ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

খবরটি পড়ার পর থেকেই মনটা উশখুশ করতে লাগলো,এতো বড় একটি সংবাদ শুনার পর হতেই মনে হতে লাগলো এটা আমার প্রিয় ব্লগের সবাই পড়েছে কি? আমরা সবাই এই সু-সংবাদের ভাগিদার হয়ে গর্বিত বোধ করছি কি?গত কাল টিভিতে আমাদের সোনার ছেলেদের জাবিতে পেশি শক্তির প্রদর্শনি দেখতে দেখতে যখন ভাবলাম আর কত এই সব আমরা দেখতে পাব ঠিক এর পরের দিন এই সংবাদটি যেন আমাদের মেঘলা আকাশে নিয়ে আসলো এক ঝটকা ঝলমলে হাস্যজ্জল রোদের ছটা।

তা হলে আসুন আগে আজকের কালের কন্ঠ পত্রিকার বনরূপার রিপোর্টটি দেখে নেই-

এ দেশে অহরহ নেতিবাচক সংবাদ শুনতে শুনতে আমরা ক্রমেই যেন হতাশ হয়ে পড়ছি। কিন্তু আশান্বিত হওয়ার মতো সংবাদও আমরা প্রায়ই পাই, যেগুলো হতাশা ছাপিয়ে নানা কারণে বড় হয়ে উঠতে পারে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি একটি সুবার্তা মিলেছে, যা অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী আবিষ্কার করেছেন রোগ নির্ণায়ক সফটওয়্যার। এই আবিষ্কারটি আমাদের জন্য অবশ্যই সুবার্তা বটে। আবিষ্কারককে এ জন্য অভিনন্দন। তাঁর উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে খুব সহজেই জানা যাবে রোগের কারণ, ইতিহাস এবং রোগের সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক রয়েছে কি না। প্রধান আবিষ্কারক ড. সিদ্দিকীকে সহযোগিতা করেছেন তাঁরই বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়াউল্লাহ আরিফ ও কামরুল। এ দুই তরুণকেও অভিনন্দন। চারদিকে যখন অবক্ষয়, সন্ত্রাস, শিক্ষাঙ্গনে হানাহানি আর অশুভ শক্তির দাপাদাপিতে আমরা প্রায় তটস্থ, তখন এ ধরনের সৃষ্টির বার্তা অবশ্যই আমাদের নতুন করে জাগায়। জানা গেছে, রোগ নিয়ে ব্যক্তিগত হয়রানি এবং ঝামেলা থেকেই এ ধরনের একটি সফটওয়্যার তৈরির চিন্তা করেন ড. সিদ্দিকী। সফটওয়্যারটির মাধ্যমে শুধু টেস্টের সীমিতকরণ নয়, চিকিৎসা গবেষক কিংবা চিকিৎসকরা রোগীর অতীত উপসর্গগুলোও সংরক্ষণ করতে পারবেন। দারিদ্র্যপীড়িত এই দেশের একজন কম্পিউটারবিজ্ঞানী তাঁর সহযোগীদের নিয়ে যে আবিষ্কার আমাদের সামনে উপস্থাপন করলেন তা গর্বের বিষয়। আনন্দের খবর আরো আছে। তাঁদের আবিষ্কৃত রোগ নির্ণায়ক সফটওয়্যার নিয়ে উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধটি ইতিমধ্যে হংকংয়ে জৈব তথ্য বিজ্ঞানের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সেরা প্রবন্ধ হিসেবে মনোনীত হয়েছে। জানা গেছে, সফটওয়্যারটিতে রয়েছে দুটি দিক_ইনপুট ও আউটপুট। ইনপুটে রোগীর লক্ষণ কিংবা উপসর্গগুলো উল্লেখ করা হলে আউটপুটে রোগী সম্ভাব্য কী কী রোগে আক্রান্ত হতে পারে তা প্রদর্শন করবে। যদি তা-ই হয়, তাহলে চিকিৎসকের পক্ষে সঠিক রোগ নির্ণয় যেমন সহজ হবে, তেমনি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়াও সহজ হবে। সফটওয়্যারটি তৈরি হয়েছে মানবদেহের জিনের কোড, রোগের উপসর্গ এবং জিনের সঙ্গে রোগের সম্পর্ক নির্দেশ করে। আমরা অবশ্যই এর আরো অগ্রগতি কামনা করার পাশাপাশি এ ব্যাপারে সরকারের তরফে যথাযথ প্রণোদনা দানের বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ সাফল্য ড. সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীদের হলেও আমরা এই উদ্ভাবনের গর্বিত অংশীদার। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রধান উদ্ভাবকের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এ প্রত্যাশাও সংগতই আমরা রাখি। এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি।

আমার বিশ্বাস এই সংবাদটি পড়ার পর আপনাদের অন্তত একটি মুহুর্তের জন্য হলেও গর্বিত মনে বলতে ভালো লাগবে আমরা বাংলাদেশী। তা হলে আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কোনো আজও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের চেষ্টায় ব্রত না হয়ে করছে তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলির লেজুর বৃত্তি। কবে আমরা আমাদের এই মেধাবী ছেলেদের কাছ হতে পাব সত্যিকারের ছাত্রত্বের প্রতিদান যা আমরা সব সময় আশা করে থাকি। আর কত আমরা অন্ধকারের পথে হাটবো আমরা কি এই দেশটাকে সবার কাছে চিনিয়ে দিতে “আমরাও পরি”এই শ্লোগানে মুখরিত করতে সঠিক পথ দেখাতে এগিয়ে আসবে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

এই উদ্ভাবনকে আরো উৎসাহ আর সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে চুরান্তভাবে মানুষের উপকারে নিয়ে এসে এর যথাযথ মুল্যায়ন করতে সরকার এবং আমাদের মিডিয়া গুলি রাখবে যথার্থ ভুমিকা এটাই প্রত্যাশা।আর তা হলেই আমার দেশের এই উদ্ভাবন পাবে তার প্রাপ্য সম্মান এবং সাথে বাড়বে নতুন আরো আবিস্কারের উৎসাহ।

সুত্র-কালের কন্ঠ