ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

আমার প্রতিবেশীর বাড়ির সাথে দীর্ঘ দিনের শিতল সম্পর্কে যখন বরফ গলতে শুরু করেছে ঠিক সেই মুহুর্তে আমি যদি তার কাছ হতে বিশাল কিছু পাওয়া না পাওয়ার হিসাব নিয়ে দরকষাকষিতে বসি তবে কতটুকু আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষমতার চেয়ারে অনেকেই বসেছেন,স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত শেখ মুজিবর রহমানের চার বছর এবং বর্তমান সময় বাদ দিলে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল পাচ বছর। সেই পাচ বছরে ফারাক্কা চুক্তি সহ ভারতের সাথে যথাসম্ভব সুসম্পর্কের একটি চেষ্টা করা হয়েছিল যা তৎকালীন ভারতীয় ক্ষমতাসীন দলের আন্তরিকতার অভাবের কারনেই অনেকটা ঝিমিয়ে এগোচ্ছিল । পরবর্তিতে বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলে এই সকল উদ্যেগ রাতের অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। এখন বর্তমান সরকারের সামনে ভারতের সাথে জমে থাকা মান অভিমান ভেঙ্গে একটি যুৎসই সমান্তরাল সুসম্পর্ক তৈরি যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে আমাদের প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও বেশ কিছু বিশেষ ব্যাক্তি বর্গ পাইনি পাইনি বলে এক রকম মাতম শুরু করে দিয়েছেন।

মনমোহন সিং এর সাথে হওয়া চুক্তিগুলোর মধ্যে কোন চুক্তিটিতে ভারত এককভাবে লাভবান হয়েছে এবং কোন চুক্তিটির কারনে বাংলাদেশের স্বার্থ ভুলুণ্ঠিত হয়েছে এই বিষয়টি একটু গভীরে গিয়ে ভাবা প্রয়োজন। ভারতকে আমরা যতই ভয় পাইনা কেন যে তারা আমাদের ঠকানোর পাঁয়তারা করছে এর বিপরিতে বাংলাদেশেকে যে ভারত ভয় পায় না সেটাই বা বলি কি ভাবে। আমাদের সাথে সুসম্পর্ক ভারতের যেমন লাভ ঠিক তেমনি ব্যাবসা বানিজ্য এমনকি সাংস্কৃতির বিশাল একটি বিশাল অংশ জুড়ে বাংলাদেশের একটি বিশাল প্রভাব আছে। আর এই সব বিষয় নিয়ে ভাল ভাবে পর্যালোচনা করলে চতুর্দিক দিয়েই উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষন করেই যে কোন সিদ্ধান্ত নেবে দুটি দেশের নীতিনির্ধারকেরা এটাই স্বাভাবিক।

আর যত কথাই বলা হোক না কেন তিস্তা চুক্তি এ সরকারের আমলে এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই সম্পন্ন হবে বলে আমি মনে করি। এর পিছনে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চাল রয়েছে বলে আপতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। ধরুন এই মুহুর্তে যদি ভারতের সাথে পানি চুক্তি হয় তা বাংলাদেশের মানুষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এত বড় প্রাপ্তির কথা ভুলে যাবে এবং এই চুক্তির ফলে সৃষ্ট সমস্যা গুলিকে বড় করে দেখতে শুরু করবে আর এর স্পষ্ট প্রভাব পড়বে আগামী নির্বচনে। আর যদি চুক্তিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে হয় তবে আ’লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হবে বড় ধরনের একটি ইস্যু। আর ভারতের ট্রানজিটের চুক্তির চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল চুক্তির বাস্তবায়ন,এ ক্ষেত্রে সামনের নির্বচনে আ’লীগের পরাজয় ভেস্তে যাবে সকল পরিকল্পনা। আর তাই আমার মনে হয় দুটি দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মোতাবেকই সব কিছু এগোচ্ছে যা আরো দিনের আলোর পরিস্কার হয়ে যাবে কিছু দিন অপেক্ষা করলেই। অতএব সব কিছু ভেবে চিন্তে বাংলাদেশ ও ভারত সুসম্পর্কের ধারাটিকে অব্যাহত রেখে যেমন একটি উইন-উইন সিচুয়েশন তৈরি করতে চাচ্ছেন অন্য দিকে দুটি দেশেই নিতে চায় একটি অন্তরালের রাজনৈতিক গেইন।

বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিজ থেকে চারায় রুপান্তরিত হয়েছে মাত্র, অতএব চারা গাছে পর্যাপ্ত ফল আশা করা বোকামি নয় কি ?