ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

শিরোনাম দেখে ভয় পাবেন না। বলার তেমন কিছু নেই।
১। প্রথম যখন আজিমপুরে আসি তখন একটু নতুন বিষয় জানতে পারি। শবে-বরাতে হালুয়া রুটি না বানালে নাকি মুসলমানই না। আমাদের বাসাতে যে সকল ভিক্ষুকরা হালুয়া-রুটি নিতে আসতো তারা না পেলে বা আমরা না করে দিলে ঠিক এই কথাই বলতো “হিন্দু নাকি”।

পুরান ঢাকায় হালুয়া রুটি নিয়ে যে এলাহি কাণ্ড হয় তা না দেখলে বিশ্বাস করার মত না। নানান রংবে রংএর হালুয়া, নানান স্বাদের হালুয়া, শক্তি হালুয়া, নরম হালুয়া, জামাইয়ের জন্য হালুয়া, বউয়ের জন্য হালুয়া, সন্ধায় খাওয়ার এক পদ, রাতে খাবার আরেক পদ। বলে শেষ করা যাবে না। তারা ইবাদতের চাইতে হালুয়াতেই ব্যস্ত থাকে। বোঝার উপায় নেই আজকের দিনের মহত্ব কিসে? হালুয়াতে নাকি ইবাদতে।

আজিমপুর কবস্থানের কাছেই থাকি। এখানে আসার পর আরেক নতুন অভিজ্ঞতা হল। ভিক্ষুক নিয়ে ব্যবসা। আজকে রাতে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হবে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? না হওয়ারই কথা। আজকের দিনে বিশেষ করে পুরান ঢাকার মানুষগুলো একশত টাকার নিচে কাউকেই ভিক্ষা দিবে না। এই টাকা ভিক্ষুকের কাছ থেকে বেশীর ভাগ অংশই চলে যাবে তাদের নিয়ে ব্যবসা করার জন্য যারা তাদের ঢাকার বাইরে থেকে বাস, ট্রাক ভরে নিয়ে এসেছে। কবস্থানের সামনে জায়গা ভাগ ভাগ করে ভারা দেওয়া হয়। সেই ভারায় যাবে কিছু অংশ। পুলিশ এসে নিয়ে যাবে কিছু অংশ। রাত শেষে তাদের হাতে কিছুই থাকবে না। এই ব্যবসায় এখন মন্দা চলছে। আগে প্রায় ৩ হাজারের মত ভিক্ষুক সারা দেশ থেকে এই এলাকায় জমায়েত হলেই এখন কেন যেন ভিক্ষুকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

দুপুরেই পৌঁছে যাওয়া কিছু ভিক্ষুকের দল।

দুপুরেই পৌঁছে যাওয়া কিছু ভিক্ষুকের দল।

দুপুরেই পৌঁছে যাওয়া কিছু ভিক্ষুকের দল।

দুপুরেই পৌঁছে যাওয়া কিছু ভিক্ষুকের দল।

দুপুরেই পৌঁছে যাওয়া কিছু ভিক্ষুকের দল।

এই যে ফাঁকা স্থান দেখছেন। এখানে ফার্নিচারের এবং ফলের দোকান থাকে। আজকে এখানে ভিক্ষুকদের বসানো হবে বলে সব সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এই দিনের আরেক ব্যবসা হল মসজিদ, মাদ্রাসা আর এতিম খানার নামে টাকা তোলা।

আরেকটা মজার ব্যবসা হল কবরস্থান জিয়ারত। কবরস্থান জিয়ারত করতে আসেন এমন অনেকই জানেন না কিভাবে জিয়ারত করতে হয়। তাই এই দিনে কিছু মাদ্রাসার ছেলেরা জিয়ারতের মাধ্যমে টাকা আয় করে। জিয়ারত করে দিলে তারা তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকাও পায়। শুনে আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠেছিল। কোন এক অজানা কারনে এখন এই ব্যবসায়ও মন্দা চলছে।

শবে-বরাত আসলে একটা মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকায়। যদিও এখন তা অনেকটাই কমেছে। কিন্তু তার পরও শবে-বরাত আসলেই যে হারে বোমাবাজি শুরু হয় তার কারনে মাঝে মাঝে কানে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। এই একটা বিষয় কোন ভাবেই আমার মাথায় ঢুকে না। কি করে বোমার সাথে ইবাদতের সংযোগ থাকতে পারে?

এবার আসি করপোরেট ভাবনায়। আমার কাছে বাংলা লিংক থেকে মেসেজ আসলো ৭৮৬ তে ফোন দিয়ে জেনে নিন এই দিনে কিভাবে এবাদত করতে হয়? ভ্যাট প্রযোজ্য।
অফিস থেকে আসার সময় ধানমন্ডিতে দেখি একটি ব্যনার টানানো। সেটার কথাটা অনেকটাই এমন ” আপনি শবে-বরাতের পবিত্র রাতে ইবাদতে ব্যস্ত থাকবেন। হালুয়া-রুটি বানানোর সময় নেই? আপনি এই দায়িত্ব আমাদের হাতে দিয়ে দিন। ” তারা প্রয়োজন অনুযায়ী হালুয়া রুটি বাসায় সরবরাহ করে।
চিন্তা করতেছি এর পর কি কি দেওয়া যায়।

এই দিনে পুরান ঢাকায় গুরু কাটার ধুম পর যায়। বড় বড় গরুর পসার বসে মোরে মোরে। বেশ কয়েক স্থানে দাওয়াত পেয়েছি। যদিও বের হইনি। এই দিনে ইবাদত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যে কোরআন-হাদিছের কথা বলা হয় এই দিন নিয়ে সেখানেও রয়েছে দূর্বলতা। এই দিনের চাইতে লায়লাতুল কদর এবং লায়লাতুল মেরাজ অনেক ফজিলতের দিন। কিন্তু এই দুই দিনে মানুষের মাঝে উৎসাহ কম দেখা যায়।

এই একদিনে যারা পাপ ধুয়ে কাল সকালে পবিত্র হয়ে ঘুম থেকে উঠার চিন্তা করতেছেন তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা। এক রাতেই যদি সব ইবাদত শেষ হয়ে যেত তবে নবীজি (সা:) সারা জীবন নামাজ পড়ে পা ফুলিয়ে ফেলতেন না। তার সব পাপ মাফ করে দেওয়ার পরও তিনি নামাজ, রোজা তথা ইবাদতে একটুও ছাড় দেন নি। আমি আপনি কোন ছার। তাই সাধু সাবধান।