ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বছর ঘুরে আবার আমাদের সবার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা ( কোরবানি ঈদ )।

নাড়ির টানে ঘরে ফেরার শত ঝাক্কি ঝামেলা জয় করে ইতি মধ্যে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে যার যার কর্মস্থল ত্যাগ করে ইতি মধ্যে সবাই তাদের পরিবারের আপনজনদের সাথে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ফিরছেন সবার গন্তব্যে।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ুক এটা প্রতিটি বাঙ্গালী মানেই সকল মুসলিমদের মনের কথা হলেও অনেক সময় এর ব্যত্যয় ঘটে না এমনটি নয়। আর তাই ঐ সব অভাবি মুখগুলি আমাদের আনন্দের সাথে সমভাগে ভাগ করে দিতে যেন ভুল না হয় সে দিকে সবারই খেয়াল থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।

কিছু সস্তা উপদেশঃ-
(১) পশু জবাইকালীন সময়ে আপনার বাচ্চাদের যতটা সম্ভব দুরে রাখুন। অনেক সময় শখ করে আর সবার সাথে গরু চেপে ধরার ক্ষেত্রে শিশুদের সোহাগ করে ডেকে এনে হঠাৎ গরু ওঠে দাড়ালে বা পা ছোড়াছুরির কারনে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আবার হঠাৎ করে পশুর জবাই করা ভিবৎস অবস্থা দেখে তাদের কোমল হৃদয়ে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব।

(২) পশু জবাই থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ছুড়ি,দা,টাকশাল.চাপাতি এই সব অত্যান্ত প্রয়োজনিয়। কিন্তু এ সব জিনিষের ধারাবাহিক ব্যাবহারে আমাদের অনভ্যস্থতার কারনে সাধারন হাত,আঙ্গুল বা শরিরের কোন কোন যায়গায় আঘাত থেকে কোন কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সব দিকে সাবধানতার পাশাপাশি হাতের কাছে ওয়ান টাইম ব্যন্ডেজ,ডেটল তুলা এবং হাড্ডি কোপানোর সময় চোখে সানগ্লাস চোখে থাকলে অনাকাংখিত হাড্ডির গুড়া পড়া থেকে আপনার মুল্যবান চোখের নিরাপত্তা দিতে পারেন অনেকটাই।

(৩) দেশের চামরার প্রয়োজনের ৮০ ভাগ এই কোরবানি ঈদে জবাই করা পশু থেকে আহরিত হয়।কিন্তু আমাদের অসচেতনতা এবং অদক্ষ হাতে চামরা ছড়ানোর কারনে প্রায় ২০ ভাগ চামরা নষ্ট হয়ে যায়। অত এব দেশের এই মুল্যবান সম্পদ সঠিক যথাযথ ভাবে পশু হতে ছাড়ানোর ক্ষেত্রে সাবধানতার পাশাপাশি মোটামুটি দক্ষ (কসাই হলে ভালো হয়) লোকদের দ্বারা এই কাজ করানো উচিৎ।

(৪) চামরার বিক্রিত অর্থ একমাত্র গরিব দুখি এবং মাদ্রাসার এতিমখানার অবহেলিত শিশুদের আপনার কাছে প্রাপ্য আমানত। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বজন প্রিতি বা চোখ লজ্জার কারনে উচিৎ মুল্যের কমে বিক্রি করা আপনার উপর ন্যস্ত আমানতের খেয়ানত,আর তাই এই দিকটিতে যথেষ্ট খেয়াল রাখুন।

(৫) অনেকের ক্ষেত্রে গরুর মাংশের উপর ডাক্তারের নিষেধাগ্গা থাকলেও কোরবানির গরুর মাংশ একটু খেলে কিছু হয়না এমন একটি কথা প্রচলিত আছে। কোরবানি হোক আর যাই হোক যার জন্য যা নিষদ্ধ তা সব সময়ই নিষিদ্ধ। আর যাদের শরিরে মেদের আধিক্য প্রতিলক্ষনিয় তাদের চর্বিযুক্ত মাংশ মাত্রারিক্ত ভক্ষন সমুহ বিপদের সম্ভবনা বাড়িয়ে দিবে তাই সতর্ক থাকুন।

পরিশেষে সবার ঈদ হোক আনন্দময় এবং সাবলিল পুন্যময় নিরাপদ।

ছবি-অন্তর্জাল