ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এক গ্রামে এক লোক নিজেকে বিরাট বুদ্ধিমান মনে করত,কিন্তু গ্রামের আবাল বৃদ্ধা-বনিতা সবাই তাকে বোকা এবং মানষিক ভারসাম্যহীন হিসাবে আখ্যায়িত করত। তো একদিন গ্রামের চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে সেই বোকা লোকের দেখা তখন চেয়ারম্যান তাকে একটি টাকা দিয়ে বলল যা কিছু কিনে খা। সে তো মহা বুদ্ধিমান ! তো এক টাকা দিয়ে সে এমন কিছু কিনবে যা বিরাট মস্ত কিছু। কিন্তু কি কিনবে সেই ভাবনা ভাবতে ভাবতে সকাল গড়িয়ে দুপুর যায় যায় অবস্থা। শেষ পর্যন্ত ভাবলো ধুর ছাই আগে বাজারে যাই এবং যেতে যেতে পথে কাউকে প্রশ্ন করে নেওয়া যেতে পারে এই ভেবে বাজারের পথে হাটতে লাগলো। পথি মধ্যে এক লোকের কাছে জানতে চাইলো এক টাকায় কি কেনা যায় যা অনেক বিশাল অথবা বড় কিছু করা যায় পথিক তাকে পাগল বলে ধুর ছাই করে দেওয়ায় সে ভাবলো না আর কা্রো কাছে কিছু না বলে বরং বাজারে গিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে যা করার। বাজারে গিয়ে অনেক ঘুরা ঘুরি করেও একটাকায় বড় মাপের কিছু কেনা যায় এমন কোন বস্ত না পেয়ে একটি পান বিড়র দোকানের সামনে দাড়িয়ে দেখলো এক লোক একটি সিগেরেট কিনলো এবং দোকানির কাছ হতে ম্যাচ চেয়ে নিয়ে সিগারেটটি ধরিয়ে চলে গেল॥ তাৎক্ষনিক সে তার পকেট থেকে একটি টাকা বের করে দিয়ে দোকানিকে বলল একটি ম্যাচ দিতে,ম্যাচ পাওয়ার পর লোকটি দোকানিকে বলল একটি ম্যাচের ফাও কাঠি দেওয়ার জন্য দোকানি কথা না বাড়িয়ে একটি কাঠি দিল। লোকটি ম্যাচ এবং সাথে পাওয়া ফাও কাঠিটা পকেটে পুরে বাড়ির পথে হাটতে শুরু করল। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই গ্রমের মুখে দেখলো বেশ কিছু খরের গাদা সারি করে দাড়িয়ে আছে। পকেট থেকে ম্যাচ বাহির করল এবং ফাও ম্যাচের কাঠিটা ধরিয়ে আগুন লাগিয়ে দিল খরের গাদায় আর যায় কোথায় উত্তরিয় বাতাস সে আগুন এক গাদা হতে অন্য গাদা এবং আশেপাশের বাড়িঘর ছড়িয়ে গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে আগুন ধরে গেল। অন্য দিকে সেই বোকা (অতি বুদ্ধিমান) লোকটি মাঠে বসে মজা দেখছে আর বলছে ফাওটারই এই দশা আসলটা ধরালে কি হত ?

শেষ মেষে চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ গেল এই অকাজটি ঐ পাগল মানে মহাবুদ্ধিমান বোকা লোকটি করেছে। অত এব তাকে ধরে চেয়ারম্যনের সামনে হাজির করা হল এবং সব শুনে চেয়ারম্যন বললেন একটি ফাও কাঠি দিয়েই সে অর্ধেক গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে সে যদি ম্যাচের সব কাঠি দিয়ে একে একে আগুন দিতে থাকে তবে তো পুরো দেশ জ্বালিয়ে দিবে অত এব এখন থেকে তাকে শিকল দিয়ে বেধে রাখাই হবে বুদ্ধি মানের কাজ।

এতো বড় একটা গণ্প ফাঁদার কারনে অনেকেই হয়ত আমার উপর বিরক্ত হতে পারেন। কিন্তু গল্পটি বলার পেছনে একটি কারন আছে,আর কারনটি হল ইদানিং কালের বেশ কিছু ঘটনা বিশ্লেষন করলে অনেকেই আমার এই গল্পটির সাথে অনেক মিল খুজে পাবেন। গত ২১শে ডিসেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় একটি খবরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে সারা দেশে সহিংসতা সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করে বলেছেন,

সরকার গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার স্বার্থে সহনশীলতা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত শক্তির সহায়তায় সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

