ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারিনা আমি স্বাভাবিক ভাবে মারা যাবো না আমার মৃত্যুটা অপমৃত্যু হবে। মারা গেলাম ভাল কথা, কিন্তু আমার লাশটা কোথায় থাকবে? পুকুরে, ডোবায়, নদীতে, নৌকায়, বস্তায়, ড্রেনে, ডাস্টবিনে, ট্রেনে নাকি রাস্তায়? যেখানেই পাওয়া যাক আমার মাথা কি দেহের সাথে থাকবে নাকি সেটাও আলাদা করে খুজে বের করতে হবে? যদি মাথা আলাদা থাকে তবে কি তা খুজে পাওয়া যাবে নাকি মাথা ছাড়াই আমাকে দাফন করতে হবে? আমার লাশ যদি পাওয়াই যায় তবে তা কি পূর্ণ থাকবে নাকি টুকরো টুকরো? টুকরো করার পর কি একই সাথে সব ফেলে দিবে নাকি নানান জায়গায় আলাদা আলাদা করে ফেলবে?

আমকে কেউ খুন করবে সেটা স্বাভাবিক লাগছে না। কারণ আমি তেমন বড় কেউ না। টাকার জন্য ছিনতাইকারী আমাকে খুন করতে পারে। এখনতো আবার দুই টাকার জন্যও খুন হয়। আর আমার কাছে প্রতিনিয়ত হাজার খানেক করে টাকা থাকে। তার জন্য ছিনতাই কারী খুন করতেই পারে। কিংবা পুলিশ আমাকে নিয়ে গুম করতে পারে। পুলিশের তো আজকাল বেশী টাকা লাগে। বেচারারা আবার আজকাল বেশী দরিদ্র। পুলিশের দরিদ্রতার দূরীকরণের জন্য আলাদা কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত সরকারে। আজকাল দেখি তারা রাস্তা থেকেও টাকা কুড়িয়ে নেয়। যারা আমাদের নিরাপত্তা দিবে তাদের সমস্যাতো আমাদেরই দেখতে হবে।

প্রতিদিনই অফিস করতে হয়। রাস্তায় বের হই প্রতিদিনই। রাস্তায় বের হলে অনেকগুলো প্রশ্নই মাথায় আসে। আমি কি বাসায় ফিরতে পারবো? যদি বাসায় ফিরি তবে কি লাশ হয়ে ফিরবো নাকি জীবিত অবস্থায়। যদি লাশ হয়ে ফিরি তবে কি গাড়ি চাপায় লাশ হব নাকি গাড়ির ভিতরে থেকেই লাশ হয়ে যাবো? গাড়ি কি দূর্ঘটনায় পতিত হবে নাকি ভাংচুর করে কেউ আগুন লাগিয়ে দিবে? এমনিতেই আমি হাটতে পারিনা। আগুন লাগিয়ে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও নেই। তাই হরতালের দিনে যখন অফিসে আসি তখন মনে হয় যেন হাতে জীবন নিয়ে অফিসে যাচ্ছি। চাকুরী আর ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই ঢাকার বাইরে যেতে হয়। তখন আরো বেশী মাথায় চিন্তা আসে। বাস আবার খাদে পরে যাবে নাতো? এমনিতেই আমি নিজেই প্রতিবন্ধী তার উপর সাতার জানি না। বাস খাদে পরলে দুই বার মারা যাবো। একবার বাসের ধাক্কায় আরেকবার পানিতে ডুবে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেটওয়ার্ক অনেক দূর্বল। তাই তিনি বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তাই রাতের বেলা ঘুমানোর সময় চিন্তা করি আমি সকাল বেলা বেঁচে উঠতে পারবো তো? আমার এলাকার আসে পাশে বেশ ডাকাতি হচ্ছে। এখন দিনে দুপুরে ডাকাতির সংখ্যা খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। আর রাতেরবেলা তো তাদের জন্য স্বর্গের মত। তাই ডাকাত এল আর আমাকে সহ বাসার সবাইকে মেরে রেখে গেল এমন হতেই পারে। চিন্তা করি ডাকাত মেরে রেখে গেলে আবার আমার পরকীয়া নিয়ে কথা উঠবে না তো? আমি অবশ্য বিয়ে করিনি। তাই পরকীয়ার হাত থেকে বেঁচে গেছি। তবে বিবাহিত মেয়ের সাথে আমাকে জরিয়ে দিলে ফেসে যাবো। কিংবা প্রেমের বলি বলে ঘোষণা দিলে করার কিছু থাকবে না। চিন্তা করতেছি আমি ঘুমাতে যাবার আগে বালিশের নিচে একটি নোট লিখে রেখে যাবো। নোটে লিখা থাকবে –

আমি সগীর হোসাইন খান।
চাকরি: জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম।
বিবাহিত অবস্থা: অবিবাহিত
প্রেমের অবস্থা: প্রেমিকা যোগার করতে ব্যর্থ।
পরকীয়ার অবস্থা: এখন পর্যন্ত চরিত্র ফুলের মত পবিত্র।
নারী সংগ: যথা সম্ভব এরিয়ে চলার চেষ্টা করি।
মাদকাসক্তি: কোন রূপ মাদক, বিড়ি-সিগারেট, পান, চা, ইত্যাদির অভ্যাস নেই।
ব্যাংক-ব্যলেন্স: ব্যাংকে কয়েক হাজার টাকা ছাড়া কোনরূপ কালো টাকা নেই।
অপরাধ রেকর্ড: বাংলাদেশের কোন থানাতেই আমার নামে এখন পর্যন্ত কোন মামলা নেই। মৃত্যুর পর কোন মামলা হলে এর জন্য আমি দায়ী থাকবো না।