ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমরা সাধারন জনগন প্রাত্যহিক জিবন জিবিকার জন্য নিজ কর্ম ব্যাস্ততার পাশাপাশি নিংরে পাওয়া অবসর বলতে যা পাই তার বেশীর ভাগ অংশটিই নানা বিনোদন মাধ্যম গুলিতে আনন্দ খুজে বেড়াই। তবে মিডিয়া গুলিতে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল গুলির কর্ম কান্ড দেখে বিনোদনের ঘাটতি অনেকাংশেই পুরন হয়ে যাচ্ছে আমাদের এই কথার সাথে আমার বিশ্বাস সহমত পোষন করার অংশটাকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই।

যাই হোক প্যাচাল না পেরে আসল কথায় আসি। জাতির একটি ক্রান্তি লগ্নে তত্ববধায়ক সরকার নামে একটি অদ্ভুত স্বল্প মেয়াদী সরকার দ্বারা সুষ্ঠ!নিরেপেক্ষ! জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাবস্থা প্রবর্তিত হয়। এবং তা একবার-দুইবার-তিনবারের সময় আবার তা মরার উপর খাড়ার ঘা এর মত আভির্ভুত হয়। এখন আমার উপরের লাইন গুলি নিয়ে আপনারা অনেকেই আমাকে তত্বাবধায়ক বিরোধী কোন দলের পক্ষের ভেবে মন্তব্য করার আগেই আমি এর একটু ব্যাখ্যা দিতে চাই। এ পর্যন্ত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যত গুলি নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে একটি নির্বাচনেও কি পরাজিত দল বলেছে নিরেপেক্ষ নির্বাচনকে আমরা মেনে নিয়েছি? এ পর্যন্ত তত্বাবধায়ক সরকারের দায়ীত্ব প্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা থেকে অন্যান্য উপদেষ্টারা বিতর্কিত না হয়ে থাকতে পেরেছেন কি অথবা তাদের সবাই কোন না কোন দলের সমর্থক নয় এটা ভাবর কি কোন কারন আছে। যদি না থাকে তবে আমাদের কি এটাই বুঝে নিতে হবে না যে তত্বাবধায়ক পদ্ধতির দ্বারা কৌশলে নিজ দলের সমর্থককে বসিয়ে জন রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন পুর্বক ক্ষমতারোহনের দুরভিসন্ধি মাত্র।

আবার শুরু হতে যাচ্ছে সংসদ অধীবেশন। এবারও অধীবেশন শুরুর আগ মুহুর্তে বিরোধীদলের চিরচেনা মুখস্ত বুলি সংসদে পরিবেশ নাই তাই সংসদে না যাওয়ার কথাই বলল আমাদের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। তবে এবার তার সাথে নতুন একটি দাবী আ’লীগ কতৃক তত্বাবধায়ক বিল আনা হলে তারা সংসদে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

অন্য দিকে আওয়ামীলীগ যেখানে সংসদে বিল এনে আদালতের দোহাই দিয়ে এই ব্যাবস্থার কবর দিয়েছে সেখানে তাদের কাছ হতে এই সংক্রান্ত বিল সংসদে আনা হাস্যকর এবং অগনতান্ত্রীক বলে তাদের দাবী। আবার এই সংসদ অধীবেশনে যোগ না দিলে বিএনপি সদস্যদের অনেকেরই সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে আইন অনুযায়ী। এমত অবস্থায় বলা চলে আ’লীগের রাজনৈতিক চালের ফাঁদেই আটকে আছে আমাদের বিরোধী দল বিএনপি।

একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের বিকল্প আর কিছু নেই একটি সুষ্ঠ নির্বচনের জন্য তা স্বীকার করে নিচ্ছে আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং আপামর জন সাধারন। বিএনপির দাবী আরো দুই টার্ম (উচ্চ আদালতের নির্দশনা অনুযায়ী) তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বচন হোক। দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে পারে না। আর এই যায়গাটিতেই আমাদের যত বিভ্রান্তি;কারন দুই টার্মে (দশ বছর) আমাদের দেশে কি ঘটবে যাতে করে আর তত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে না। এই সময়ের মধ্যই কি আমরা পারবো একটি শক্তি শালী নির্বাচন কমিশন গঠন করে সুষ্ঠ-নিরেপেক্ষ বিতর্কহীন একটি সংসদ নির্বাচন উপহার দিতে। তা হলে কেনো আমরা দশ বছর পরের চিন্তা করছি এখনই কেন নয়। নাকি আপনারা আপাতত ক্ষমতারোহনের চেয়ে আর কিছু গুরুত্ব পুর্ন নয় বলেই এই সব অযৌক্তিক দাবীগুলি জনগনের নাম ভাঙ্গিয়ে দেশকে অস্থিতিশিলতার দিকে নিয়ে যেতে চান।

এখন,তত্বাবধায়ক নিয়ে যখন আলাপ আলোচনা করার জন্য সরকারী দলের পক্ষ হতে বিএনপিকে আমন্ত্রন জানানো হল তখন সংখার বিবেচনা করে প্রত্যাখান করা হল। কিছুদিন হরতাল,বিক্ষোভ সহ নানা আন্দোলন কর্মসুচি দিয়ে কোন সুফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রোড মার্চে প্রান ফিরে পাওয়া বিএনপি এই নতুন আওয়ামী ফাদ হতে কি ভাবে বের হয়ে আসে তাই দেখার বিষয়। এখন সদস্য পদ রক্ষার জন্যই কি সংসদে যাবেন নাকি জনগনের (বিএনপির দাবী)আশা আকাংখার প্রতি ফলন তত্বাবধায়ককে প্রতিষ্ঠিত করতে সংসদ সদস্যপদ গুলি জলান্জলি দেওয়ার মত সৎ সাহস দেখাবে দলটি তা পরিস্কার হবে ৮ ই মার্চের আগেই।