ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পেট্রোল বোমা আন্দোলনে ব্যর্থ জামায়াত-বিএনপি টার্গেট কিলিং করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির যে চেষ্টা করে আসছে তা বেশ পাকা এবং রসালো ফল দিতে শুরু করেছে মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মি জুলহাস হত্যার পর থেকে। টার্গেট কিলিং এর উদ্দেশ্য যে পশ্চিমাদের দৃষ্টি আকর্শন তা খুব সহজেই বোঝা যায় তাদের টার্গেটদের ধরণ দেখে। বর্তমান পৃথিবীতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা যে কয়টি শব্দ ব্যবহার করে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চালাচ্ছে তা হচ্ছেঃ গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এই শব্দ তিনটি তারা আফগানিস্তান থেকে শুরু করে, ইরান হয়ে, মিশর, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, উত্তর কোরিয়া থেকে চিন পর্যন্ত সব দেশে ব্যবহার করছে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য। এসব শব্দের প্রয়োগ নিয়ে তারা চিন্তিত নয় নিজ দেশে, ইউরোপে, ইয়েমেনে।

জামায়াত-বিএনপি’র সুশীল বাহিনী বাংলাদেশে এই তিনটি শব্দকে বেশ ভাল ভাবে ব্যবহার করে চলছে। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি অংশ গ্রহণ করেনি বলে দেশে গণতন্ত্র নেই। পেট্রোল বোমাবাজদের আইনের আশ্রয় নেয়াতে এবং একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের কাঠগড়ায় দ্বার করানো হয়েছে বলে ধ্বংস হয়েছে মানবাধিকার। আত্মস্বীকৃত মিথ্যা খবর পরিবেশনকারীর বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করায় এবং বিদেশে বাংলাদেশ নাগরিককে অপহরণ এবং হত্যা চেষ্টার দায়ে একজন ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করায় নষ্ট হয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। জামায়াত বিএনপি’র টার্গেট কিলিং মিশনও এই তিনটি শব্দকে ব্যবহার করছে পশ্চিমাদের দৃষ্টি আকর্শন করার জন্য। তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার দায়ে লেখক এবং প্রকাশকদের, ভিন্ন মতের ধর্মীয় নেতাদের, বিদেশীদের এবং এলজিবিটি কর্মীকে হত্যা করে পশ্চিমাদের আদর্শানুভুতিতে একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে।

পশ্চিমাদের আদর্শানুভূতিতে একের পর এক আঘাত করার উদ্দ্যেশ্য বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পশ্চিমাদের নাক গলানোর সুযোগ করে দেয়া। সে সুযোগ সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে শুরু করেছে জামায়াত-বিএনপি’র গডফাদার আমেরিকা। টার্গেট কিলিং এর সুযোগ নিয়ে জন কেরি ফোন করেছিলেন যৌথ উদ্যোগে জঙ্গিবাদ দমনের প্রস্তাব নিয়ে যা তাঁর আগে থেকে দিয়ে আসছেন তাদের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত। জন কেরি শুধু ফোন করেই ক্ষান্ত হননি। বাংলাদেশের উপর চাপ আরও বাড়াতে একদিকে ইসারায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদের’ মাধ্যমে জামায়াত-বিএনপিকে সন্ত্রাস সরবরাহ করছেন অন্যদিকে সহকর্মী নিশা দেশাইকে সশরীরে পাঠিয়েছেন হুমকি-ধামকি দিয়ে বাংলাদেশকে কাবু করার জন্য। আমেরিকা বাংলাদেশে যা করছে তাকে পরাশক্তির সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু বলার সুযোগ নেই। আমেরিকানদের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে সবসময়ই সহযোগিতা দিয়ে থাকে তাদের কর্পোরেট মিডিয়া। মিডিয়া আদর্শানুভুতিতে আঘাতের ধোঁয়া তোলে। সেই ধোঁয়ায় চারদিক আছন্ন করে সরকার নামে সন্ত্রাস করতে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সম্পাদকীয় লিখেছে প্রভাবশালী সন্ত্রাসী পত্রিকা, দৈনিক দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস। ৮ মে সংখ্যার সম্পাদকীয়তে তারা বাংলাদেশকে ধমক দিয়ে বলছে আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে জঙ্গিবাদ দমনের প্রস্তাব মেনে নিতে। অন্যথায় বাংলাদেশ আইনশৃংখলাহীন হয়ে রসাতলে চলে যাবে।

