ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
51_International+Day+of+Persons+with+Disabilities_03122014_12

 

 

[ এই লেখায় “প্রতিবন্ধী” শব্দের পরিবর্তে “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন” ব্যবহার করা হবে। প্রতিবন্ধী শব্দটি নেতিবাচক যেখানে একজন ব্যক্তির সক্ষমতাকে ছোট করা হয়। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয় ব্যক্তির এমন কিছু বিশেষ চাহিদা রয়েছে যা পুরন করলে সে সাধারন মানুষের মত জীবন যাপন করতে পারবে। যেমন একজন শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদা হতে পারে হুইলচেয়ার, ক্রেজ ইত্যাদি। ]

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অবস্থান পূর্বের যে কোন সময়ের চাইতে বেশ ভালো। এর প্রধান কারন হল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন এনজিও, প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার পর থেকেই নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবার তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত চিন্তায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে গণমাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশ। এখানে প্রতিবন্ধীদে সমস্যা, সুযোগ, বঞ্চনা নিয়মিত ভাবে উঠে আসছে। এর ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অবস্থার বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এরপরও প্রকৃত অধিকার থেকে বেশীর ভাগ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুই বঞ্চিত হচ্ছে। এর কারন এখনো বাবা-মার মাঝে সঠিক সচেতনতা আসেনি। বিশেষ করে প্রান্তীয় পর্যায়ে যে বাবা-মা রয়েছে তাদের সচেতনতা শূণ্যের কোঠায়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের মানুষের বিরুপ ধারণাও এই ধরনের শিশুদের অবস্থার পরিবর্তনে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। সরকারী সুযোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বঞ্চনা। সব মিলিয়ে এখনো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সামাজিক ভাবে পূর্ণ পূণর্বাসনে সফলতা আনতে অনেকদূর যেতে হবে। আর আমাদের সব সমস্যা, তাদের সমাধান ও করনীয় নিয়েই আজকের লিখা। এই ধরনের শিশুদের প্রতি নেতিবাচক আচরন শুরু হয় পরিবার থেকেই। দরীদ্র এমনকি আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল অনেক শিক্ষিত বাবা-মাও এই ধরনের শিশুদের সক্ষমতার বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখেন না। অনেক ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতাকে ঋনাত্মক ভাবে দেখা হয়।

একটি শিশুর আগমন নিয়ে আসে সীমাহীন আনন্দ। কিন্তু সেই শিশুর মাঝে যদি সামান্য সমস্যাও দেখা দেয় তা হয়ে দাড়ায় সেই আনন্দের করুন পরিনতি। এর মাথে যদি শিশুর মাঝে এমন সমস্যা দেখা যায় যা ফলে সে আর দশটি শিশু থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে যায় তাহলে সেই পরিবারে নেমে আসে সীমাহীন কষ্ট। আমাদের সমাজে বিশেষ শিশুদের সক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই বলেই আমরা এই কষ্টকে বহুগুন বাড়িয়ে তুলি। প্রথমেই আমরা শিশুকে সমাজ থেকে আড়াল করার মাধ্যমে শুরু করা তার সাথে নেতিবাচক আচরন করা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতিবেশীরাও জানেনা তাদের পাশের বাড়িতে কোন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু রয়েছে। তাকে এই ভাবে আড়াল করার ফলে আমরা শিশুর ক্ষতিকে অনেক কাংশে বাড়িয়ে তুলি। যেমন এর ফলে শিশুর সামাজিক বিকাশে বিঘ্ন ঘটে। তাকে সময় মত বিদ্যালয়ে পাঠানো হয় না বলে শিক্ষা থেকে সে বঞ্চিত হয়। বেশীর ভাগ সময় বাবা-মা এই ধরনে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠান না।

অবহেলা, নেতিবাচক আচরন, এবং বিশেষ করে তাদের সাথে কি ধরনের আচরন করতে হবে তা না জানার ফলে আমরা তাদের সাথে যে ভুল আচরন করি এর ফলে তাদের মাঝে ‘Secondary Disability’ সৃষ্টি হয়। যেমন শিশু আত্মকেন্দ্রিক হয়, সাধারন মানুষের সাথে মিশতে পারেনা, ঘিটঘিটে মেজাজের, আক্রোমনাত্মক ইত্যাদি। তাই শিশুর সমস্যা সনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই তার জন্য Intervention এর ব্যবস্থা করা জরুরী।