কিন্তু মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এই ধৈর্য ধরার সুযোগ না শেষ পর্যন্ত সেই পাগলের ফাও কাঠি জ্বালিয়ে মজা দেখা কুচক্রি মহলের আসল বক্স থেকে সকল কাঠি জ্বলিয়ে দেওয়া হয়ে ওঠে। গনতন্ত্রের ধারবাহিকতা রক্ষা যদি দুস্কৃতিকারিদের অবিরাম সহিংসতা করার জন্য কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা হয়ে দাড়ায় তবে এ গনতন্ত্রের মুল্য এবং গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি থাকার অগ্রহনযোগ্যতা আছে কি ? গনতন্ত্র মানে অবাধ মিথ্যাচার,সাধারন জনগনের চোখে ধুলো দিয়ে ফায়দা লোটা এবং আম জনতাকে পুজি করে উপরে ওঠার সিড়ি তৈরি করা হলে জনগনের কাছে এই স্ব-সুবিধায় রচিত গনতন্ত্র নিয়ে জনগনকে আবার নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দেয় না কি?

যে যার অবস্থান থেকে যা বলবেন তাকে সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার এই অসম প্রতিযোগিতা আমাদের শুধু বিভ্রান্তই নয় সাথে হতাশ করে আপনাদের তথাকথিত গনতান্ত্রীক যাতাকলে পিষ্ট মানুষ গুলির হাহাকার আপনাদের কানে পৌছাতে হলে আমাদের কি শেষ পর্যন্ত পথে নেমেই আসতে হবে নাকি এটাকে আমাদের নিয়তি হিসাবেই ভাবতে বাধ্য করবেন!

আমি ঢাকার পথে হাটতে হাটতে যখন তখন ককটেল,গুলি কিংবা যে কোন সহিংসতায় প্রান হারাবো আর আমাকে দেখতে আসা আমার বৃদ্ধ পিতা বাড়ি থেকে বয়ে আনা খেজুরের রসের হাড়ি সমেত খুব কাছে এসেও শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌছার আগেই ঢাকার রাজপথে অতর্কিত সহিংসতায় দ্গ্ধ হওয়া দেখে গনতন্ত্রের স্বার্থে ধৈর্য় দেখানো কতটা যুক্তি সঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলা কি খুব বেশী অপরাধ। বাড়ি থেকে কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে আমার ভাই,বাবা বন্ধুকে কে বা করা হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিল সে নিয়ে কোন তদন্ত পুর্বক সঠিক তথ্য জানাতে চাওয়া কিংবা পাওয়ার অধিকার গনতান্ত্রীক অধিকারের মধ্যে পড়ে তবে কেনো আমরা কোন করনে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবো তার উত্তর আপনি কি দিবেন ?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার দ্বার প্রান্তে এসে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে যে কোন ধরনের প্রতিঘাত আসতেই পারে,আর এ জন্য আপনার সরকারের প্রস্তুতি কতটা শক্ত তা নিয়ে এখন জনগনের ভাবনা চিন্তার যথেষ্ট করান হয়ে দাড়িয়েছে। কারন প্রতিপক্ষ আপনাদেরকে যথেষ্ট সংকেত (যদিও আমার কাছে পাগলের ফাও কাঠি জালাবার মত মনে হচ্ছে) দিয়ে দিয়েছ এখন আপনারা এ ব্যপারে পাগলের পায়ে শিকল না দিতে পেরে যদি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে থাকেন তবে আপনাদের এই বিচারের পক্ষের জন সমর্থন দিনকে দিন কমবে বৈ বাড়বে না। আর তাই আর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা না করে এখনই জনগনের জনমর্থন ধরে রাখতে আগে তাদের আস্থার পরিবেশ তৈরি করার দিকে নজর দিতে হবে। আমরা সাধারন যারা এখনও এই বাংলাদেশের মুক্ত হাওয়া প্রান ভরে নিচ্ছি তাদের বাচিয়ে রাখা প্রথম কাজ আর তার পরই ঋন শোধের প্রশ্ন।

আগে বাচার পরিবেশ থাকতে হবে নিরাপদ আর তার পরই আসবে আমার দায়ীত্ব ও কর্তব্য। সেই বাচার জন্য সুস্থ পরিবেশ তৈরির পথে কতটা শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছন আপনারা সেই নিশ্চয়তার পরই দেখবেন আপনার পাশে জনসমর্থনের অভাব নেই। আর নয়তো জনসমর্থনতো দুরের কথা শেষ পর্যন্ত এই জনতার ঘৃনার পালকিতে চড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে।