ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমার নানুর বয়স ৯০। এই নব্বই বছরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক কিছুই তিনি দেখেছেন আর অতীত ইতিহাসে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার স্বাক্ষীও বটে। সে যাই হোক বেশ কিছু বছর ধরে বার্ধক্যের কারনে প্রথমে চোখে ঝাপসা দেখা এবং পরবর্তিতে দুটি চোখেই নষ্ট হয়ে অন্ধ হয়ে গেছেন তিনি। তার পরও আমার মামা সহ আমরা যে কোন গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত বা দুরে কোথাও যাওয়ার আগে উনার দোয়া নিয়ে বের হই এটা একটি রুটিনের মতই আমাদের সবার মাঝে প্রচলিত। কিছু দিন পুর্বে একটি ঘটনার কারনে আমার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে এমন একটি সংবাদ পাওয়ার পর পরিবারের সবাই খুব ভিত সন্ত্রস্থ হয়ে পরলে আমার নানু সবাইকে ডেকে বললেন তোমরা যা শুরু করেছ তাতে ছেলেটাতো আরো বেশী ভয় পেয়ে ভেঙ্গে পড়ছে,শুন-যত গর্জে তত বর্ষে না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা কর দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।শেষ পর্যন্ত নানুর কথামত ধৈর্য ধারন করায় সব ঠিক হয়েছে এবং তা ঠান্ডা মাথায় আমরা মোকাবেলা করে জয়ী হয়েছি।

গতকাল রাতে আমাদের টিভি গুলি দেখে বাংলাদেশের এমন কোন সাধারন জনগন নাই যে আতংকিত না হয়ে থাকতে পারেন। টিভি টকশো গুলিতে একেক জনের কথা শুনে মনে হচ্ছিল আগামি কাল এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে যা কেয়ামত জাতিয় ভয়ংকর কিছুর সাথে ছারা আর কিছুর সাথে তুলনা করা যায় বলে আমি এ মুহুর্তে খুজে পাচ্ছি না। আর আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হওয়া লোক গুলিকে পুজি করে যে উত্তপ্ত বাক্য বর্ষন তাতে মনে হচ্ছিল যেন আমরা বাংলাদেশ নাই পাকিস্তান-আফগানিস্তানে বসবাস করছি।

না,তাদের আশাহত করে অন্তত ঢাকা শহরে বাংলাদেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের আহ্বান করা কর্মসুচি শান্তি পুর্নভাবেই পালিত হয়েছে এবং তুলনা করলে কোন দলের কর্মসুচিতে জন সমাগম কারো চেয়ে কারো কম নয়। একটি গনতান্ত্রীক দেশে যখন একটি গনতান্ত্রীক সরকার বিদ্যমান সেখানে যার যার অবস্থান থেকে যে কোন প্রতিবাদ,সভা-সমাবেশ করবে এটাই স্বাভাবিক। শহরে এক প্রা্ন্তে একদল এবং অন্য প্রান্তে আরেক দল তাদের কর্মসুচি পালন করবে তাতে সাধারনের মনে এতো ভয় জাগিয়ে দেওয়ার কারন কি। হ্যা কারন একটা অবশ্যই আছে এবং তা আস্তে আস্তে সবার কাছে পরিস্কার হয়েই ধরা দিচ্ছে। আজকে বিএনপি একা তত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থার ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করলে এবং আ’লীগ যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়ে সমাবেশ করলে কোন সংঘাতের আশংকা করতেন কি-না এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কিন্তু বিএনপি এবং আ’লীগ ঘরনার গতকালের টকশো গুলিতে আলোচকরা সবাই জানতো বিএনপির আন্দোলনের প্রধান শক্তি জমায়েত তাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত শির্ষ নেতৃবৃন্দকে বাচাতে তাদের ঘারে সওয়ার হয়ে সুযোগ বুঝে যে কোন ধরনের সহিংসতা ঘটাতে পারে। কিন্তু আজ কেনো তা ঘটলো না বা ঘটতে দেয়া হল না তা একেবারেই পরিস্কার কারন আজকের গন মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বয়ং খালেদা জিয়া এবং আজ যদি কোনো অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতো তবে তার দায় ভার অনেকটাই এসে পড়তো তার কাধে এবং সাথে নিরাপত্তার ব্যাপরটাতো আছেই।

রাজশাহিতে জমাত-শিবির কর্মিরা কাফনের কাপর মাথায় বেধে জঙ্গি মিছিল করেছে এবং যথারিতি পুলিশ বাধা দিয়েছে ফলাফল ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ,নিহিত,আহত এবং গ্রেফতার। আজকে তো জমাতের পুর্ব ঘোষিত একক কোন কর্মসুচি ছিল না তা হলে তারা আজকের বিএনপি তথা জোটের তত্বাবধায়ক ইস্যুর কর্মসুচিকে পুজি করেই কি এই সব ঘটাচ্ছে। আর এই সবই তারা করছে তাদের নিজিস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়েই,তাদের কাছে তত্বাকধায়ক,নাগরিক সমস্য বা অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে তাদের শির্ষ নেতৃবৃন্দকে রক্ষার বিষয়টিই মুল উদ্দেশ্য হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের অংশগ্রহনের সুফলের ভাগিদার অন্য দিকে ৭১’র স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জমাত-শিবিরকে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ সুবিধা প্রদানের দ্বৈত নিতী গ্রহনকারী বিএনপিকে সাধারন জনগন কোন চোখে দেখছে।

একটি গনতান্ত্রীক রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় সরকারী দলের পাশাপাশি একটি শক্তি শালি বিরোধী দল থাকতে হবে অবশ্যই আর ব্যাত্যয় মানেই গনতান্ত্রীক পদ্ধতির ত্রুটি। কিন্তু আমরা যদি সেই জনবান্ধব বিরোধী দল না পেয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্ভভৌমত্ব বিরোধী শক্তির আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা বিরোধীদল পাই তবে গনতান্ত্রীক অগ্রযাত্রায় অন্ধকার ছারা আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না জাতী। সাধারন জনগনের মনে বিএনপির আগামী যে কোন জনবান্ধব,জনকল্যানকর আন্দোলনকে যদি জমাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ইস্যু মাত্র ভুল ভেবে প্রত্যাখান করে লাভটা কার। এখন সবাই খুব সহজেই ধরতে পারে কোন আন্দোলন কোন ইস্যুকে সামনে নিয়ে হচ্ছে,তা হোক বিএনপি-জমাত জোট অথবা আ’লীগ তথা মহাজোট। অতএব সাবধান হওয়ার সময় এখনই.এবং তা সবাইকেই………….।