ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

“তোমার ওই শ্যামল বরণ কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা,
ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা।”

কবিগুরু কি এই দেশের মাটিতে মাথা ঠেকাতে চেয়েছেন?? শহীদেরা,তোমরা কি রক্ত দিয়ে এই বাংলাদেশের নাম লিখতে চেয়েছিলে?? কিশোর কবি সুকান্ত কি প্রাণপণে জঞ্জাল সরিয়ে আমাদের জন্য এই বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে গেছেন??

যদি তারা আমাদের জন্য এই বাংলাদেশ রেখে যান তবে শতকণ্ঠে আমি ধিক্কার জানাই তোমাদের এ দানের। চাই না আমি, চাই না এমন বাংলাদেশের যেখানে মানুষ গড়ার কারখানাগুলো আস্তে আস্তে অচল হয়ে যাচ্ছে ছাত্ররাজনীতি নামক এক বিশাল দানবের হিংস্র থাবায়।এই দানব যে একান্তই দুর্বল নয় তার প্রমাণ সে এরেই মধ্যে আমাদের সামনে পেশ করেছে দেশের সর্বোচচ কারখানাগুলো অচল করে দিয়ে।তবে এই দানবের বিস্তার কিন্তু আজকে হঠাৎ করে নয়।আস্তে আস্তে তার কালো হাত প্রসারিত করতে করতে সে আজ পৌঁছে গেছে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে।অর্জন করেছে চূড়ান্ত বিজয়।আর তার নাগপাশে বন্দি হয়ে আমরা পরিণত হচ্ছি তার অতি সহজ শিকারে।কিন্তু এভাবে আর কতদিন??কতদিন এভাবে আমরা আমাদের এই মূল্যবান সময় হেলায় হারাব বলতে পারেন?? কতটা ত্যাগ,কতটা পরিশ্রমের বিনিময়ে দেশের সর্বোত্তম শিক্ষাগৃহে ভর্তি হতে পেরেছি সেটা শুধু আমরাই জানি।আর আমাদের এই পরিশ্রমের মূল্য আপনারা এইভাবে দিচ্ছেন।

এক সময় খুব আশা করতাম যেঁ নিজেকে এক সময় পরিচয় দিব দেশের সর্বোত্তম শিক্ষা গৃহের একজন বিদ্যার্থি হিসাবে। কিন্তু আজ কিছুটা হলেও সংকোচবোধ হয় সে পরিচয় দিতে।এই কি আমাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের ফসল??এই কি আমাদের কষ্টের প্রতিদান?? আপনারা কি জানেন আমাদের বাবা-মা এর কতটা ত্যাগ, কতটা আত্মদান,কতটা প্রার্থনা আর কতটা পরিশ্রমের ফসল আমাদের এই সাফল্য?? আমাদের সাফল্য এর আগের দিন পর্যন্ত কতটা চিন্তায় তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে আপনাদের কি সেই সম্পর্কে বিন্দু মাত্র ধারণা আছে??আপনারা কি দেখেছেন তাদের সেই চিন্তিত অথচ মায়াময় মুখগুলো??আমি নিশ্চিত আপনারা কখনো সেগুলো লক্ষ্য করেন নি।যদি করতেন তাহলে আজ আমাদের এই পরিণতি হত না।কারণ আপনারাও তো রক্ত মাংসের মানুষ আর আপনাদের ঘরেও তো বাবা-মা আছেন।আজকাল পত্রিকা খুললেই দেখতে পাই বিভিন্নজন রাজনীতি নিয়ে তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রকাশ করছেন।অনেকে দেখি রাজনীতিকে আবার একটা নোংরা নর্দমা বলে গালিও ছোড়েন।আপনারা যদি রাজনীতিকে নোংরা নর্দমা বলে গালি দিয়ে দূর থেকে মুখে রুমাল চেপে নিশ্চুপ চলে যান তাহলে এই নর্দমার গন্ধ বাড়বে বই কমবে না।আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়বে সবখানে আর অসুস্থ করে ফেলবে সবাইকে।তাই দূর থেকে খালি গালি না ছুড়ে সাহস করে নামতে হবে সেই পচা নর্দমায় আর সেটাকে পরিণত করতে হবে সুপেয় পানির আধারে।যাতে করে আমরা সেটা থেকে বিশুদ্ধ পানি পান করে জীবন ধারণ করতে পারি।আর এই জন্য আমাদের লালন ফকিরের মত দয়াময় এর আশায় পারে বসে থাকলে চলবে না দরকার নিজ নিজ উদ্যোগের। আর সেই আশায়,

“আমি কান পেতে রই
ওই আমার আপন হৃদয় গহন দ্বারে বারে বারে
কান পেতে রই।”