বাবা-মা শিশুদের নিয়ে সঠিক সীদ্ধান্ত নিতে না পারার একটি বড় কারন হল বাংলাদেশে এই ধরনের শিশুদের চিহ্নিত করা, তাদের Intervention দেওয়া, শিক্ষা দেওয়া সর্বোপরি তাদের সামাজিক ভাবে পূনর্বাসন করার জন্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। এই সকল শিশুদের নিয়ে সমাজিক সমস্যা অনেক। বাবা-মা বেশীরভাগ সময়ই এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে যান না। কিন্তু যদিওবা সাহস করে তাদের এই ধরনের অনুষ্ঠানে নিয়েও যান, সাধারন মানুষ বেশীর ভাগ সময়ই এদেরকে স্বাভাবিক ভাবে নেন না। তাছাড়া সাধারন মানুষের এই ধরনের শিশুদের দিকে বাকা চোখে তাকানো বাবা-মা কে অনেক বেশী আঘাত করে। এই ধরনের শিশুদের সাথে অনেক সাধারন শিশুর বাবা-মাই চাননা তাদের স্বাভাবিক বাচ্চাটা মিশুক। কিছু বাবা-মা তাদের সন্তানদের রোগের ভয় করেন। আর বেশীরভাগ বাবা-মাই এই ধরনের শিশুদের সাথে থাকলে নিজ সন্তানদের ক্ষতির আশঙ্কা করেন। তাই শিশুদের মিশতে দেন না। এর ফলে সাধারন শিশুদের মনেও এই বিশেষ শিশুদের নিয়ে নেতিবাচক ধারনার জন্ম দেয়। আমাদের দেশে এখনো এই ধরনের শিশু জন্মানোকে পাপের ফসল মনে করে। তাই তাদের লুকিয়ে রাখার ক্ষেতে বাবা-মা নিজেদের মান রক্ষার বেপারটিকে নিয়ে আসে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বেশীরভাগ বিদ্যালয়ই গ্রহণ করতে চায় না। বেশীর ভাগে বিদ্যালয়ই মনে করে এদের বিদ্যালয়ে সুযোগ দিলে বারতি ঝামেলার সৃষ্টি হবে। তাছাড়া শিশুদের সক্ষমতা নিয়ে শংকা থাকে বলে এদের নিতে চায় না। অনেক সময় অন্য শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এমন শিশুদের সাথে তাদের বাচ্চা পড়ালেখা করবে তা মেনে নিতে চান না বলে বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় বিশেষ শিশুদের বের করে দেয়। শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং দৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা কিছুটা সুযোগ পেলেও শ্রবণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও বুদ্ধির বিকাশ জনিত ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের জন্য মূল ধারার বিদ্যালয়গুলো কোন সুযোগই দিতে চায় না। যে সকল শিশুরা বিদ্যালয়ে সুযোগ পায় তাদের বেশীরভাগই আবার ঝড়ে যায়। এর প্রধান কারনই হল বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানেন না তাদের কিভাবে পড়াতে হবে। তাই বিদ্যালয়ে বিশেষ শিশুদের জন্য সুষ্ঠ পরিবেশ থাকে না। যেমন শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য র‍্যমের ব্যবস্থা করা, দৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ব্রেইল পেপারের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। উচ্চ শিক্ষায়ও রয়েছে এই ধরনের শিশুদের জন্য নানা বাধা। বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়গুলোর সংখ্যা এমনিতেই কম যে কারনে সাধারন শিক্ষার্থীরাই সুযোগ পায় না সেখানে এই ধরনের শিক্ষার্থীদের সুযোগ পাওয়াটা আরো কষ্ট সাধ্য। এই বিশেষ শিক্ষার্থীদের জন্য কোটার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু তার আগে তাদের ভর্তি পরীক্ষায় একই নম্বর পেয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের মত পাশ করতে হয়। যা তাদের জন্য অসম প্রতিযোগীতার মত। কারন সাধারন শিক্ষার্থীদের মত সমান দক্ষতা না থাকাতে এমনিতেই এই ধরনের শিশুরা পিছিয়ে থাকে, তার উপর তাদের পরীক্ষা দিতে হয় বিশেষ ব্যবস্থায়। যেমন দৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য Writer লাগে, যে ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিতে গেলে কিছুটা পিছিয়ে পড়তে হয়। আর এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে গেলে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই এমন শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তিপরীক্ষার পাশ নম্বর কমিয়ে দেওয়ার জন্য নানা আন্দোলন অনেক আগে থেকেই চলছে। উচ্চ শিক্ষায় দৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশী। তারা সবাই আবাসিক থেকে অধ্যায়ন করছে। এই হলগুলো প্রতিবন্ধী বান্ধব নয় বলে তাদের এখানে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়।

