ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

দেশের আনাচে কানাচে বখাটেরা যেন বেপরোয়া, ঘরে বাইরে কোথাও যেন নেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা। কোন কোন ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনও নিচ্ছে শক্ত এবং সময়পোযোগী পদক্ষেপ আর এই কারনে অন্তত অন্য বখাটেরা কিছুটা হলেও আইনকে ভয় পাবে বলে আশা করা যায়। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মহেষপুর গ্রামের ১৩ বছরের গোপালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে একই গ্রামের মৃত আঃ কুদ্দুসের ছেলে মাহবুব (২০) ও তার সহযোগী আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ মিঠু (১৮) কে গ্রেফতার করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। মামলা ও সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মহেষপুর (পদুয়ার পাড়) গ্রামের ইস্রাফিল মিয়ার স্কুল পড়ুয়া ১৩ বছরের অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে সেহরির রান্না করতে রাত্র দুইটার দিকে তার উঠানের উনুনের পাশে বসা থাকাবস্থা হতে ধর্ষক মাহবুব ও তার সহযোগী মিঠুর সহায়তায় ঐ মেয়ের মুখ চেপে বাড়ির অদূরে মহেশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনের শ্রেনী কক্ষে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। ঐ সময় মেয়ের চিৎকার চেচামেচিতে আশেপাশের মানুষ সজাগ হয়ে স্কুল ঘরের দিকে ছুটে আসতে থাকে। লোকজন আসার ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ধর্ষক মাহবুব ও তার সহযোগী ধর্ষিতাকে ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন নির্যাতিতা শিশুটির পিতা দেবীদ্বার থানায় অভিযোগ করলে এস আই মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে নির্যাতিতা শিশুটিকে মেডিকেল চেকআপ করানোর জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে এবং অভিযুক্ত দুই আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এ ব্যপারে মেয়ের মা জেসমিন বেগম বলেন আমার নিষ্পাপ ফুলের মত শিশু বাচ্চাটির উপর যারা এই নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই। দেবীদ্বার থানার এস আই মোঃ মোর্শেদ আলম জানান,প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত আসামীদের উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নং-১৪/১৭-০৮-২০১১ইং ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলাটি তদন্তনাধীন।

***
ফিচার ছবি: আন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত