ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, এলাকার বন্ধু বা সমবয়সী অনেককেই দেখি নানা রকম নেশায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পরছে। এদের মধ্যে প্রথম প্রথম প্রায় সকলের বক্তব্যই থাকে “দেখি জিনিসটা কেমন? সবাই কেন খায় দেখি!!” অনেকে আবার তথাকথিত সামাজিকতা রক্ষার্থে চেখে দেখে।

স্কুলে বন্ধুদের সাথে সিগারেট খেয়ে ধরা খাওয়ার পর স্যার বলেছিল “সংগদোষে লোহাও ভাসে”। তখন স্যারের কথা হেসেই উরিয়ে দিয়েছিলাম, স্যার ভাবসম্প্রসারণ শেখাচ্ছে। কিন্ত পরিণত বয়সে এসে বুঝতে পারছি স্যারের কথা আসলেই সত্য ছিল। ঐ যে বললাম সামজিকতা রক্ষার্থে…..।

বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতের মধ্যে যারা নিয়মিত নেশা করে তাদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম অধিকাংশই, প্রথম প্রথম শখে খেলেও পরবর্তীতে সেই নেশা হচ্ছে তাদের হতাশার কারণে।

কোন এক বন্ধুকে জিজ্ঞাস করেছিলাম কেন খাস এগুলো, টাকা নষ্ট, শরীরের ক্ষতি, সবার চোখে খারাপ হয়ে যাচ্ছিস। সে জানালো তার নেশার মূল কারণ হচ্ছে হতাশা। কখন শেষ হবে শিক্ষা জীবন, ৬-৭ মাসের সেশনজট, তার সাথের অনেকেরই অনার্স শেষ। কিছু দিন পর চাকুরি করবে। কিন্তু তার এখনো বাবার টাকায় চলতে হচ্ছে। কারো কারো আবার প্রেম ঘটিত ব্যাপার! কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো প্রিয়তমা চলে যাবে অন্যের হয়ে। তার কিছুদিন পর সেই প্রিয়তমার বাচ্চাই হয়তো মামা বলে ডাকবে।

তবে কথা হচ্ছে, যে যেই কারণেই নেশাগ্রস্থ হোক তার জন্য কিন্তু পরিবার, সমাজ এবং কাছের মানুষগুলোই দায়ী। হয়তো একটু আশা, ভালোবাসা বা ভালো সঙ্গই পারে ঐ সব নেশাগ্রস্ত বন্ধুদের আলোর পথে আনতে। আর সমাজের প্রতিটি স্তর যদি নেশার জন্য কঠোর হয়, তবে অনায়াশেই হয়তো হারিয়ে যাবে নেশা নামক কটু শব্দটি।