ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর এই সময়ের এক আলোচিত বিষয়ের নাম। সোনাদিয়া দ্বীপটি বাংলাদেশের পূর্ব-দক্ষিনে অবস্থিত। এটি ভূমির সাপেক্ষে সর্বগভীর বিন্দু সমৃদ্ধ অঞ্চল। সোনাদিয়া দ্বীপ ঘেঁসে চলে গেছে একটি চ্যানেল। একে ঘিরেই দেখা দিয়েছে গভীর সমূদ্র বন্দর নির্মানের সম্ভাবনা। যাকে নিয়ে চারিদিকে এত হইচই হচ্ছে। হওয়ারই কথা। কারণ অন্যান্য অর্থনৈতিক অবকাঠামো যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মত বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়নও দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধনাত্মক ভূমিকা রাখে।

অনেকেই একমত পোষণ করেছেন যে, সোনাদিয়া গভীর সমূদ্র বন্দর বাংলাদেশের রাজস্ব্য আয়ে ব্যপক ভূমিকা রাখবে। নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক ক্যাপ্টেন একেএম শফিউল্লাহ-এর মতে, সোনাদিয়া গভীর সমূদ্র বন্দর বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য সুযোগ। সোনাদিয়া ছাড়া আর অন্য কোন জায়গা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের জন্য এত সুবিধাজনক নয়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সোনাদিয়া সমূদ্র বন্দর থেকে পাবে সর্বাধিক সুবিধা। আর তাই দেরি না করে এখনই সোনাদিয়া সমূদ্র বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন (বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৩ খৃঃ, দ্যা ডেইলি স্টার)

সোনাদিয়া দ্বীপের পার্শ্ববর্তী সাগর তলের অবস্থা ও ভূ-তাত্ত্বিক গঠন এবং জলবাহী ভারসাম্য প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদৃঢ়। এই এলাকাটি বাংলাদেশের জন্য প্রকৃতির উপহার। এই দূর্লভ উপহারকে কাজে লাগিয়ে গভীর সমূদ্র বন্দর স্থাপন করে বাংলাদেশে উন্নয়ণের নতুন দ্বার উন্মোচন হতে পারে।

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরের প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর ভূমিকা অনেকে অনেক ভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনার বাইরে থেকে গেছে এই ধারনার ধারক জনাব মোঃ খুরশিদ আলম। তিনি বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৮ খৃস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। আমরা তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি। ১৯৭৮ খৃস্টাব্দের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ জিওলজীক্যাল সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত ৪র্থ বার্ষিক কনফারেন্স এর জার্নালে তিনি সোনাদিয়া গভীর সমূদ্র বন্দরের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন- ‘‘মহেশখালী ও সোনাদীয়া দ্বীপের মধ্যবর্তি চ্যানেলে একটি পোতাশ্রয় এবং দ্বীপাঞ্চলে সমূদ্র বন্দর স্থপিত হতে পারে। এই চ্যানেলটি পূর্ব-পশ্চিম বরাবর ধাবমান। যেহেতু সোনাদিয়া দ্বীপটি এই চ্যানেলের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত তাই এই দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় সামুদ্রিক ঢেউ -এর তীব্রতা অপেক্ষাকৃত কম। এই চ্যানেলটি উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে ভূ-খন্ড দ্বারা সুরক্ষিত। তাই এই খানে হতে পারে একটি নিরাপদ পোতাশ্রয় ও গভীর সমূদ্র বন্দর”।

বহুকাল হতে পশ্চিমা দেশগুলোর নিকট প্রোটোগ্রান্ডি ডি ব্যাঙ্গালা বা বাংলার গ্রেটপোর্ট হিসেবে পরিচিত ছিল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম এর ইতিহাস সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যময়। ক্লোডিয়াস পি-টলেমি (খৃঃ ৯০- খৃঃ১৬৮), একজন মিশরিয় ভূগোলবিদ, তাঁর ম্যাপে চট্টগাম (শেটগ্যাঙ্গ) এর উল্লেখ করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম আর প্রোটোগ্রান্ডি নয়। বর্তমান কালে বৃহৎ আকারের সামূদ্রিক নৌ-যান আর চট্টগ্রামে পৌঁছুতে পারে না, বিশেষ করে তেলবাহি ট্যাঙ্কার। তদুপরি কর্ণফুলি নদীতে প্রচুর পরিমানে পলি জমাতে সবসময় সমুদ্রগামী জাহাজসমূহ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় প্রবেশ এবং বহির্গমন করতে পারে না। এই প্রবেশ এবং বহির্গমন জোয়ার ভাটার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতাশ্রয়কে কার্যক্ষম রাখতে প্রচুর পরিমানে ড্রেজিং এর প্রয়োজন হয়। তাই বর্তমানে বিকল্প বন্দর স্থাপনের প্রয়োজন যার সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থান হল সোনাদিয়া-মহেশখালি এলাকা। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞগনের মতে মহেশখালি সোনাদিয়াই সর্বোত্তম স্থান।

একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি, জনাব খুরশিদ আলমের মত আমরাও চাই সোনাদিয়া গভীর সমূদ্র বন্দরের সঠিক বাস্তবায়ন। যা ভূমিকা রাখতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে।