ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গত ১ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় লিড নিউজ আকারে আ’লীগের ভরাডুবির আশংকা শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টটিতে বলা হয় ঐ পত্রিকার বাংলাদেশের সকল প্রতিনিধিদের একমাসের জরিপের উপর ভিত্তি করে এই সংবাদটি তৈরি করা হয়েছে।

যদিও ঐ পত্রিকার প্রতিনিধিদের নিরেপক্ষতা কিংবা দলীয় মতাদর্শ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে তারপরও আমি ব্যাক্তিগতভাবে ঐ রিপোর্টটির একটি অংশের সাথে অনেকটাই সহমত পোষন করি। কারন আ’লীগ মনোনীত সংসদ সদস্যরা বেশীর ভাগই এলাকায় মুলধারার আ;লীগ নেতা কর্মিদের উপেক্ষা করে একটি নিজিস্ব বলয় এবং আত্মীয় স্বজনদের বেশী মুল্যায়ন করে আলাদা গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে দলীয় কোন্দল জিইয়ে রেখেছেন। অন্য দিকে সংসদ নির্বাচনের পর-পর উপজেলা পরিষদ নির্বচনে যথার্থ দলীয় হস্তক্ষেপ না থাকা এবং নির্বাচনোত্তর প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এমপি বনাম চেয়ারম্যন দন্ধ দলীয় শৃংখলা চরম ভাবে বিশৃংল করে তুলেছে। যা পরবর্তি সময়ে দলের উচ্চ পর্যায়ের আ’লীগ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে একটি সুষ্ঠ সমাধানের কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করার কারনে প্রতিটি স্থানেই এই কোন্দল আর গ্রুপিং যেন মহামারির মতই রোগাক্রান্ত করে তুলেছে দলটিকে। রিপোর্টর এই অংশটিতে সত্য বাস্তব হয়েই ধরা দিয়েছে বলে আমার মনে হয়।

দ্রব্য মুল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানার চেষ্টা করা হলেও এই ক্ষেত্রে তারা চরম ব্যার্থ তা অকপটেই স্বীকার করে নিতে হবে দলটিকে। তবে বিদ্যুৎ ব্যাবস্থার উন্নতি যথেষ্ট ভাবেই করার চেষ্টার ফল মানুষ এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছে।এলাকা ভিত্তিক উন্নায়ন নিয়ে প্রতিটি আসনের আন্চলিক বৈষম্যের কারনে অথবা যথেষ্ট পরিমানে না হওয়ার অভিযোগ একেবারেই প্রত্যাখ্যান করা যাবে না কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে বড় বেশ কিছু প্রকণ্পের দিকে তাকালে উন্নায়নের খতিয়ানটি একেবারেই ছোট নয় বলেও মনে করি। শেয়ার বাজারের ইস্যুটিকে নিয়ে কিছু বলার আগে বলতেই হয় এই একটি ব্যাপারে সরকারের স্বচ্ছতার ব্যাপারটি চুরান্ত ভাবেই প্রশ্ন বিদ্ধ এবং সাথে অর্থনৈতিক দিকটির অবস্থাও লেজেগোবের।

কিন্তু এই রিপোর্টটিতে খুবই সু কৌশলে কয়েকটি দিক একেবারেই এড়িয়ে যাবার বিষয়টি অত্যান্ত চোখে লাগার মতই ঠেকেছে। যেমন বর্তমান সময়ের সব চাইতে আলোচিত ইস্যু যুদ্ধাপরাধের বিচারের পদক্ষেপ গ্রহন,ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি,প্রায় পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ইউনিয়ন-পৌরসভা এবং গুরুত্ব পুর্ন সিটি কর্পোরেশন সহ অন্যান্য উপ নির্বাচন গুলিতে সরকারী প্রভাব বিস্তারের দায়ে অবিযুক্ত না হওয়া সহ কৃষি-শিক্ষা সহ বেশ কিছু গুরুত্ব পুর্ন বিষয়ে সাধারন জনগনের প্রতিক্রিয়া না তুলে ধরায়। আমার বিশ্বাস যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপরটি নিয়ে যদি একক ভাবে একটি জরিপ করা হয় তবে ঐটির ফলাফল আর যাইহোক নেতিবাচক হবে না। তা হলে এই জরিপে শুধু মাত্র সরকারের কিছু দুর্বল বিষয় নিয়ে যদি শুধুমাত্র জরিপ করা হয় তবে তাতে সরকারের ব্যার্থতাটাই ওঠে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই জরিপের প্রশ্ন মালায় অন্তত যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটি থাকলে এর ফলাফল কি হত আমি জানিনা শুধু এটুকুই বলতে পারি জরিপটি হয়ে ওঠতো বিতর্কের বাইরে এবং বিশ্বাসযোগ্য।

তবে এই জরিপটি বাংলাদেশ আ’লীগকে একটু নাড়া দেওয়া বা তাদের ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে বাকি সময়ের মধ্যে দলে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে দলের হাই কমান্ডকে যথেষ্ট সহযোগিতা করতে পারে। এবং সাধারন জনগনের প্রত্যাশা পুরনের সবটা না হলেও জনসেবার মানে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করি। কিন্তু একই রিপোর্টের কারনে আবার যুদ্ধাপরাধের বিচারে অগ্রগতি বাধাগ্রস্থ হওয়ার আশংকা যেমন রয়েছে তেমনি বিরোধীদলের নেতা কর্মিদের অতি উৎসাহী মনোভাবের কারনে রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার ব্যাপারটিতে একটু হাওয়া দেওয়া হল বলেই মনে হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যেতে পারে,আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা বড় দলগুলির মাঝ থেকে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারি এমন আস্থা অর্জনে ব্যার্থ হয়েছে। তার পরও আমরা পরিবর্তন এবং অনেক আশা নিয়েই বর্তমান সরকারটিকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরে আবারো জনগন তাদের একমাত্র সবেধন মনি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যাকে খুশি তাকেই ক্ষমতায় বসানোর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত অন্তত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন কোন অস্থীতিশীল অবস্থার তৈরি না হয় এবং আমাদের স্বাধীনতা সার্ভভৌমত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন অনুভুতির উপর যাতে অযাচিত আঘাত না আসে সেই দিকটাতে সরকারসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং দেশের জনগনের আশা-ভরসার শেষ সম্বল সংবাদ মাধ্যমগুলিও রাখবে তাদের যথার্থ ভূমিকা এটাই সকলের প্রত্যাশা।