ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কিছুদিন পুর্বে আট বাংলাদেশীর শিরোচ্ছেদ নিয়ে নানা মানবাধীকার সংস্থা হতে ব্লগ-ফেইসবুক এমনকি মিডিয়ার বিভিন্ন স্তরে উঠেছিল আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। আর সেই ঝড় থামতে না থামতেই আবারো সেই সৈদিতেই আর এক বাংলাদেশীর শিরোচ্ছেদের বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু এবার শিরোচ্ছেদের ব্যাপারটিকে আটকে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অবস্থাদৃষ্টে তা কতটা সম্ভব তা নিয়ে দেখা দিয়েছে যথেষ্ট সংশয়।

জনকন্ঠ পত্রিকায় (০৫-০১-১২) প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়-সৌদি আরবে এক পাকিস্তানী নাগরিককে হত্যার দায়ে দন্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে বাংলাদেশী নাগরিক আখতার হোসেন। পাকিস্তানী ঐ পরিবার রক্তঋণ (ব্লাডমানি) গ্রহণে সম্মত হলেও মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য নেই বাংলাদেশী এ নাগরিকের। ফলে যে কোন সময়ে হতে পারে তার শিরশ্ছেদ। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হলেও তহবিল গঠনে তেমন অগ্রগতি নেই। এ অবস্থায় আখতার হোসেনের পরিবারে এখন চলছে আহাজারি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে কারাগারে আটক আখতার হোসেন চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার গৌড় স্থান গ্রামের জাফর আহমদের পুত্র। জীবিকার অন্বেষণে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন মরুর দেশে। তিনি ছিলেন কোরানে হাফেজ। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তার হাতে খুন হয় মোঃ এজাজ হোসেন নামের এক পাকিস্তানী নাগরিক। এরপর বিচারে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। সৌদি সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ দণ্ডাদেশ অনুমোদন করায় যে কোন সময় তা কার্যকর হতে পারে। আর সৌদি আইন অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর হবে শিরশ্ছেদের মধ্য দিয়ে।

আখতার হোসেনকে শিরশ্ছেদ থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজন ৪ লাখ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐ পরিবারের অবস্থা জানার জন্য একটি টিম লোহাগাড়ায় পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এবং খোঁজ নিয়ে যতটুকু জানা গেছে তাতে দেখা যায়- দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আখতার হোসেনের বিরম্নদ্ধে এলাকায় কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ ছিল না। বিদেশে গিয়ে কিভাবে তিনি এ ধরনের ঘটনায় জড়ালেন তা আমাদের জানা নেই। তবে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে তাকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য ঐ পরিবারের নেই। এ অবস্থায় দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ ব্যাপারে গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তাতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও ধনাঢ্য ৫৭ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। ফলে আবারও একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৬৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে, যার মধ্যে রয়েছেন বিত্তবান ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।

সূত্র জানায়, আখতার হোসেন সৌদি আরবের মক্কা শরিয়া কোর্টে দোষ স্বীকার করায় তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়েছে। সৌদি আইন অনুযায়ী ভিকটিম পরিবার ব্লাডমানি গ্রহণে রাজি না হলে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে রক্ষায় আর কোন সুযোগ থাকে না। সেখানে অবস্থানকারী আখতারের আইনানুগ প্রতিনিধি খাদেম হোসেন জানান, পাকিস্তানী পরিবারটি ব্লাডমানি গ্রহণে সম্মত আছে। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনসু্যলেট অফিস। বিষয়টি বাংলাদেশের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হলে শুরু হয় তহবিল গঠন করে বাংলাদেশী এ নাগরিকের প্রাণরক্ষার চেষ্টা।

এখন এই বাংলাদেশীকে বাচাতে প্রয়োজনিয় ব্লাড মানির অর্থ যোগানো এবং শিরোশ্ছেদ হতে বাঁচানোর সুযোগ থাকা সত্বেও তার প্রান রক্ষায় ব্যার্থ হলে আমাদের সকল বাংলাদেশীর মানবতাবোধ প্রশ্নের সম্মুক্ষিন হয়ে পড়বে।আর তাই এখন বল আমাদের কোর্টে,আসুন এই বাংলাদেশী ভাইটিকে বাঁচাতে আমাদের সরকার,সমাজের বিত্তবান এবং সকল স্তরের মানুষের কাছে এই আহ্বানটি পৌছে দেই। প্রস্ফুটিত হোক আমাদের সকলের মানবতার আলো,ঐ বাঙ্গালী যতই অপরাধ করুকনা কেনো আগে ভাবি সে আমাদের এক বাঙ্গালী ভাই-এক বাঙ্গালী মায়ের সন্তান সর্বপরী একজন বাঙ্গালী।

সুত্র-দৈনিক জনকন্ঠ