড়া ৩৩ বছরের (১৯৭৫ থেকে ২০০৮) অন্যায় আর দুঃশাসনের জন্য সৃষ্ঠ রাষ্ট্র ব্যবস্থা। তাঁর নেতৃত্বাধীন ৯৬ থেকে ০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি পারেননি দুঃশাসনের নিগড় ভাঙ্গতে। আঞ্চলিক এবং বিশ্ব রাজনীতির পরিস্থিতি তখন ছিল না বাংলাদেশের অনুকূলে। পৃথিবী জুড়ে ছিল বাংলাদেশের ‘জন্মশত্রু’ মার্কিণ সাম্রাজ্যবাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। চিন বা রাশিয়ার মত কেউ ছিল না তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার ঠিক আগ মূহুর্তে ফাঁসি কার্যকর না করার অনুরোধ (আদেশ!) নিয়ে মার্কিণ পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরির টেলিফোন এক কথায় উড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে করেছেন পরাশক্তির রাহুগ্রাস মুক্ত।

সেই শুরু, তারপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প। জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশকে বলছে উন্নয়ণশীল দেশের রোল মডেল। তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘ দিয়েছে পুরস্কার। প্রকৃতি রক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশের নেতাকে জাতিসঙ্ঘ উপাধি দিয়েছে “চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ”। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক পত্রিকা ফরেন পলিসি “লিডিং গ্লোবাল থিংকার” তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ১৩ তম। এই তালিকায় রয়েছেন সামাজচিন্তক, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। পৃথিবীর ১০০ সেরা চিন্তাবিদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র চারজন রাষ্ট্রনায়ক। এরা হলেন জার্মানীর চ্যাঞ্চেলর এঞ্জেলা মার্কেল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন, মৌরিতাসের প্রেসিডেন্ট আমিনাহ গুরিব-ফাকিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুনিয়া কাঁপানো পুটিন এবং মার্কেলের সঙ্গে হাসিনা এখন এক কাতারে বিবেচিত হচ্ছেন বিশ্ব জুড়ে।

শেখ হাসিনা কোন মহামানবী নন। তিনি সাধারণ মানবী। আমাদের মা-খালা-চাচী-ফুফুদের মত একেবারে সাদামাটা বাঙালি নারী। তিনি এমন কোন কাজ করেননি যা করার জন্য অতীতে কেউ ভাবেনি বা করতে বলেনি। তিনি গত সাত বছরে এমন সব কাজই করেছেন যা করার জন্য ৩৩ বছর অপেক্ষা করেছে প্রগতিশীল বাংলাদেশীরা এবং যা না করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। তিনি দেশের উন্নতির জন্য, প্রগতির জন্য একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে তাঁকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বাঁধাদানকারীদের প্রতিহত করার জন্য। এরা তাঁকে খুন করার জন্য ১৩ বার চেষ্টা করেছে। নিজের জীবন বাজী রেখে শেখ হাসিনা অবিচল ছিলেন লাইনচ্যুত বাংলাদেশকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার কাজে। এই বাঁধাদানকারীদের মধ্যে রয়েছে বৃহৎ টাকাওয়ালারা, সুশীল সমাজ, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর একটা বিরাট অংশ, জামায়াত-বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, পাকিস্তান, সৌদি, আমেরিকাসহ সকল পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ। এত ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে স্বকীয়তা বজায় রেখে অবিচল এগিয়ে যাওয়াটাই ছিল শেখ হাসিনার আত্মশক্তির কার্যকর বহিঃপ্রকাশ। একটা দেশ যখন নিজের পথ ফিরে পায় তখন তাকে আর কেউ দাবায়া রাখতে পারেনা। বাংলাদেশ ৭৫ এ হারানো পথ ফিরে পেয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আপন পথে তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন শধুই এগিয়ে চলবে।