ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক ইউনিটের পরীক্ষা ছিল। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় থাকি বলে এবং আজকে দুই দুইবার বের হয়েছি বলে এই পরীক্ষা না দিয়েও তার সবটুকু ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমি দুইবারে বের হয়েছি যে পথটুকু সেটুকে স্বাভাবিক সময়ে লাগে মোট ৩০ মিনিট। কিন্তু আমাকে খরচ করতে হয়েছে ২.৩০ ঘন্টা। একবার চিন্তা করুন কি অবস্থা?

আজকে জ্যামে বসে থাকতে থাকতে যখন বিরক্ত ঠিক তখনি এক রিকশা চালকের একটি কথায় অবাক হলাম। সে বলতে সাধারণত লাগে গাড়ির জ্যাম, আর আজকে লাগছে মানুষের জ্যাম। চেয়ে দেখি ইডেনের সামনের ফুটপাতে মানুষ ঠায় দাড়িয়ে আছে। কারন এগিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এক দিকে দেয়াল আরেক দিকে লৌহ বন্ধনি এবং সামনে পেছনে মানুষ আর মানুষ। নকিয়া ৫২৩৩ দিয়ে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই কিছু ছবি তুলে ফেললাম।

এই সেই মানুষের জ্যাম। না চাইলেও লাইনে লাইনে হাটতে হবে। বের হওয়ার কি কোন জায়গা আছে? মানুষের জটলা। একটু ঘন জটলা। রাস্তার পাশেই বসে পরা/পড়া। nullঅপেক্ষমান অভিভাবক উদ্বিগ্ন সেই মুখগুলো রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা।

কিছু বাচ্চা কাচ্চা আর বদ্ধ থাকতে চাইল না। তাই তারা লম্ফ ঝম্প শুরু করে দিল।

ঝাপাইয়া পররে বন্ধু ধইরা থাইকো বইসা। একটুর জন্য বেঁচে গেছে। থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে।

শেষ করছি একটি ঘটনা দিয়ে। হঠাৎ দেখি এক মেয়ে তার মাকে জরিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরছে। হাতে পরীক্ষার ব্যাগ এবং আশ পাশের পরিবেশ দেখে বুঝলাম সে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছে। সে কি কান্না। মনে হচ্ছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়ছে তাই বিদায় বেলায় কাঁদছে। কিংবা এই মাত্র তার স্বামী মারা যাওয়ার খবর পেল। দেখে প্রথমে হাসলেও পরে খুব খারাপ লাগলো। কি রকম অসুস্থ প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে যে পরীক্ষা খারাপ হলে এখন এভাবে হাউ মাউ করে কাঁদে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা।

আমরা কি একটি সুস্থ পরিবেশ আশা করতে পারি না?