ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

আমাদের পরিবার থেকে প্রথম কোরবানী দেওয়া হয় ৯৭ সালে। তখন আমরা আজিমপুরে মাত্র আসলাম। এই সময় আমি বুঝতে পারলাম গরু রচনায় পড়া “গরুর সব কিছুই কাজে লাগে” বাক্যটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গরুর মাংস না যত গুরুত্বপূর্ণ তার চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ এটির চামড়া বলেই মনে হতে লাগলো। কারন এই চামড়া নিয়ে মারামারিও করতে দেখলাম।

আজিমপুরে আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে কিছু নির্দিষ্ট লোক আছে যারা প্রতিবছর চামড়ার ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যারাই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাদের ক্ষমতার কখনোই বদল হয় না। তারা সরাসরি কখনোই চামড়া কিনতে যায় না। এর জন্য তারা কিছু লোক ব্যবহার করে যারা আচরনে, বাস্তবে, অবাস্তবে, অভ্যাসে সন্ত্রাসী ছাড়া আর কিছুই না। তারা সরাসরি অস্ত্র নিয়ে নামে এই চামড়া ক্রয় করতে। আমাদের এলাকায় বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকাতে অন্য কাউকে চামড়া নিতে আসতে দিতে এরা নারাজ। তাই কোন মাদ্রাসা থেকে চামড়া নিতে আসলে মার ধর করে বের করে দিতে এরা কুণ্ঠা বোধ করে না। এলাকার অন্য কোন ছেলে মেয়েরাও এই কাজ করার সাহস দেখাতে পারে না।

তারা চামড়া অনেকটাই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যে দাম বলবে তাই দিয়েই নিতে হবে। না বললে চামড়ায় ছুরি দিয়ে কেটে দিবে বলে সরাসরি হুমকি দিতে থাকে। যা খুশি হাতে ধরিয়ে দিয়ে চামড়া নিয়ে চলে যায়।

কেই প্রতিবাদ করতে কি হয়? যেমনটা হয়েছিল আমার বাবার। তাকে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে চামড়া নিয়ে গিয়েছিল। আরেক কুরবানীতে আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হয়। পরে অন্য সবাই মিলে থামানোতে সে যাত্রায় আমার ভাই বেঁচে যায়। ১০ এর কুরবানির ঈদে আমরা সহ অন্য অংশীদারদের থামিয়ে রাখে। প্রায় ঘন্টাখানেক আমাদের মাংস বানাতে দেয়নি।

এভাবে প্রায় প্রতি বছরই তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। তাই এখন আমরা বাইরে কোরবানী দেই। যাতে করে তাদের মুখমুখী হতে না হয়। কারন প্রতি কোরবানীর ঈদেই আমরা আতঙ্কে থাকি না জানি কার কি হবে?

কিন্তু এই ভাবে আর কত? সেই ৯৭ সাল থেকে এলাকার সবাই এই অত্যাচার ভোগ করে আসছি। আমাদের কি মুক্তি নেই? সরকারের কি কিছুই করার নেই?

শেষ প্রশ্ন: দেশে কি আদৌ কোন সরকার আছে?

আতঙ্কে আছি এবার জানি কি হয়?