ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সারা শরীরে রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ তানজিনা আক্তার রেখা (২২)। বাবার কাছ থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় রবিবার রাতে স্বামী কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এই গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পালিয়ে এসে সোমবার সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে স্বামী তাঁকে মেরে ফেলতে পারে_এ আতঙ্ক এখন তাড়া করছে তানজিনাকে।

তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে বাঁচান। আমি বাঁচতে চাই।’

দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তানজিনা তাঁর স্বামী উপজেলার পূর্ব ফতেহবাদ গ্রামের মো. মনিরুল ইসলাম ও দেবর লিটনসহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তানজিনা জানান, বিয়ের দুই বছর পর থেকেই ব্যবসা এবং বিদেশে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত বলেও জানান তিনি।

তানজিনা বলেন, তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে তানজিম (৫) এক মাস ধরে নিখোঁজ। তিনি ধারণা করছেন, তার ওপর নির্যাতন করার বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ায় স্বামীই ছেলেকে গুম
করেছেন। ছেলে জীবিত আছে নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

তানজিনা জানান, সাত দিন আগে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক আনতে মারধর করে তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। প্রতিবেশীরা বিষয়টি জেনে যাওয়ায় রবিবার রাতে তাঁকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তাঁর স্বামী আরো চার মুখোশধারীকে নিয়ে ঘরে ঢোকে। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। তাঁকে মেরে বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিতে সহযোগীদের বলে স্বামী। তাঁকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর গলায় ছুরি চালাতে গেলে তিনি জোরে লাথি মারার চেষ্টা করেন। এতে মুখোশধারী ছিটকে তাঁর ঘুমন্ত মেয়ে তানহা আক্তার মাইশার (৪) গায়ে পড়ে। মাকে মারতে দেখে সে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

তানজিনা আরো জানান, তিনি কয়েকজন প্রতিবেশী ও আত্মীয়র সহায়তায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। তাঁর স্বামী ও সহযোগীরা মোটরসাইকেল নিয়ে খুঁজতে থাকায় তিনি সারা রাত পালিয়ে বেড়ান এবং সোমবার সকাল সাতটার দিকে হাসপাতালে এসে ভর্তি হন।

মেয়ে তানহা জানায়, সে জেগে দেখে কিছু লোক তাঁর মাকে মারছে, ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলেছে। সে একজনের মুখের কাপড় টান দিলে খুলে যায় এবং দেখে ওই ব্যক্তি তার চাচা লিটন।
তানজিনার বাবা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি একদিন কাজ না করলে গোটা পরিবারকে উপোস থাকতে হয়। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্ত্রাসী। তিনি চেষ্টা করলেও মেয়েকে দেখে রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আহত গৃহবধূকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।