ওরা নিজেদের কি ভাবে!! মোড়ল!! ওরা ধমক দিলেই আমরা সুর সুর করে ওদের সঙ্গে যৌথভাবে জঙ্গি দমন করার প্রস্তাব মেনে নেব? আমাদের কি বিচার বুদ্ধি নেই? ওদের সঙ্গে সহযোগিতার চুক্তি করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, মিশরের কি দশা হয়েছে আমরা কি তা জানিনা? আমরা কি শুনিনা বিশ্ব জুড়ে বলা হয়, “আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর প্রয়োজন হয় না”। অভিজিৎ হত্যা তদন্তে এফবিআইকে সঙ্গে নেয়া হয়েছিল। কি ফল পাওয়া গেছে তাতে? আজ পর্যন্ত কয়েকটা ফরেনসিক টেস্টের ফলাফল তারা আমাদের দেয়নি। একটা অপরাধীকেও শনাক্ত করতে পারেনি। ওদের সঙ্গে সহযোগিতার চুক্তি করার মানে হবে খাল কেটে কুমির আনা। সে চুক্তি ধরে প্রথমে পরামর্শক দল পাঠাবে। পরামর্শক দল বলবে এখানে কোটি কোটি জঙ্গি আছে তাদের দমন করতে এয়ার স্ট্রাইক করতে হবে। সমুদ্র থেকে বিমান হামলা। এয়ার স্ট্রাইক করতে সপ্তম নৌবহর লাগবে। তারপর বলবে, এয়ার স্ট্রাইকে হচ্ছে না কমব্যাট টিম লাগবে। শেষে সৈন্য মোতায়ন – ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্থানের মত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন।

আমেরিকা এ খেলা বহুদিন ধরে খেলছে। সারা পৃথিবী তাদের এ খেলা দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এই পুরোন খেলা খেলে বাংলাদেশে সুবিধা হবে না এটা আমেরিকার অনেক আগেই বোঝা উচিৎ ছিল। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে শাস্তি থেকে রেহাই দেয়ার জন্য তিনি যেদিন ফোন করেছিলেন সেদিন তাঁর বুঝে নেয়া উচিৎ ছিল যে বাংলাদেশ এখন আর সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তোয়াক্কা করে না; বাংলাদেশ এখন শক্ত মাটির উপর দাঁড়িয়ে, যোগ্য নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। ৭৫ থেকে ০৮ সময়কালে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় যে জঙ্গিবাদ এখানে চাষ করা হয়েছে তার ফসল উপরে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে ০৯ সালেই। এদের শক্তি সামর্থ কমতে কমতে এখন টার্গেট কিলিং পর্যায়ে নেমে এসেছে।

০৫ সালে, ১৩ সালে, ১৫ সালে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের যে তাণ্ডব নৃত্য দেখেছে তা এখন ইতিহাস। ১৫ সালে যখন জঙ্গিবাদের কেন্দ্র জামায়াত-বিএনপি’র বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করা শুরু হল অমনি দমে গেল পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস। বিভিন্ন সংগঠনের নামে সংগঠিত এবং আইএস কর্তৃক দায়ভার গ্রহিত টার্গেট কিলিং বেশ কিছু সময় ধরে বিভ্রান্ত করেছে এদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এই বিভ্রান্তি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দেরী করিয়েছে। সম্প্রতি টার্গেট কিলিং এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে একই চক্রকেঃ জামায়াত-বিএনপি। টার্গেট কিলিং এর সঙ্গে জড়িত এই চক্রের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনকে আইনের আশ্রয়ে নিতে পারলে দমন হবে স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি চক্রের চলমান রাজনীতি; মুখ বন্ধ হবে তাদের আগ্রাসি গডফাদার আমেরিকার; বাংলায় ফিরে আসবে নিরাপত্তাবোধ; এগিয়ে যাবে রাজনীতি, অর্থনীতি।