ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বহু লোক হ্যাকারদের কাছে খোয়ানো টাকা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। অন্যের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করছেন। এদের প্রায় কেউই আইটি সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ নন। তবুও তারা কিছু না কিছু বলছেন। আসলে সকলেই বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছেন। এই বোঝার চেষ্টা করাটা ভাল লক্ষণ। এর ফলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা থাকলে জনগণকে ঘোকা দেয়ার সুযোগ কমে যায়। কেউ কেউ আবার এর মধ্যে রাজনীতি করছেন। একদল আছেন যারা বুঝে এবং না বুঝে এই অঘটনার সঙ্গে সরকারকে জড়িয়ে দেবার চেষ্টায় আদাজল খেয়ে নেমেছেন। কেউ কেউ নিদেন পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেউ জড়িত তা প্রমাণের চেষ্টা করছেন এই আশায় যে তাতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যাবে। এদের অনেকে জানেনও না যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সম্পুর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যা সরকার হতে পৃথক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ব্যাংকার। ব্যাংকারের কোন কাজের জন্য মক্কেল অবশ্যই দায়ী নয়।

আমাদের রাজনীতি চলে মূলত প্রপাগাণ্ডার উপর ভিত্তি করে। যে যত প্রপাগাণ্ডা করতে পারে সে তত রাজনৈতিক সুবিধা পায়। প্রপাগাণ্ডা যে কাজ দেয় তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে সাঈদীর চন্দ্র গমন। এক প্রপাগাণ্ডায় একটা বড়সড় তাণ্ডব লাগিয়ে বহু জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করা গিয়েছিল। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা গিয়েছিল। সাঈদির পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা গিয়েছিল। উদাহরণ আরও আছে যেমনঃ শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করেছে, শেখ মুজিবের ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেনি, শেখ মুজিব সাধারণ ক্ষমা করে যুদ্ধাপরাধীদের মাফ করে দিয়ে গেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে উলু ধ্বনি দেয়া হবে, ভারতের কাছে দেশ বিক্রি হবে, ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

বর্তমান ইস্যুতে অর্থাৎ হ্যাকিং করে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা দায়ী এমন প্রপাগাণ্ডা করতে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চেয়ে বিবৃতি চাওয়া লোকেরা আবারো মাঠে নেমেছেন। ডেইলি স্টারের আজকের (১৩ মার্চ ২০১৬) প্রধান খবরটি ছাপাই হয়েছে এই প্রপাগাণ্ডার পালে হাওয়া দেয়ার জন্য। কেন্দ্রীয় ব্যংকের নিয়োগ করা বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার আগেই তারা সংবাদ পর্যালোচনা করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে এহেন কর্ম অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের লোকেরা করেছে।

প্রথম আলো লিখেছে, “লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শায়েদুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, ম্যালওয়্যার বসাতে যেসব উপায় লাগে, অভ্যন্তরীণ কারও সহায়তা ছাড়া ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী প্রতিরোধক ভেদ করে তা বসানো প্রায় অসম্ভব।” শাহেদুর রহমান সাহেব কি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে জানেন? যদি জেনে থাকেন তবে কিভাবে জেনেছেন? তিনি কি কখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি সিকিউরিটি কিয়ে কাজ করেছেন? বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিরোধক কতটা শক্তিশালী? এসব প্রশ্নের জবাব প্রথম আলোর আজকের পত্রিকায় নেই।

ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আরেক কাঠি সরেস। তারা আজকে হেড লাইন দিয়েছে, Hackers had link with BB insiders! যদিও ভেতরের খবর অন্যরকম। খবরের শুরুতে নামহীন বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছেঃ The perpetrators of over US$100 million digital heist from Bangladesh Bank’s account with the US Fed might have worked in direct liaison with the bank’s employees concerned, according to IT experts. Or, they say, somebody had spied in disguise to trade out the basic information. খবরের ভেতরে আইটি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপনের (যিনি এই ঘটনার তদন্ত দলে আছেন বলে পত্রিকাটি দাবী করেনি) উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছেঃ “But my suspicion about the heist is persons may be insiders or outsiders,” he said. এইবার বুঝুন বাংলাদেশের সুশীল গণমাধ্যম কি পারে।

এই লেখার মাধ্যমে কোনভাবে এটা প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে না যে এই হ্যাকিং এ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেউ জড়িত নয়। হ্যাকিং ঘটনার তদন্তের জন্য দেশি এবং বিদেশী ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাঁরা তদন্ত শেষে সত্য উদঘাটন করে যে সিদ্ধান্তে পৌছাবেন তা সকলে মেনে নেবে। সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে আমাদের প্রধান সংবাদপত্রগুলো প্রতিনিয়ত যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রপাগাণ্ডা করছে তা সকলের গোচরীভূত করাই এ লেখার উদ্দেশ্য।