ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

কিছুদিন পূর্বে মায়ের অসুস্থতার কারনে ঢাকায় এসে যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদপুরে যাওয়ার জন্য সিএনজির ভাড়া তিনশত টাকা চাওয়ার সাথে সাথে কিছুটা র্তক বির্তকে জড়িয়ে পড়লাম সি এন জি চালকের সাথে। ড্রাইভারের একই যুক্তি সিএনজির দাম বেড়েছে আর তাই এই ভাড়ার নিচে গেলে তার পুষবে না। উপায়ন্ত না দেখে শেষ র্পযন্ত ওঠে বসলাম। ড্রাইভার এক র্পযায়ে একটু নরম সুরেই জানাল একটি সিএনজি প্রতিদিন দুইজন ড্রাইভার পালা করে চালাতে গিয়ে সকাল ৭ টা থেকে দুপুর দুইটা র্পযন্ত মালিকের ৫০০ টাকা জমা এবং তার সাথে উর্দ্ধ মুল্যে গ্যাস ক্রয় সাথে যায়গায় যায়গায় চাঁদা প্রদান করে শেষ র্পযন্ত দুই হতে তিনশত টাকা নিয়ে বাসায় ফেরা খুবই কঠিন হয়ে পরে। রাস্তার বেহাল দশার করনে নষ্ট গড়ী মেরামত করতে গিয়ে এবং পুলিশ ও চাঁদাবাজদের ম্যানেজ (ছিনতাই কারীদের হাত হতে গাড়ী রক্ষার জন্য) মালিকও খুব বেশী লাভবান নয়।

যাই হোক আজকের এই লেখা সিএনজি ড্রাইভারদের দু:খ-দুর্দশা নিয়ে নয়। আজকের টিভি সংবাদে আমাদের মানণীয় অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আধা বাংলা আধা ইংরেজিতে যা বললেন তার মর্ম কথা হল খুব শীঘ্রই সিএনজির দাম আরেক দফা বাড়তে যাচ্ছে। সিএনজির বর্তমান সুযোগ সুবিধা মধ্যবিত্ত পাচ্ছেনা এবং যা পাচ্ছে তা সবই এক শ্রেণীর মধ্যসত্বভোগীরাই পাচ্ছে।

এখন সিএনজির মুল্য বৃদ্ধির পর ঢাকায় আবার যখন আমি আসবো তখন যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদপুর যেত চাইলে আমার ভাড়া কত গুনতে হবে। এখন নতুন করে যে বাড়তি টাকাটি আমার পকেট থেকে যাবে সেটাকি কোন মধ্যবিত্তের পকেট হতে নয় নাকি উচ্চ বিত্তের। নাকি আমরা এই সব মানুষগুলিই মানণীয় অর্থ মন্ত্রীর চোখে মধ্যসত্বভোগী!

এ তো গেলো বিত্ত সমাচার। এখন সরকারর শেষ মুহুর্তে এসে সাধারন জনগনকে যেখানে আস্থায় আনার চেষ্টা করবে সরকার সেখানে এই মন্ত্রীদের কান্ড কারখানা দেখে মনে হয় যেন আগামী টার্মেও জনগন চাক আর নাইবা চাক উনারা আবারও ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করে ফেলেছেন নয়তো বুঝে ফেলেছেন আর যাই হোক আবার ক্ষমতায় ফিরে আসা ওনাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের কর্ম কৌশল দেখে সন্দেহ হয়,নাকি কিছু ব্যাক্তি মানণীয় প্রধান মন্ত্রীর ছায়তলে থেকে (সর্ষের ভিতর ভুত হয়ে) বিদেশী প্রভুদের নির্দশনা মত আগামী নাটকের প্লট তৈরি করছেন। আসলেই কি সরকারের ভাবমুর্তি উজ্জল এবং জনগনের নুন্যতম নাগরিক সুবিধাধি প্রদান করতে তারা সদা ব্যাস্ত কি না এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সতর্ক দৃষ্টি আছে কি?

তবে খুব শীঘ্রই এই ঘোষনাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে শোনার পর যা যা দেখতে পাব বলে আশা করা যাচ্ছে তা হল-বিরোধী দলের হাতে আর একটি ইস্যু,ড্রাইভার হেলপার ও যাত্রীর মাঝে বচসা তার সাথে বোনাস হিসাবে কয়েকদিনের সিএজি চালিত যানবাহনের পরিবহন ধর্মঘটও পেয়ে যেতে পারি। পরিশেষে আবার আমার পকেট হতে বাড়তি টাকা দিতে গিয়ে সরকারের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে একদিন আবার সব সহনীয় হয়ে যাওয়া। এ ভাবেই চলবে………চলছে তো…….।