ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

বহুদিন পুর্বে কৈশরে একদিন গ্রামে যাত্রাপালা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে নিজেকে খুবই সাবধানে আড়াল করে রেখেছিলাম কারন এলাকার কোন মুরব্বী বা আত্মীয় দেখে ফেললে কপালে কি আছে তা নাহয় পরে ভাবা যাবে কিন্তু তাৎক্ষনিক লজ্জা হতে বাচা্টাই হবে দায়। আরেকবার স্কুলে সহাঠির একটি গল্পের বই চেয়ে না পেয়ে চুরি করে ধরা খেয়ে মায়ের বকুনি আর মার খাওয়া বাদেও তিনদিন স্কুলে যাইনি শুধু মাত্র লজ্জায়। যদি কোন সহপাঠি মুখের উপর জিজ্ঞেসা করে তুমি নাকি লিটনের বই চুরি করেছ?

এখন অনেকটাই বয়স হয়েছে,নিজের মাঝে এসেছে অনেক দায়িত্ববোধ। কোথাও কেউ কথার মারপ্যাচে আমাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলছে কিনা কিংবা বললে আমার মানষিক অবস্থায় কতটা আঘাত আসতে পারে আশা করি আপনারা সবাই তা উপলদ্ধি করতে পারেন। আমি এখন পিতা,আমাকে আর সবার মত ভয় পেতে হয় নিজের সন্তানের নিকট। সব সময় সতর্ক থাকতে হয় আমার এমন কোন কর্মকান্ড যেন আমার সন্তানের নিকট আমাকে ছোট না করে দেয়।

পেশা হিসাবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ার আগে এই জগতে এর চেয়ে উত্তম আর কোন পেশা আছে কি না এ নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। কিন্তু এ পেশায় এসে এর দায়ীত্ববোধের পরিসিমায় বেশ কিছু যায়গাতে নিজেকে অনেকটাই আরষ্ট মনে হত। আর সবাই যা ইচ্ছা তা করুক আমি তা করতে পারি না।আমার পেশা এবং আমার বিবেক তাকে কখনই সমর্থন করে না। আমি সমাজের ভুল-ভ্রান্তি গুলিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আর সবার মাঝে উন্মেচিত করি অত,এব আমি সেই কাজের কাছেও যেতে পারি না। আমি ইচ্ছা করলেই পতিতালয়ে যেতে পারি না,আমি ইচ্ছা করলেই মদ্যপ হয়ে রাস্তায় মাতলামি করতে পারি না,আমি ইচ্ছা করলেই লাঠি হাতে তথাকথিত রাজনৈতিক দলের কর্মিদের মত মরামারি করতে পারি না।

কিন্তু গতকালের পর হতে আমার এতোদিনের চিন্তা চেতনায় ফাটল ধরেছে,আমার সাংবাদিক সমাজের গতকালের উম্ম্দনৃত্য দেখে এখন যদি আমি বলি আমাদের জন্যও সব কিছুই যায়েজ। কারন আমরা পেশার কারনে সব কিছুর উর্ধে ওঠতে পারিনি আমরা আর সব সাধারন মানুষের মত করেই নিজেদের মাঝে হিংসা,বিদ্বেস,লোভ,লালসা আর চটুকারিতাকেও সমান ভাবে লালিত করে চলেছি। আর এইসবের ক্ষুদ্র প্রকাশ হল গতকালের ঐ ঘটনায়।তাই আজ বলতে ইচ্ছা করছে আমার আর কোন লজ্জা নেই………আর আমার কোন পর্থক্য নেই। আমিও আজ আর সবার মত করেই নিজেকে ভাবতে শুরু করতে হবে !!!!!!

ছবিটি ইন্টারনেটের কল্যানে।
——————-