ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

গত বছর ৭ জানুয়ারী ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ নির্মম ভাবে সীমান্তের কাঁটাতার পার হওয়ার সময় ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। মেয়েটির প্রাণ বায়ু বের হয়ে যাওয়ার আগে সে পানি পানি করে চিৎকার করেছে কিন্তু তাকে কেউই পানি দিতে এগিয়ে আসেনি। শেষ পর্যন্ত এক বুক পিপাসা নিয়ে তার আত্মা দেহ ত্যাগ করে।

বিএসএফ এর সীমান্ত হত্যা এটিই প্রথম ছিলো না। এর আগেও নিয়মিত ভাবে তারা গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা করতো। কিন্তু ফেলানীর এই হত্যা পূর্বের সব হত্যাকাণ্ডের বর্বরতাকে হার মানিয়ে যায়।
ফেলানীর এই হত্যা আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে যায় আমরা কতটুকু স্বাধীন। আমাদের স্বাধীনতার অর্থ কতটা নিরর্থক। আমরা প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত বাহিনীর হাতে কতটা অসহায়।

সেই বর্বরতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে সারা দেশ। প্রতিবাদ উঠে সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে। প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে সাধারন ছাত্র-শিক্ষক, আম জনতা। ফলে ভারত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।

এই প্রতিবাদে আমাদের যা লাভ হয়েছে তা হল এখন বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা বন্ধ করেছে।

কিন্তু যা খারাপ হয়েছে তা হল সেই বিএসএফ এখন পাথর ছুরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বাংলাদেশীদের বর্বর ভাবে হত্যা করছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে তারা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে “আত্মরক্ষার জন্য হত্যা’ বলে। যা কিনা রীতি মত মানবতার প্রতি চরম কৌতুক করার নামান্তর।

সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ এর এই বর্বর ও অসভ্য হত্যাকাণ্ড নিয়মিত ভাবেই চলছে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র কোন প্রতিবাদই তাদেরকে এই বর্বর পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারছে না।
এর উপর রয়েছে বিএসএফ এর সীমান্ত সন্ত্রাস। বাংলাদেশি কৃষকদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা। বাংলাদেশের সীমান্তের ভিতর থেকে ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া, মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের সীমান্তের ভিতরে কাটাতারের বেড়া দেওয়ার মত হীন কাজগুলো তারা নিয়মিত ভাবে করে যাচ্ছে যেগুলো বার বার প্রমাণ করতে আমাদের স্বাধীনতা কতটা অরক্ষিত। আমরা কতটা অসহায়। আমাদের সরকার কতটা নতজানু।

এই ভাবে কি চলতে দেওয়া যায়? না এই ভাবে চলতে দেওয়া উচিত?

আসুন আবার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠি। ৭ জানুয়ারী আমরা “”ফেলানী হত্যা দিবস‍‍‌‌‌‌” এবং ”Border Killing Prevention Day” পালন করি। প্রতিবাদ করি আমাদের ভাই-বোনদের হত্যার। সীমান্তে আমাদের স্বাধীনতাকে অপমান করার। আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর।

এই প্রতিবাদ আমরা চাইলে অনলাইনেও করতে পারি। আমরা আমাদের প্রোপিকে ফেলানীর ছবি যুক্ত করে এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে পারি।