ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

প্রতিটি ঈদকে সামনে রেখে মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের খতেজা বিবি (১৩৮) বেড়িয়ে পড়তেন গ্রামের অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ বাড়ীর দ্বারে দ্বারে ফেৎরা,যাকাত ও পুরোনো একটি কাপড়ের আশায়। পাচ ওয়াক্ত নামাজ ও রোযা রাখা এই বৃদ্ধাকে কেউ খালি হাতে ফেরায় না। আর তাতে ঈদের আনন্দের জন্য নয় ঈদ উপলক্ষে পাওয়া টাকা পয়সা দিয়ে বেশ কিছুদিনের পেটের ক্ষুধা মেটাতে কারো দ্বারস্থ হতো না । কিন্তু এবার থেকে আর কখনও মানুষের কাছে হাত পাততে হবে না এই বৃদ্ধাকে। গত ৫ই আগষ্ট ২০১১ ইং বাংলাদেশ প্রতিদিনের পেছনের পৃষ্ঠায় এবং বিডি ২৪ ব্লগে “বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানবী বাংলাদেশে” শিরোনামে এই বৃদ্ধার জীবনের করুন জীবন যাপন নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। সংবাদ পড়ে মানবিকতার তাড়নায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসে ফোন করে কিছু সহযোগীতা করার আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক নঈম নিজামের নিকট পাঁচ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন এবং ঐ বৃদ্ধাকে ঢাকায় কোন বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আমৃত্যু ব্যায় ভার বহনেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্থানীয় প্রতিনিধি সহিদুল ইসলামের হাতে এই অর্থ তুলে দেওয়ার সময় জনাব নঈম নিজাম ঈদের পর যে কোন সময় একবার এসে বৃদ্ধাকে দেখে যাওয়া এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রান তহবিল থেকে কিছু সহযোগীতা করার ব্যাপারে ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

অন্য দিকে অনলাইন ভিত্তিক ব্লগ-বিডি ২৪ ব্লগের বন্ধু প্রবাসী করিম পাটোয়ারী আমার ব্লগে এই ছবি ও প্রতিবেদনটি পড়ে ফেইস বুক কমিউনিকেশনের মাধ্যমে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে আমৃত্যু ওনার হাতে পৌঁছানোর জন্য ছয় মাসের টাকা এই স্থানীয় প্রতিনিধির নিকট পাঠান। গত কাল দেবীদ্বার প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আতিকুর রহমান বাশার.সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী সহ বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্থানীয় প্রতিনিধি সহিদুল ইসলাম ঐ বৃদ্ধার বাড়ীতে গিয়ে দাতাদের সাত হাজার টাকা দেবীদ্বার প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে কাপড় ও ঈদ তুলে দেওয়া হয়।

টাকা ও উপহার পেয়ে যেন বৃদ্ধা খতেজা বিবির চোখ মুখ ঠিকরে পড়ছিল শুধুই আনন্দ,অভিব্যক্তি হিসাবে স্থানীয় ভাষায় বললেন “জীবনে এত আনন্দ এক লগে কুনু সময় পাইছি না আল্লায় তোমরারে শান্তি করুক”। এ সময় বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগন উপস্থিত ছিলেন তারা ধন্যবাদ জানান পত্রিকা কতৃপক্ষকে এবং বলেন আপনারা যা করেছেন তা আমাদের মাঝে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল তিন শতাংশ জায়গায় ১০ ফুট বাই ছয় ফুট একটি দোচালা ঘরের ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকে রৌদ্র এসে ঘরে পড়ে, বৃষ্টি হলে সব ভিজে যায় আর শীতের রাতে শৈত্য প্রবাহের কষ্ট অসহনীয় তার পরও স্বামীর ভিটা ছেড়ে কোথাও যেতে চাননা তিনি। তবে যদি সম্ভব হয় তবে ঘরটা একটু ঠিক করে দিলে বাকি জীবনটা এখানেই কাটাতে চান চেনা মানুষ আর পরিবেশের মাঝে। হয়ত এই স্যাঁতস্যাঁতে ঘরের সীমাহীন দুর্ভোগের হাত হতে পরিত্রাণ মিলবে আর নাও থাকতে হতে পারে ভেজা বিছানায় এবং শীতে পাবেন উষ্ণ গরম একটি কম্বল,কোন সহৃদয় ব্যাক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান খতেজা বিবির পাশে দাঁড়াবে, মমত্বের মানবিক হাত বাড়াবে বাংলাদেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা নাম না জানা লাখো খতেজা বিবির কাধে, আর তাতে বিজয় হবে মানবতার আর তখনই সফল হবে সংবাদ মাধ্যম গুলির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার।

বাংলাদেশ প্রতিদিন লিংক

***
ফিচার ছবি: বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানবী বাংলাদেশে শীর্ষক পোস্ট থেকে