ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কথায় কথায় আমরা একটি কথা শুনি আর তা হল রাজনিতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। যথার্থই কথাটির বাস্তব রুপ ফুটে ওঠে আমাদের রাজনিতিবিদদের কথা-বক্তব্যে। আমরা এখন এমন এক গ্যাড়াকলে পড়েছি একদিক থেকে এক নেত্রী স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির রক্ষক বলে গলা ফাটিয়ে দিচ্ছেন অন্য দিকে আর এক নেত্রী স্বাধীনতা বিরোধীদের বাচাতে কোমর বেধে আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। একজন ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়ানোর কথা বলে ক্ষমতায় এলেন অন্যজন ১৫ টাকায় চাল খাওয়ানোর কথা বলে ক্ষমতায় আরোহন করতে মারিয়া।

সে যাই হোক,আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে কোন সভা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে উনার বক্তব্যের রাফটা উনার কিছু উপদেষ্টা করে দেন বলেই জানি। আর তা না হলে কখন কোন কথা বলে আবার কোন বিপত্তি ঘটে সেতো বলা যায় না। আর তা ছাড়া কোন ধরনের বেফাস কথা বললে সরকারী দল কিছু বললে না হয় বিরোধীতার খাতিরে বলছে বলে কাটানো যায় কিন্তু ইদানিং ইন্টারনেটের ব্যাপকতার কল্যানে ফেসবুক,ব্লগ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলিতে কিছু কেউটে আছে যাদের তিক্ত সমালোচনা শুনলে একেবারেই গা জ্বলে যায় অবস্থা। কিন্তু ৮-৯ তারিখের লংমার্চের কোন এক ভাষনে বেগম জিয়ার একটি মন্তব্য নিয়ে যথার্থই বিভ্রান্তের মধ্যে পড়েছেন অন্তর্জালীয় কেউটেরা। আওয়ামীলীগের ভিষন টুয়েন্টি ওয়ান নিয়ে অনেক রিচার্স করে একটা কুল কিনারায় পৌছানোর আগেই আবার ৪১ বছরেও আ’লীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না বিষয়ক মন্তব্যের মজেজা খুজতে বিচ্ছু কেউটেরা আদাজল খেয়ে নেমেছন বলে জানা গেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে এই ৪১ বছরের হিসাব কোনভাবেই মিলানো যাচ্ছে না।

এক বিচ্ছু ব্লগারের কাছ হইতে জানা যায়,গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত গবেষনা করেও যখন এই হিসাব মিলাতে পারছিলেন না তখন ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন পত্রিকায় ঘুরতে ঘুরতে আবিস্কার করলাম ঢাকা হইতে শুরু হওয়া লংমার্চটি যখন কাচপুর পেড়িয়ে দাউদকান্দির কাছাকাছি আসতেই বেগম জিয়া উনার প্রিয় গু-আজম বাহিনির সাঙ্গ-পাঙ্গরা পথে পথে তাদের ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়ে যে সরব উপস্থিতি টের পেলেন তাতে অত্যান্ত আনন্দের সহিত ক্ষমতার মসনদটিকে কল্পনা করছিলেন আর যখন জনসভা গুলিতে জমাত শিবিরের উপস্থিতিই অর্ধেকের চেয়ে বেশী তখন ক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌছার আতিশয্যায় লিখিত বক্তব্য পাঠের মধ্যে হঠাৎ করে বেফাস এই ৪১ বছরের উক্তিটি করে ফেলেছেন বলে মনে হচ্ছে।

তবে আর এক ভারতিয় দালাল! ফেইসবুকে দেওয়া ষ্ট্যাটাসে জানায়,যেহেতু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪০ বছর লেগেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করতে এবং জেনারেল জিয়া এই সময় পর্যন্ত টেনে আনতে যথেষ্ট ভুমিকা রেখে ঐ জামাত মহলে যথেষ্ট সমাদৃতও হয়েছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় এই দুইটি বছর কোন রকম পার করতে পারলে আরও ৪০ বছর পার করার যথেষ্ট ব্যবস্থা করতে যা লাগে তাই করা হবে কিন্তু তার পরেও যে একটি বছর উদবৃত্ত থেকে যায়, তাই সেই ক্ষেত্রে এই এক বছরকে বোনাস হিসাবে ধরে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

কিন্তু আমরা সাধারন আম জনতাতো এখন দিশেহারা হয়ে পড়ার যোগার,কারন আপনাদের বক্তব্য এবং উদ্যত্ব দেখে মনে হচ্ছে আমাদের এখন আপনাদের কেনা গোলাম ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেন না। নাকি এই জমাত শিবির পরিবেষ্টিত জনসভার তথাকথিত জাগরন দেখিয়ে আমাদের হুমকি প্রদান পুর্বক অন্য কোন কিছু বোঝাতে চাইছেন?

ছবি-অন্তর্জাল