যে সকল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা বা ন্যুনতম শিক্ষা শেষ করে তাদের চাকরীর ক্ষেত্রে পোহাতে হয় নানা ঝামেলা। বেশীরভাগ শিক্ষার্থীই একটি মান সম্মত চাকরী পায় না তাদের সমস্যাকে বড় করে দেখা হয় বলে। যেমন যে সকল ব্যক্তির দৃষ্টিতে সমস্যা রয়েছে তারা যে জজ সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনায়াসে কম্পিউটার ব্যবহার (টাইপ, ইন্টারনেট ব্যবহার, মেইল রিডিং, মেইল সেন্ডিং, চ্যাটিং,) করতে পারে তা আমাদের বেশীর ভাগ কম্পানীগুলো জানেনা বলে এই চাকরীগুলোতে দৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হয় না। সরকারী চাকরিতেও এই ব্যক্তিদের নানা বঞ্চনার স্বীকার হতে হয়। বিসিএস এ এখনো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুযোগ দেওয়া হয় না। সরকারী চাকুরীতে বিশেষ ব্যবস্থায় এই ধরনের ব্যক্তিদের সুযোগ প্রদান করলে বেসরকারী ব্যক্তিরা এদের চাকুরী দিতে উৎসাহ পাবে।

সরকারী ভাবে বিশেষচাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। “প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন” প্রণয়ন করা হলেও তাতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তদের অধিকারকে কল্যাণের বিষয় দেখা হয়েছে। তাছাড়া এখানে কোন ব্যক্তি অধিকার বঞ্চিত হলে সে কোথায় যাবে, আইনের আশ্রয় নিতে পারবে কিনা তা স্পষ্ট করে বলা নেই। এই আইন নতুন করে “প্রতিবন্ধী অধিকার আইন হিসেবে” হিসেবে করা হচ্ছে যা এখনো খসরা হিসেবে রয়েছে। তবে এখানেও নানা বিষয়ে অসংগতি ধরা পরে। যেমন শিখন প্রতিবন্ধী বিষয়টি এখানো অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। তাছাড়া কোন ব্যক্তি বঞ্চনার স্বীকার হলে সে আনের আশ্রয় নিতে পারবে কিনা তা স্পষ্ট করে বলা নেই। এই আইনে নানা ভুল বর্তমান যা সঠিক লোকদের দিয়ে কাজ না করানোর ফলে হয়েছে। যেমন ঈশারা ভাষা ও ঈশারা ভাষী’র সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এই ভাবে –

ঈশারা ভাষা= ঈশারা ভাষী মানুষ যে ভাষায় কথা বলে।
ঈশারা ভাষী= যারা ঈশারা ভাষায় কথা বলে।

এই দুই সংজ্ঞায় অনেক ভুল বর্তমান। একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল হল ঈশারা ভাষীরা যে ভাষায় কথা বলে তাই ঈশারা ভাষা নয়। কতগুলো হাতের ঈশারাকে ভাষা হয়ে উঠতে হলে মৌখিক ভাষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু শর্তপুরন করতে হয়। তাই কোন বধির বা মুক ঈশারা করলেই তা ঈশারা ভাষা হয়ে উঠে না। এভাবে সরকারী পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে যে পরিকল্পনাগুলো করা হয় বা যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয় তাতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এবঙ এদের নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকে না বলে সবকিছুর মাঝেই অসংগতি এবং সমস্যা রয়ে যায়।

নানা সমস্যার মাঝে যে সমস্যাগুলো প্রকট তাদের মধ্যে অন্যতম হল উপকরনের অভাব। যেমন দেখায় যায় একটু শিশুর পায়ে সমস্যা থাকলেও তাকে ক্রেজ বা স্টিক দিলে সে হাটতে পারবে। কিন্তু এগুলো সব স্থানে সহজলভ্য নয় বলে তার বাবা-মা এগুলো কিনে দিতে পারে না। ফলে শিশুটে বসে বসে বা অন্য ভাবে চলে এবং তার মাঝে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। হুইল চেয়ার শিশুদের জন্য এই সমস্যা প্রকট।
শ্রবণে সমস্যাগ্রস্থ শিশুদের জন্য এই সমস্যা সব চাইতে বেশী। বাংলাদেশে মৃদ ও মধ্যম মাত্রার শ্রবণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা বেশী। তাদের জন্য রয়েছে শ্রবণ যন্ত যা দিয়ে তাদের পক্ষে সাধারন মানুষের মত শুনতে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু শ্রবন যন্ত্র বাংলাদেশে সহজলভ্য নয় এবং এগুলো অনেক দামি বলে অনেক গরীব বাবা-মা এগুলো তাদের সন্তানদের কিনে দিতে পারে না। ফলে শিশুটি সাধারন শিশুদের মত বিকশিত হতে পারে না।

দৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা স্বাভাবিক ভাবে চালিয়ে নিতে প্রয়োজন পরে ব্রেইল বুক, ব্রেইল পেপার, ব্রেইল স্লাইডার, ব্রেইল রাইটার, জজ সফটওয়্যার ইত্যাদির দরকার পরে। কিন্তু বাংলাদেশে এগুলোর রয়েছে মারাত্মক সংকট। তাই বেশীর ভাগ তৃণমূল পর্যায়ের এই ধরনের শিশুরা শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ে।

আগেই বলা হয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনের সংখ্যা নেহায়েতই কম। তাই বেশীর ভাগ বাবা-মাই তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তায় পরে যান কোথায় নিয়ে গেলে তার শিশুর জন্য সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তারাও রয়েছে মারাত্মক আর্থিক সংকটে। এতে করে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

সংক্ষেপে সংকট উত্তরণের উপায় ও আমাদের করণীয়:

১। সরকার বিশেষ শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রচার চালাতে পারে। যেমন করে পলিও নিয়ে করা হয়েছে। এই ভাবে প্রচার করলে মানুষ সচেতন হবে। কমে আসবে শিশুদের প্রতিবন্ধী হওয়া।
২। এই ধরনের শিশুদের সব ধরণের অধিকার নিশ্চিত করতে সকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী আইন দরকার।
৩। সরকারের একার পক্ষে এই ক্ষেত্রে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সরকার বেসরকারী খাতে সহযোগীতা বাড়ালে তাদের পক্ষেও এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশুদের সহযোগীতা করা সম্ভব হবে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে রয়েছে তাদের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরো ভালোভাবে শিশুদের জন্য কাজ করে যেতে পারবে। বিশেষ করে বিশেষ শিক্ষার বিদ্যাষয়গুলোকে বেশী করে আর্থিক সহযোগীতা করা উচিত।
৪। সরকারী ভাবে সহায়ক উপকরণ প্রস্তুত করার ব্যবস্থা করা উচিত। তাছাড়া বেসরকারী ভাবে এই ধরনে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সকার উৎসাহ এ সুবিধা প্রদান করলে সমস্যা উত্তরন অনেকাংশেই সম্ভব হবে।
৫। সরকারী ভাবে বিশেষ শিশুদের জন্য সুবিধা বাড়ালে তাদের পূণর্বাসন সহজ হবে। কোন ব্যক্তি সরকারী চাকুরীতে সফলতা দেখাতে পারলে এটি সব বিশেষ শিশুদের দক্ষতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে অনেক বেশী অবদান রাখতে পারবে। সরকার বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য চাকুরীর খাত নির্ধারন করে দিয়ে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই খাতে বিশেষ ব্যক্তিদের নিতে বাধ্য করলে বা উৎসাহিত করলে বিশেষ ব্যক্তিদের চাকুরীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
৬। প্রতিটে দেশেই সরকারি ভাবে ঈশারা ভাষা প্রণয়ন করতে হয়। বাংলাদেশে এখনো কোন জাতীয় ঈশারা ভাষা নেই বলে এক্ষেত্রে শ্রবণে বিশেষ চাহাদিসম্পন্ন শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই সরাকের উচিৎ দ্রুত ঈশারা ভাষা প্রণয়ন করা।
৭। সরকারি-বেসরকারিও আবাসিক ভবনগুলো প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। তাই এগুলোতে বিশেষ শিশুদের চলাচল মারাত্মক বাধাগ্রস্থ হয়। তাই সরকারের উচিত সব ধরনে ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া।
৮। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে যাতায়াত মাধ্যম ও পথ-ঘাট বিশেষ শিশুদের উপযোগী করা।
৯। উচ্চ শিক্ষায় বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একীভূত শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেশ শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা।

সমস্যা অনেক কিন্তু উত্তরন অসম্ভব নয়। সরকারের সদিচ্ছাই পারে সব সমস্যাকে দূর করে একটি প্রতিবন্ধী বান্ধব সমাজ ও দেশ সৃষ্টি করতে যেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য কল্যাণ নয় তাদের অধিকার দেওয়া হবে, সহমর্মিতা নয় সহযোগীতা করা হবে।