ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

একটা সময় খুব একা ফিল করতাম, হতাশ ছিলাম, আর সাজেকের গল্প পড়তাম ব্লগে, পেপারে, বইয়ে। সেখানকার জীবনযাত্রা জেনে গিয়েছিলাম আরো দুই বছর আগেই। লুসাই পাংখোয়া জাতির কথা মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। চাকরি ছেড়ে একটা সময় সাজেকে পালিয়ে হতাশা থেকে বাচঁতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সাজেক আমার দেখা হয়নি সে সময়। আরো কিছু বছর আগেই সাজেক ছিল একটা দুর্গম জায়গা। আর আজ সেখানে আর্মির কল্যানে আমরা যেতে পারছি।

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে মারিশ্যা রাস্তার উপর দিয়ে কাচালাং পার হয়ে মাচালাং হয়ে রুইলুই পাড়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক ভ্যালীতে আসতে হবে। সাজেকে কি আছে যা নিয়ে এত হাউ কাউ? সাজেকের পাহাড় চূঁড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের অদ্ভুত দৃশ্য দেখে সকল ক্লান্তি ও কষ্ট নিমিষেই মিলিয়ে যায় ।

IMG_20141226_060923   IMG_20141226_062836   IMG_20141226_061401

প্রকৃতির এতো সুন্দর রূপ আগে কখনও দেখিনি। সাজেকের এই প্রাকৃতিক রূপের সাথে পাংখোয়া ও লুসাই আদিবাসীদের বৈচিত্রময় জীবন যাত্রা দেখে আরও বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যাই। উঁচু মাচার ঘরে গাছের গুড়ি কেঁটে বানানো সিঁড়ি, ঘরের ছাউনী বাঁশের পাতার। ঘরের সামনে ফুলের বাগান, মাঝে মাঝেই ক্যাকটাস ও অর্কিড শোভা পাচ্ছে রুইলুই গ্রামটি। ঢালুতে ২/৩ শত বছরের পুরোনো বিশাল বিশাল গাছ। বাড়ির অদূরেই অসংখ্য কমলা বাগান। এরই মাঝে চোঁখে পড়ে অসংখ্য ঔষুধী গাছ-গাছড়া। একেবারে ঢালুতে যেদিন তাকাই সেদিকই লক্ষ কোটি বাঁশ আর বাঁশ।   IMG_20141226_060646

সেই ঘর থেকে একে একে বেড়িয়ে আসছে আদিবাসীরা। কেউ পানি আনতে, কেউ বা জুম ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল আনতে ব্যস্ত তারা। পরনে তাদের জিন্সের প্যান্ট,গায়ে হাতা কাঁটা শর্ট গেঞ্জি, শার্ট, স্টাট ইত্যাদি। লাবন্যময়ী রূপসী মেয়েদের দেখে মনে হয়েছে  বলিউডের কোন নায়িকা এখানে শুটিং-এ এসেছে। পোষাক দেখে মনে হয়েছে এ যেন বাংলাদেশের ভেতর এক খন্ড ইউরোপ। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি এক পর্যায়ে জানাগেল তাদের ধর্ম খৃষ্টান। মিজো ভাষায় তারা কথা বললেও ইংরেজি তাদের অক্ষর ইংরেজী। লুসাই ও পাংখোয়া আদিবাসীরা বাংলা ভাষার চেয়ে ইংরেজিতে কথা বলতেই বেশি পছন্দ করে।   IMG_20141226_062059

 

IMG_20141226_061947

মাচালাং বাজারে প্রতি শুক্রবার হাট বসে, চাইলে এখানে ঘুরাঘুরি করতে পারেন। বাজারে সব ক্রেতা বিক্রেতা সবাই পাহাড়ী, ২/১ জন বাঙালি। সাজেকের স্থানীয় হেডম্যান এর নাম লালথাংগা লুসাই, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম চংমিং থাংগা লুসাই। সাজেকের উচ্চতম পাড়ার নাম কংলাক পাড়া (কমলক), আসার পথে অনেক কমলা বাগান আছে। কমলক রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় সিপ্পুতে অবস্থিত। সেখানকার উপজাতিরা পাঙ্কু সম্প্রদায়, অধিকাংশই শিক্ষিত এবং পোশাকে সেই রকম আধুনিক। পাকা পেপে আর কলা খেয়ে পেট ঠান্ডা করেছি আমরা। পেপে আর কলা খাওয়ার সময় দেখলাম তাদের লাইসেন্স করা বন্দুকে তেল দিচ্ছে তারা, একটু পরই দুইজন হরিণ শিকারে বেরিয়ে পড়ে। কাংলাক থেকে আর সামনে না যাওয়াই ভালো কারন  অপহরণের আশংকা রয়েছে। এখানে কফির চাষও হয়। তাদের চাষের কফি খেলাম।    IMG_20141226_064959   IMG_20141226_064904

