ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

০১.
ছোট বেলায় বিকেল হলেই নিয়মিত রুটিন করে বাড়ির পাশের নদীটির পাড়ে বসে সময় কাটানো একটি অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল। নদীর পারে বসে দুর দুরান্ত থেকে আসা পাল তোলা কিংবা গুন টেনে নিয়ে যাওয়া পণ্য বোঝাই নৌকা গুলি দেখতে পেলে চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত চেয়ে থাকতাম। সেই ছোট বেলা থেকেই ছড়া/কবিতা লেখার বৃথা চেষ্টা করে কত যে কাগজ আর কলমের কালি নষ্ট করেছি তা ভাবলে এখন আনমনেই হাসি আসে। একবার একটি কবিতার মত কিছু একটা লিখে নিজেই বিচার বিশ্লেষন করে অসাধারন আখ্যা দিয়ে কবিতাটি যে করেই হোক ছাপানোর অসাধ্য সাধনে তৎপর হতে গিয়ে অবশেষে চোর সাবস্থ্য হয়েই এর যথার্থ পুরস্কার পেলাম। এখনও সেই নদীর পাড়ে গিয়ে মাঝে মাঝে বসি পালতোলা কোন নৌকা আসবে সেই প্রত্যাশায় নয়,শহরের ধুলাবালী আর কোলাহল থেকে কিছুটা সময় প্রশান্তির মুক্ত হাওয়া বুক ভরে নেবো বলে মানুষের ভির থেকে পালিয়ে শীর্ণকার মৃত প্রায় এই নদীটির কাছে একটু আশ্রয়ের জন্য।

০২.
সময়ের বিবর্তনে দিনকে দিন প্রযুক্তির আশির্বাদে আমাদের ধ্যান ধারনা এবং মত প্রকাশের ধরন-ধারন সব কিছুই পাল্টে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে আমাদের দেশের মুসলমান মাত্রই প্রতিটি নাগরিক এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ঐ প্রতিবাদে আর সবার সাথে যুবক শ্রেণীর লম্বা চুলওয়ালা যাদের তখন আমরা আধুনিকতার ধারক বাহক হিসাবে চিনতাম তাদের অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মত। কারন তখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অন্তত এই বঙ্গদেশে প্রকট হয়ে ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করা এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিষয়টি ছিল অনেকটাই সাধারনের বোঝার বাইরে। যারা ধর্ম নিয়ে কথা বলতেন তারা ছিলেন আমাদের পুর্ব পুরুষদের মত আমাদের কাছেও সমান পুজনিয়। কিন্তু আজকের এই দিনে আস্তে আস্তে করে সুকৌশলে ধর্মকে পুজি করে একটি গোষ্ঠি এর অপব্যখ্যা করে ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার লেলুপতায় অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সেই ধর্মের প্রতি আনুগত্য কমাতে সাহায্যই শুধু নয় সাথে কোন কোন ক্ষেত্রে আস্তিক থেকে নাস্তিক পর্যন্ত বানিয়ে দিচ্ছে।

০৩.
কিছু জানবো,কিছু বুঝবো,কিছু শিখব এবং কিছু সম্ভব হলে লিখবো ঠিক এই রকম একটি প্রত্যয় নিয়েই বহু পথ ঘুরে ফিরে অবশেষে আসলাম অন্তর্জালের বৃহত এই পরিমন্ডলে। যে কোন বিষয়ই জানতে হলে বুঝতে হলে কিছুটা সময় দিতে হয় স্বাভাবিক নিয়মেই। আর এই সময়ের দেওয়া নেওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ করে নয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম,আমার ছোটবেলার মানুষ্য দস্যুদের অমানবিকতার কাছে দখল হয়ে যাওয়া সেই নদীটির মতই প্রতিটি যায়গাতেই ভুমিদস্যুদের মত কিছু অমানুষ আমাদের চারপাশে ছায়ার মত নিবিরে ঘুনো পোকার ন্যায় ঝাজরা করে তুলছে আমাদের মুক্ত চিন্তার সবুজ নদীটিও। ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করে ওঠে, আমরা কি কখনও আমাদের অস্তিত্ব বিলিন করার এই বেশ্যাবৃত্তি দেখে নিজেই নিজেকে আয়নায় দেখে মুখ লোকানোর বৃথা চেষ্টায় লজ্জায় লজ্জিত হওয়ার থেকে বাচতে পারছি ? হয়ত আমারা এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়ে আগামি কালকের আর একটি ভোরের আলোর অপেক্ষায় মুখ ধুয়ে লজ্জাকে পাতালা রেশমী ঝলমলে আবরনে আড়াল করে নেওয়ায় অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। আর কেউ জানুক আর নাইবা জানুক/আসুক আর নাইবা আসুক আমাকে যে সামনে এগিয়ে যেতে হবে,আমাকেই যে হতে হবে এই নির্লজ্জতার দৌড়ে প্রথম ।

