ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

ঈদ এর পর দিন রাতের খবর , চ্যানেল আই । একটা খবরে চোখ আটকে গেল – ” গতি পাচ্ছে MRT PROJECT ,প্রস্তাবিত রুট নিয়ে বিমান বাহিনীর আপত্তির কারণে বিষয়টি ঝুলে যায়। অবশেষে একটি সংশোধিত রুট প্রস্তাব করা হয় সংসদ ভবন পাশ দিয়ে।ডিসেম্বর মাঝেই PROJECT টির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত হবে।”

নিঃসন্দেহে ভাল খবর। ঢাকায় থাকা যে কোণও মধ্যবিত্তের জন্য এটা খুবই ভাল খবর, মাত্র ৫০ টাকায় শহরের এক মাথা থেকে আর এক মাথায় চলে যাওয়া !তাও আবার এত কম সময়ে ! ভাবায় যায় না । উচ্ছোষিত হয়ে ওঠার মতন খবর। কিন্তু খুশী হতে পারলাম না। এমন কিছু তথ্য আমি জেনে গেছি যা সাধারণ মানুষ হিসেব না জাণায় হয়তো ভাল হত- তাহলে এই চমৎকার খবরের পেছনের ভীষণ নোংরা আর অন্ধকার অংশটা মাথায় গেঁথে যেত না। ঢাকায় যানজট সমস্যা নিরসনে যে সব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে তার মাঝে অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ এই MRT PROJECT.যা নগরবাসীর একটা বড় অংশ, মোটকথা মধবিত্ত শ্রেণীকে সেবা দিতে পারবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কিছু স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ চলে আসে যা সেদিনের খবরে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছ আর কিছু বিষয় যা কোথাও কোনও মিদিয়াতেই ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ করা হয়নি।

অবায়দুল কাদের বা নাযমুল হুদা কি বলছে তা দেশবাসিকে জানাতে মিডিয়া তৎপর থাকে কিন্তু এটা জানাবার প্রয়োজন মনে করে না যে শুধুমাত্র রুত পরিবর্তনের কারনে MRT এর সার্বিক সেবাদান ক্ষমতা ৪০% হ্রাস পাবে। সেই একই পরিমান ঋণের বোঝা দেশের মাথায় চাপবে তবে কার্যকারিতা কমে যাবে ৪০% ! এটা হয়তো এমন গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয় ! ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল , বোধকরি বাংলাদেশে হাসপাতাল আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা ভাবে দুদিক থেকেই এটি একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। অসংখ্য মানুষ অত্যন্ত কম খরচে এ প্রতিষ্ঠান থেকে উন্নত সেবা পেয়েছে। এই হাসপাতালটি ভেঙ্গে ফেলতে হবে, সম্পূর্ণ ভাবে। খামারবাড়ি ভেঙ্গে ফেলতে হবে। হয়তো এটাও তেমন কোন গুরুত্ব বহন করে না! আর আমাদের সংসদের গা ঘেঁষে না না ভুল বললাম সংসদ ভবন COMPLEX এর ভেতর দিয়ে নতুন প্রস্তাবিত সনশধদিত (!) পথটি যাবে। এতে করে সংসদ ভবনের মহাপরিকল্পনাকে ভয়ঙ্কর ভাবে খতিগ্রস্থ করা হবে। পৃথিবীর অন্যতম সেরা অনিন্দ সুন্দর স্থাপত্যকর্ম হওয়ায় এটিকে WORLD HERITAGE SITE হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে চেষ্টা চলছিল তা চিরকালের জন্য ধূলিসাৎ হয়ে যাবে । আড় সংসদ এর প্রতি শ্রদ্ধা সম্মানএর কথা যদি আসে –এ জাতি কবে কখন মহৎ কে সঠিক সম্মান ডীটে শীখেছে?হাজার হাজার বছরের ইতিহাস তন্নতন্ন করে খুঁজলে হয়তো ডূ একটা নজির পাওয়া যাবে। মন্দ কী!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত ত্যাগ স্বীকার করে কাড়জো ক্ষমতা ৪০% কমিয়ে বেচারা ট্রেন কে সংসদের ঘাড়ের উপর দিয়ে নিয়ে যাবার নিশ্চয়ই অকাট্য কোণ যুক্তি আছে আমাদের সরকার আর বিমানবাহিনীর !
কিন্তু কী সেই যুক্তি? যুক্তি না জানলে আপনারা তর্কেই বা যাবেন কীভাবে?

তো সরকার ও বিমানবাহিনীর অকাট্য ( সত্যিই অকাট্য ,ব্র মাওশটড়া ও এ যুক্তি কাটবার নয় ) যুক্তি এখানে বয়ান করছি । MRT এর প্রস্তাবিত রুট টি ছিল রোকেয়া স্মরণী থেকে বিজয় স্মরণী হয়ে ফার্ম গেট এর দিকে। বেশ তো , তা এ রুটে সমস্যা কোথায় ? সমস্যা আছে বৈকি । এ রুটের ঠিক পাশ দিয়ে রয়েছে তথাকথিত সচল DOMESTIC AIRPORT .( সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য , এটি একটি পোড়ীটেক্টটো বিমানবন্দর যেখানে বছরে খূব বেশি হলে ৪/৫ বার বিশেষ এক রকমের বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করে যার উড্ডয়ন ও অবতরণ এই মেট্রো রেলের কারণে কিছু মাত্র হুমকির মুখে পড়বে ণা।) শুধু মাত্র এই অকাট্য যুক্তি দিয়ে এই এতো গুলো খ আর সাংসদকে অপমান করার লজ্জা সরকার জাতির উপর চাপিয়ে দিছে!

সত্যিই যদি এ পথ দিয়ে ট্রেন যেতে শুরু করলে আমাদের পরের প্রজন্ম যখন জানতে চাইবে কেন সাংসদ COMPLEX এর ভেতর দিয়ে এই রুট নেয়া হল , কেন ১০ বগির বদলে মাত্র ৬ বগির ট্রেন বেব করা যাবে জেনেও এ দিক দিয়েই কেন ট্রেন নেয়া হল যা পড়োয়াজোণেড় তুলনায় অনেক কম মাণূশকে সেবা দিতে পারছে ? আমরা কি উত্তর দিব?

যখন সাশষেড় সমস্ত স্থপতি জানতে চাইবে শঠাপোট্টেড় এই অ ণোণ্ণোও সৃষ্টি কে কেন আমরা একেবারেই অকারণে নষ্ট হতে দিলাম( যার অধিকার আডোওূ আমাদের নাই) আমরা কি উত্তর দিব?
কী ভাবে বলবো –একটা খোঁড়া যুক্তি ছিল যুক্তিটা এতোই খোঁড়া যে কাটার মতন কিছুই খুঁজে পাওয়া গেল না তাই সেটা অকাট্য হিসেবে বিজয়ী হয়ে গেল!