আর বেশি মজা পেয়েছি ২৫ ডিসেম্বর রাতে গির্জায় লুসাইদের নাচ গান বাজনা, রাতে ফানুস উড়ানো। আর ভোর বেলায় মেঘের নদী। 

IMG_20141225_205551
ধন্যবাদ আমার সাথে যাওয়া ফ্রেন্ডদের, যারা আমার উপর ব্লাইন্ড ট্রাষ্ট করে সাজেকে গিয়েছে। জানতাম না কি আছে সেখানে, গিয়ে সব ম্যানেজ করেছি আমরা সবাই, ফয়সালকে থ্যাংকস সব কিছু ম্যানেজ করার জন্যে। আর আমাদের গাইড ভাই মোবারককে স্পেশাল  থ্যাংকস বাকি সব ম্যানেজ করার জন্যে-আর একদিনে সব কিছু দেখানোর জন্য, এরকম গাইডিং কেউ আগে করে নাই ভাই। আর মোহাম্মাদ আলী ভাইয়ের সহযোগিতা কোনদিন ভুলবো না। 
আবার যেতে চাই সাজেক। আবার যাবো। কথা দিলাম।
IMG_20141226_063553
এক নজরে সাজেক, খাগড়াছড়ি ট্যুর।
কিভাবে গেলাম? কি কি করলাম সব মনে পড়ে গেল দেখে। রাতে ঢাউশ আকারের ফানুস উড়ানো, রাস্তার চারপাশের ছবি, ব্লা ব্লা।
ভিডিও শেয়ার করার জন্যে Khan Shajal -কে Thanks
কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে শ্যামলী হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা। শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা যায়। ভাড়া ৫৮০ টাকা। এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়।

সেন্টমার্টিন্স পরিবহন – আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১ ০১৭৬২৬৯১৩৪০। খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮।

শ্যামলী পরিবহন– আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১। কল্যাণপুরঃ৯০০৩৩৩১ ৮০৩৪২৭৫। আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১ ৯১২৪৫৪। দামপাড়া(চট্টগ্রাম)ঃ ০১৭১১৩৭১৪০৫ ০১৭১১৩৭৭২৪৯। 
শান্তি পরিবহনআরামবাগ(ঢাকা) ০১১৯০৯৯৪০০৭। অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) ০১৮১৭৭১৫৫৫২। চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেনঃ

খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল সহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে। দীঘিনালায় কয়েকটি হোটেল থাকলেও দীঘিনালা গেস্ট হাউজের মান কিছুটা ভালো।
খাগড়াছড়িঃ
পর্যটন মোটেলঃ এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পরবে। মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার। ভাড়াঃ এসি ২১০০ টাকা,নন এসি ১৩০০ টাকা। মোটেলের অভ্যন্তরে মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানো আছে। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫।
 
হোটেল ইকোছড়ি ইনঃ খাগড়াপুর ক্যান্টর্মেন্ট এর পাশে পাহাড়ী পরিবেশে অবস্থিত। এটি রিসোর্ট টাইপের হোটেল। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬২৫ ৩৭৪৩২২৫।
হোটেল শৈল সুবর্নঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬ ০১১৯০৭৭৬৮১২।
হোটেল জেরিনঃ ০৩৭১-৬১০৭১।
হোটেল লবিয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০ ০১৫৫৬৫৭৫৭৪৬ ,০১১৯৯২৪৪৭৩০।
হোটেল শিল্পীঃ ০৩৭১-৬১৭৯৫।
দীঘিনালাঃ
দীঘিনালা গেস্ট হাউজঃ এটি দীঘিনালা শহরের বাস স্ট্যান্ডের উল্টো পাশে অবস্থিত এটি দীঘিনালার আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে একটু মানসম্মত। এখানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে রুম নিয়ে থাকা যাবে। নূর মোহাম্মদ(ম্যানেজার) ০১৮২৭৪৬৮৩৭৭
  
শাহজাহান হোটেলঃ হোটেলটি  দীঘিনালা বাজারেই। ০১৮২৫৯৮০৮৬৭  (ম্যানেজার) ০১৭৩২৫৭৩৬১৫ (মালিক)
অথবা আমার পেইজে দেখতে পারেনঃ Rono’s Traveling
-২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