ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কেউ কেউ বলছেন – খালেদা জিয়ার হাজতবাস তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এবং দেশ ভাগের পর পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অনেক নেতা-কর্মীর জনপ্রিয়তা বেড়েছিল জেল খাটার পরে। তার মানে এই নয় যে শুধু জেল খাটলেই জনপ্রিয় হওয়া যায়। বৃটিশ এবং পাকিস্তান বিরোধী আন্দলনে জনপ্রিয়তা পাওয়া নেতাদের জেল খাটা ছাড়া আরো কয়েকটি বৈশিষ্ট কমন ছিল ছিল: এরা সকলেই ছিলেন জনস্বার্থ রক্ষার কাজে বা গণ-অধিকার আদায়ের কাজে নিয়োজিত। এরা ছিলেন আদর্শবাদী এবং ব্যক্তি চরিত্রের দিক থেকে নিষ্কলঙ্ক। অনৈতিক কাজের জন্য এরা কেউ জেলে যায়নি।

উপরে উল্লেখিত গুণাবলীগুলোর কোন একটি খুঁজে পাওয়া যায় না বেগম জিয়ার চরিত্রে কিংবা কর্মকাণ্ডে। নিজের স্বার্থ ছাড়া জনস্বার্থে তাঁকে কখনো সোচ্চার হতে দেখা যায় না। তাঁর সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে টানা পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাঁর পুত্র হাওয়া ভবনে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছিলেন। হাওয়া ভবনকে তখন সরকারের সমান্তরাল আরেক সরকার ভাবা হত। হাওয়া ভবন দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। তাঁর দুই পুত্রের দুর্নীতি করে বিদেশে পাচার করা কোটি কোটি ডলার দেশে ফেরত আনা হয়েছে। তিনি যে একজন দুর্নীতিবাজ তা এদেশের মানুষ বহুকাল ধরেই মনে করত। ৮ ফেব্রুয়ারির রায় সাধারণের এই ধারণাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মাত্র।

বেগম জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের এবং জঙ্গীদের দোসর – একথা বহুবার তিনি প্রমাণ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইবুন্যাল গঠনের পর তিনি সিলেটে এক জনসভায় বলেছিলেন: মুজাহিদ, নিজামী, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী নন; তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেয়া হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় গ্রেফতারকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ‘আলেম’ এবং ‘রাজবন্দি’ নামে অভিহিত করেছেন। তিনি দেশের জন্ম শত্রুদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন; হেফাজতের মধ্যযুগীয় ১৩ দফার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন; নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য পাঁচ শতাধিক স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে খুন করেছেন; সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে প্রায় ছয়’শ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছেন।

তাঁর পুত্রের নেতৃত্বে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে। সে হামলার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। শুধু গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জনকে হত্যা করে তারা ক্ষান্ত হয়নি। শেখ হাসিনার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর উপর গুলি করা হয়েছে। সে গুলিতে নিহত হয়েছেন শেখ হাসিনার দেহরক্ষী। তাঁর সমর্থকেরা ৮ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে জুতাঘাত করেছে। বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির ৩ ফেব্রুয়ারির সভায় তার উপস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য শোক প্রস্তাব পাশ হয়েছে।

তাঁর প্রতি কিছু স্বাধীনতা বিরোধী, পাকিস্তানপন্থী, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক এবং স্বার্থের কারণে যুক্ত কিছু লুটেরা মানসিকতার দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়া আর কারো শ্রদ্ধা নেই, ভালবাসা নেই। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে আয়েশি, বিলাসীসহ আরো অনেক অসৎ কাজে জড়িত। তিনি রাষ্ট্রের আইনকে তোয়াক্কা করেন না, ঠিকমত কর দেন না। তিনি অতিথির মর্যাদা করেন না; প্রধানমন্ত্রীকে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গালিগালাজ করেছেন। স্বাধীনতা বিরোধী এবং সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ডা নিয়ে রাজনীতি করা এরকম নেতিবাচক চরিত্রের একজন মানুষ জেলে গিয়ে অধিক জনপ্রিয় হবেন এবং মুক্ত হয়ে আসবেন – এমন ধারণা শুধু নির্বোধেরাই করতে পারে।