০৪.
শরৎ কালের এক বিকালে নদী পাড়ে বসে শুভ্র সাদা কাশবনের কাশের দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে থেকে আনমনে ভাবছি,এত সুন্দর সৃষ্টি প্রভু শুধু আমাদের নয়ন জুড়াতে কত নিপুন ভাবেই না তৈরি করেছেন। আমার মত আরো কত মানুষের চোখের প্রশান্তির কারন হতে দেখে বলতে বাধ্য হলাম ধন্য তোমার জন্ম হে কাশবনের সাদা সৌন্দর্য। কয়েকদিন পরের ঘটনা হঠাৎ একদিন সকালে শুনি সেই কাশবনের কাছে হাজার মানুষের ভির,উৎসুক মনের জ্বালা মেটাতে গিয়ে যা দেখলাম তাতে কাশবন নিয়ে মনের অজান্তে অলিখিত সকল কবিতা নিমিষেই গদ্যে রূপান্তরিত হতে সময় লাগেনি একটুও। কিছু দুষ্ট লোকের অপকর্মের স্বীকার হওয়া এক যুবতীর প্রণহীন দেহ লুকানোর নিরাপদ জায়গা হিসাবে এই কাশবনকে বেছে নেওয়ার ঘৃন্য উদ্দেগকে দেখে সুন্দরের মাঝেই অসুন্দর লোকানোর এই প্রচেষ্টা শুধুইকি ওই কাশবনে সিমাবদ্ধ ? প্রত্যহীক জীবনের চলার পথে যেদিকে তাকাই সেদিকেই চোখে পরে সুন্দরের মাঝে বিকৃত অসুন্দর্য খুজে নেওয়ার মানষিকতা যেন বংশ পরম্পরায় নিবির ভাবেই আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে একাকার। আর এর ঘৃন্য সুযোগ হাতছারা করতে রাজি নন আমাদের নেতা নেত্রী,ধর্ম ব্যবসায়ী,বুদ্ধি বাজারের দোকানদার হতে ফুটপাতের ক্ষুদ্র হকারও।

০৫.
ক্ষমতার অন্ধত্ব আর লোভের কাছে আমজনতাকে পণ্য করে,নিজেকে হাসির পাত্র আর মুর্খতার শির্ষে নিয়ে সেই রাজার অবাক পোষাক পড়ে নিজে আহ্লাদিত হওয়ার এই কমেডি হয়তো আমাদের আরো বেশ কিছুদিন দেখতেই হবে। সাইড লাইনে বসে পঙ্গু বালকের ফুটবল ম্যাচের দৃশ্য দেখার সাথে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা কথার ফুলঝুড়ি শুনে নিজেদের প্রতিবন্ধি ভাবা ছাড়া আর কিইবা ভাবতে পারি আমরা। কেউ আল্লাহ রাসুলের দিব্যি আবার কারো ধর্ম গেলো-ধর্ম গেলোর তসবিহ জপা কিংবা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কাছে না ঘেষে নিন্দে করেই পার পাওয়ার চেষ্টা এই কোষ্ঠ কাঠিন্যের বদহজমি যেন আরো একধাপ বাড়িয়েই দিচ্ছে। বুদ্ধিজিবির বুদ্ধি বাজারে আর সব কিছুর মতই উর্দ্ধ গতির পাগলা ঘোড়ার পদতলে পৃষ্ট আম জনতার হাপিত্যেষ করা উপুর টান শেষ মুহুর্তের অপেক্ষায় মাত্র। তার পরও রাত আসে,চাঁদও দেখা যায়,মাঝে পূর্নিমার আধো আলোয় আর আমবশ্যার নিরেট অন্ধকারে হাতরে পা টিপে টিপে এগিয়ে চলছি,হয়ত একদিন সব কিছুরই শেষ হবে,শেষ হতেই হবে কারন শুরু হলেই যে শেষ করতে হয়।

০০.
বাঙ্গালী বলে কথা যেন কই মাছের প্রান,কি হবে এতা ভেবে বাদ দাও খুব ভোরে ওঠতে হবে ঘুমাওতো এখন……….।