ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

স্বাধীনতা বিরোধীদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং অস্বীকার করার অধিকার সংরক্ষণের জন্য ডেইলি স্টার এবার সকল মুখোশ খুলে ফেলে রাজনীতির মাঠে নেমেছে। গত ৯ এপ্রিলের পত্রিকায় তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করার অধিকার কেন থাকা উচিৎ সে বিষয়ে জাতিকে জ্ঞান দানের উদ্দেশ্যে প্রথম পাতায় বিশাল লেখা ছাপিয়েছে। তাদের মূল যুক্তি হচ্ছে, আইন করে ইতিহাস বিকৃতি এবং অস্বীকার রোধ করা হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা বাঁধাগ্রস্থ হবে।

সর্বজন স্বীকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার জন্য ৩০ লক্ষ শহীদের এবং ৪ লাখ বীরঙ্গনার মর্যাদা রক্ষারা জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেনসহ ইউরোপের ১৮টি দেশের হলোকাস্ট ডিনায়াল এক্টের মত একটা আইনের দাবী করে আসছে অনেক দিন থেকে। সে দাবীর সঙ্গে একমত হয়ে আইন কমিশন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং অস্বীকার করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রেখে খসড়া প্রণয়ন করেছে। খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। আইনটি এখনো পাশ হয়নি বা সাধারণের আলোচনার জন্য খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। এমন অবস্থায় ডেইলি স্টার জানল কি করে যে এই আইনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা বাঁধাগ্রস্থ হবে? এই আইনের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের উপর বর্তমান বা ভবিষ্যৎ গবেষণা বাঁধাগ্রস্থ হোক তা কেউই চাইবে না। গবেষণার অধিকার সংরক্ষণ করেও ইতিহাস বিকৃতি এবং অস্বীকার বন্ধ করা যায়। ডেইলি স্টার এই দিকে আলোকপাত না করে জামায়াত-বিএনপি চক্রের ইতিহাস বিকৃতি এবং অস্বীকার করার অধিকার সংরক্ষণে সচেষ্ট হয়েছে।

ডঃ কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই ডেভিড বার্গম্যান, বিএনপির বিভিন্ন নেতা এবং স্বয়ং বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বজন স্বীকৃত ইতিহাস নিয়ে বিকৃতি ঘটিয়েছে। এমনকি তারা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে অস্বীকার করে একজন মেজরকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রচার করে আসছে। এর উপর রয়েছে লাগাতার জামায়াতী মিথ্যাচার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপেও নাজী বাহিনী এবং তাদের সমর্থকেরা একইভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যাচার করেছে, সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতার ইতিহাস সুরক্ষার্থে এরকম একটি আইনের প্রয়োজন ছিল অনেক আগে থেকেই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হলে ২০১৩ সালে স্বাধীনতার পক্ষ এবং বিপক্ষ শক্তির লড়াই নতুন করে শুরু হয়। এ লড়াইয়ে জামায়াত-বিএনপি এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি মিডিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষ নেয়। তাদের মধ্যে ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো অন্যতম প্রধান মিডিয়া। নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে জাহির করে ১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই দুই পত্রিকা কয়েক শত রাজনৈতিক বিষয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষ নিয়েছে। এরা জামায়াতের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিকৃত সংবাদ প্রকাশ করেছে। এমনকি সম্পাদকীয় লিখে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল কি হওয়া উচিৎ সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে শত শত মানুষ হত্যার জন্য উদ্বুদ্ধকারী আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, হেফাজতের সমাবেশ নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট করা আদিলুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিতর্কিত করা ডঃ কামাল হোসেনের জামাই ডেভিড বার্গম্যানের মুক্তি চেয়েছে ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো সম্পাদক। স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন করা এদের জন্য নতুন কিছু নয়। জামায়াত-বিএনপি’র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং অস্বীকার করার অধিকার সংরক্ষণের জন্য ডেইলি স্টারের কলম ধরা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই।