ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

ফেসবুকে একটি লিংকের শিরোনাম দেখে চোখ আটকে গেলো। পেজটি ওপেন করে পড়ে দেখলাম এবং নিজের কাছেই নিজে প্রশ্ন ছুড়লাম-আমরা জাতি হিসাবে অন্তর্জালের এতো উত্থানের পথ পরিক্রমায় আমাদের চিন্তা চেতনা কতটা উন্নত করতে পেরেছি।

নাগরিক ব্লগ নামের ঐ ব্লগটিতে একজন ব্লগার বিডিনিউজের পাঁচ বছরপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর দেওয়া বক্তব্যটির সমালোচনা করে লেখাটির শিরোনাম- ব্লগ ও ফেইসবুক নিয়ন্ত্রনে বিডিনিউজের দালালী লেখাটি পড়ে মর্মহত হওয়া ছাড়া আর কি হওয়া যায়? তখন প্রশ্ন হয়ে সামনে কি নিচের কথা গুলির উত্তর খোঁজা আমাদের একান্তই জরুরী নয়।

ব্লগ কি ? ব্লগের মাধ্যমে কি করা যায় ? এমনি আরো অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হলে অনেকেই এক কথায় উত্তর দিবে ব্লগ হল মুক্তমঞ্চ।এখন মুক্ত মঞ্চ মানে কি যা ইচ্ছা তাই বলবো ? যা ইচ্ছা তাই করবো ? ব্যক্তিগত আক্রোশকে চারিতার্থ করার জন্য বেছে নেব ব্লগের মুক্ত জমিনকে ? কুরুচি সম্পন্ন কটাক্ষ,গালাগাল,অযৌক্তিক ভাবে কাউকে আক্রমন কিংবা স্বদেশ প্রেম,মুক্তি যুদ্ধ,সার্ভভৌমত্ব রাষ্ট্রযন্ত্রকে অযৌক্তিক ভাবে সমালোচিত করার পাশাপাশি ধর্মিয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশিল পরিবেশ তৈরি করা জঙ্গী তৎপরতায় বাতাস দেওয়াসহ নিজস্ব কুরুচি সম্পন্ন ব্যক্তি মত প্রকাশের জন্য এর ব্যবহার কতটা যুক্তি সঙ্গত তা প্রতিটি বিবেকবান মানুষ মাত্রই উপলদ্ধি করার সাধারন গ্যান আছে বলে মনে করি।

উপরের কথা গুলির উপর গুরাত্বারোপ করেই মুলত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেছেন-

মুক্ত মত প্রকাশের প্রসঙ্গ ধরে ব্লগিংয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সবিনয়ে বলতে চাই, মত প্রকাশের নামে যা ইচ্ছা তাই প্রকাশের আমি বিরোধিতা করি। মত প্রকাশ করতে হবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে। আর তা প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া জরুরি।”

তিনি আরো বলেন-

“এটা এক ধরনের অপরাধ, আর এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সরকারকে অবশ্যই নতুন আইন করতে হবে। স¤প্রতি শীর্ষ পর্যায়ের এক রাজনীতিকও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তার সঙ্গে আমি একমত, আর এত দিন ধরে তা না করার দায় রাজনীতিক হিসেবে তারও স্বীকার করতে হবে,” বলেন তিনি।

উপরের কথা এবং পরামর্শের সাথে একমত না হওয়ার কোন যুক্তি সঙ্গত কারন অন্তত আমি দৃশ্যত দেখতেতো পারছি না -ই সাথে উপলদ্ধি করছি জনাব তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সময়োপোযোগী নীতিমালা প্রনয়নের আবিশ্যকতা। এর সাথে প্রতিটি ব্লগার লেখক এবং পাঠকের কন্ঠ রোধের পরিবর্তে সৃজনশীল সমালোচনা,অভিব্যক্তি ও পরামর্শদানের ধ্যান ধারনায় আমাদেরকে চলমান বিশ্বের গতিশিল ধারায় করবে আরো সমৃদ্ধশালী। মনে রাখতে হবে প্রতিটি মানুষের প্রথমত পারিবারিক ও পরে সামাজিক/এলাকা ভিত্তক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় পরিচয় তার নিজের কাছ থেকেই উপাস্থাপিত হয়। বাংলা একটি প্রবাদ আছে – ব্যবহারেই বংশের পরিচয় আর তাই উরোণ্ণিখিত বিষয় গুলির কারনে আপনার নিজস্ব ভ্রন্ত চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ শুধু ব্যক্তিকেই প্রশ্ন বিদ্ধ করে না সাথে সে নিজেকে ছোট করার পাশাপাশি দেশ বিদেশে নিজ দেশকেও ছোট করা হয়। আর এই সব কিছু বিবেচনা করে সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন যৌক্তিক নিতিমালা তবে সাথে এটাও মাথায় রাখতে হবে ব্লগ খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে শুধু মাত্র মানুষ তার ফিডব্যাক-স্বধীন মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাওয়ার কারনেই। এমন কোন নিতিমালা অবশ্যই গ্রহনযোগ্যতা পাবে না যেখানে আইনের জালের বেড়াজালে বাক স্বাধীনতার এই প্লাটফর্ম থেকে সচেতন মানুষ গুলি মুখ ফিরিয়ে না নেয়।

পরিশেষে বলতে চাই প্রতিটি সচেতন মানুষের প্রনের কথা বলার সবুজ জমিনকে যারা তাদের নগ্নতার ছোবলে ক্ষত বিক্ষত করতে চায় তাদের মুখে বালি দিয়ে ব্লগহোম প্রতিটি মানুষের সুস্থ চিন্তাধারার সবুজ জমিন।