ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

Coxbazar-Rohingya-Residence

.

প্রতি মুহূর্তে বেড়ে চলছে রোহিঙ্গা স্রোত। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়েছে। এরা এসে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে। আগের রয়েছে ৫ লাখ। নতুনদের যোগ করলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এখন ৬ লাখ ছাড়িয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর দায় বাংলাদেশ ছাড়া কেউ নিচ্ছে না। ইউএনএইচসিআর মাত্র ৩০ হাজারের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

বিশ্ব মোড়লেরা শুধু বিবৃতি দিয়ে খালাস। চীন, রাশিয়া ভেটো দিচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে। এখন পর্যন্ত বাস্তব উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া আর তুর্কিকে। অন্যান্য ইসলামিক দেশ শুধু আওয়াজে পাকিস্তান। বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া আর তুর্কি যোগ দিয়ে বিশ্ব মতামত সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে গণহত্যা বা জাতি নিধন নয়, মুসলিম সমস্যা হিসেবে চিত্রায়ন করা সহজ হবে। মুসলিম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হলে বিশ্বমত নিয়ে রোহিঙ্গাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা অনেক কঠিন হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অমুসলিম দেশগুলোকেও নিয়ে আসতে হবে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে।

রোহিঙ্গাদের বুঝতে হবে মূলধারা বার্মিজদের সঙ্গে সমঝোতা না করে তাদের টিকে থাকা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের রয়েছে ওয়াহাবি, সালাফি ধারার জঙ্গি গোষ্ঠী। এ কারণে তাদের পক্ষ কেউ নিতে চায় না। তাদের নেই কোন রাজনৈতিক নেতা। কে বুঝবে তাদের সমস্যার গভীরতা? কে বের করবে তাদের জন্য সমাধানের পথ? বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার কারণে তাদের পক্ষে মানবিক কারণে কফি আনান যে সমাধান দিয়েছেন মায়ানমার সরকারকে তা মানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মিয়ানমার ইস্যুতে শেষ কথা বলে চীন। সেখানে চীনের রয়েছে বড় বড় বাণিজ্যিক স্বার্থ। মিয়ানমারের বন্দর ব্যাবহার করে বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি বানাতে চাইছে চীন। চীন সহজে চাইবে না রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলতে। জাতিসংঘ, ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। চীন তাদের মায়ানমারে ঢুকতে দেবে না। চীনের স্বার্থ রক্ষা করেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান পেতে হবে। সেজন্য রয়েছে রাশিয়া। বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার রয়েছে গভীর সুসম্পর্ক। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে এমন কিছু দেশের সমন্বয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে কার্যকর কূটনৈতিক বলয়। শেখ হাসিনার রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। এই বলয়ের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে সমাধান করতে পারে রোহিঙ্গাদের সমস্যা; নিজ ভূমে ফিরিয়ে দিতে পারে ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে।