ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

মালয়েশিয়া এসে অসংখ্য জলপ্রপাত দেখার সুযোগ হয়েছে। পাহাড়ি দেশ বলে প্রায় সব খানেই জলপ্রপাতের দেখা মিলে। কুয়ালালামপুরের মূল শহর `কে এল সিসি` থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে হুলু লাঙ্গাত এলাকায় একটি জলপ্রপাত আছে। একবার গিয়েছিলাম সেখানে। জায়গাটি পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র তাই সারাবছরই পর্যটকদের ভীড় দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে মালেশিয়ার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (রবিবার)। সেদিন অনেকেই জলপ্রপাতে শরীর ভেজাতে চলে যান সেখানে। স্থানীয় ভাষায় এই জলপ্রপাত পর্যটন ক্রেন্দ্রের নাম `এয়ার তেজুন সুমগাই গাবাই`।

সেখানে পৌঁছানোর পর মূল গেইটের সামনে গাড়ি পার্কিং করতে গিয়ে পড়তে হয়েছে বিপাকে। কারণ আগেই অনেক পর্যটক এসে হাজির হয়েছেন। তাদের গাড়ি পার্কিং থাকার কারণে আমরা খালি জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে মূল গেইট থেকে অনেকটা দুরে সড়কে গাড়ি পার্কিং করা হলো। জন প্রতি এক রিঙ্গিত দিয়ে প্রবেশ টিকেট কিনে ভিতরে প্রবেশ করে হাঁটতে শুরু করেছিলাম। রাস্তার পাশ দিয়ে জলপ্রাপাত গড়িয়ে আসার দৃশ্য লক্ষ্য করলাম। চারিদিকটা পাহাড়ে ঘেরা। নানা রকমের শত শত গাছ গাছালি। এই জায়গাটিকে জঙ্গলও বলা যায়। সেখানকার বাতাস প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। বাতাসের সাথে গুড়ি গুড়ি পানি শরীরকে স্পর্শ করে। সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। একটু সামনে যেতেই একটা আঁকা বাঁকা সিঁড়ি নজরে পড়েছিলো। সিড়িটি উপরের দিকে উঠেছে। জলপ্রপাতের মূল দৃশ্য কাছ থেকে দেখতে হলে এই সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠতে হবে। হাঁটতে হাঁটতে পথ যেন শেষ হয় না, শুধু উপরের দিকে উঠেই যাচ্ছি। হাঁপিয়ে একটু দাঁড়ালাম, লক্ষ করেছিলাম আরও অনেকেই একটু জিড়িয়ে নিচ্ছে তারাও হাঁপিয়ে উঠেছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠার সময় বিশ্রাম নেয়ার জন্য ক`টি কাঠের ঘর বানিয়ে রাখা হয়েছে। কাঠের ঘরগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। বসার জন্য ঘরের ভিতরে টেবিল দেয়া আছে এবং ঘরের চারিদিকটা খোলা। হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে পৌঁছালাম মূল দৃশের কাছে। পাহাড়ের উপর থেকে জলপ্রপাত গড়িয়ে পড়ছে। অসংখ্য পর্যটক গোসল করছে। আমরাও নেমে পরেছিলাম গোসল করতে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানি। সমস্ত ক্লান্তি যেন নিমিষেই দূর হয়ে গিয়েছিলাম। ভেসে ছিলাম অনেকক্ষণ। প্রবাসে ব্যস্ততার জীবনে অশান্ত মনকে শান্ত করলাম। নিজেকে চিন্তা মুক্ত মনে হচ্ছিল। গোসল শেষ করে সেই সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামলাম। সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠা কষ্ট কিন্তূ নিচের দিকে নামতে গেলে কোনো কষ্ট হয় না।

মূল গেইট থেকে বাইরে বেড় হয়ে পাশের একটি খাবার রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলাম। রেস্টুরেন্টের ভিতরের বিশাল বড় একুরিয়ামে বন্দি থাকা মাছ থেকে নিজের পছন্দ মতো একটি মাছ বেছে নিলাম। সেই মাছটি রান্না হলো। সি-ফুড রেস্টুরেন্ট গুলোতে অর্ডার করার পর রান্না করা হয়। খাওয়া-দাওয়া সেরে নিলাম।

পূর্বে প্রকাশিত …….