ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাস। চলনে বলনে,আচার-আচরনে খাটি বাঙ্গালিয়ানার ছাপ। নানা সমালোচনায় মুখরিত মিডিয়ার প্রতিটি অঙ্গন। ভাষার বিকৃতি,ভাষা নিয়ে রসিকতা,ভাষা নিয়ে কথা বলার সিমাবদ্ধতা পরিশেষে ভাষা নিয়ে বাঙ্গালিদের রক্ত স্নাত যুদ্ধ সব কিছুই যে যার অবস্থান থেকে স্মরন করিয়ে দিতে ভুল করছেন না এত টুকুও।

বর্তমানের তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগে প্রতটি মানুষ তার সুচিন্তিত মতামত তথা নিজিস্ব প্রতিক্রিয়া স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। কিন্তু আজ থেকে ষাট বছর আগে যা ছিল কল্পনার অতীত। কিন্তু তার পরও সেই সময় মানুষ তাদের ধর্ম নিরেপেক্ষতার উদার দৃষ্টি ভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন তা একটু গভির থেকে পর্যালোচনা করলে অবাক না হয়ে পারা যায় না।

বিশাল ভারত বর্ষ ভাঙ্গার মুল মন্ত্র ছিল ধর্ম। হিন্দু ধর্মালম্বিদের নিজিস্ব বলয় তৈরি করে যেমন হিন্দুস্থানের জন্ম ঠিক তেমনি পাক মুসলামানদের (পাক পবিত্রতার)নিজিস্ব বলয় (পুর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলিয়ে) পাকিস্তান নামক দুইটি ভাগে বিভক্ত করা হয় সুকৌশলে। যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে ধর্মীয় গোড়ামি আর নিজ নিজ ধর্মের লোকদের নিয়ে ক্ষমতাধর হওয়াটাই ছিল মুল লক্ষ্য। এটা একটু কষ্ট করে হিন্দুস্থান এবং পকিস্থান নাম দুটির অর্থ খোজার চেষ্টা করলেই খুব সহজে আপনার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে। নখিীল ভারত ভঙ্গের সময় তৎকালিন নিতীনির্ধকরা ধর্ম নিরেপেক্ষতার টুটি চেপে নিজ স্বার্থ হাসিলে ছিলেন মরিয়া আর তাই এ বিষয়টি ছিল একেবারেই উপেক্ষীত।

ভাষা,সাংস্কৃতি,আচার-আচরন এমনকি আঞ্চলিকতায় মিল থাকা সত্বেও পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা) বাদ দিয়ে শুধু মাত্র ধর্মীয় তত্বের কারনেই উর্দু ভাষি পশ্চিম পাকিস্তানিদের লেজে বেঁধে দেওয়া হয় পুর্ব পাকিস্তান(বর্তমান বাংলাদেশের) মানচ্রিটিকেও। যদি সত্যিকার অর্থে ধর্ম নিরেপেক্ষতা এবং জাতীগত ধর্মীয় বৈষম্য না কাজ করত ও ভারত ভাগ হত তবে হিন্দুস্থান,পাকস্তিানের সাথে বঙ্গস্থান (বাংলাদেশ) নামে মোট তিনটি দেশের জন্ম হওয়া ছিল যৈৗক্তিক।

৫২’র পুর্ববর্তি সময়ে যখন ধর্মীয় গোড়ামির ভুত চেপে বসে পশ্চিম পাকস্তিানিদের মাথায় এবং এর থেকে বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে পুর্ব পকিস্তানিদের বাংলা ভাষাভাষিদের উপর চাপিয়ে দিয়ে ধর্মীয় তত্ব প্রতিষ্ঠাই ছিল পক্ষান্তরে মুল লক্ষ্য। আর তখন এ নিয়ে শত অত্যাচারেও ধর্ম তত্বের বেড়াজাল ভেঙ্গে ভাষা তত্বের বিজয় হল এবং ধর্ম নিরেপেক্ষতার বিজ বুনা হয়ে গেল ৫২’র আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। প্রথমে ভাষার অধীকার আদায় এবং এরই ধারাবহিকতায় মাত্র বিশ বছরের মধ্যেই ধর্মনিরেপেক্ষার চুরান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়েই স্বাধীন সার্বভৈৗম আজকের বাংলাদেশের জন্ম।

আজ ষাট বছর পর এবং স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে দাড়িয়ে আমরা দেখতে পাই ধর্মের ধোয়া তুলে জাতীকে বিভক্ত করার বৃথা প্রয়াস। যখন ছিল খুবই সহজ তখন তা না হয়ে বর্তমানের তথ্য প্রযুক্তির দুরন্ত গতির অগ্রযাত্রার সময়ে কি করে কিছু মানুষ সেই পুরোন হিসাব নিকাশে ব্যাস্ত আমার কাছে তা বোধগম্য নয়। আর তাই ৫২’র ভাষা আন্দোলনই আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ভিত্তি ঠিক তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রুপকার হিসাবে ভাষা সৈনিকদের রাখতে হবে সর্বাগ্রে,তাদের শ্রদ্ধা অবনিচিত্তে স্মরন করার পাশাপাশি শ্রদ্ধা জানাতে হবে ধর্মনিরেপেক্ষাকে তবেই সফল হবে ৫২-৭১ পর্যন্ত রক্ত ঝড়ানো লাখো ভাইয়ের আত্মত্যাগ সাথে প্রষ্ঠিত হবে মানবিকতার মহান ধর্ম মানবতা।

মনে রাখতে হবে আমরা ভাষার জন্য প্রান দিয়েছি যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।আমাদের এই অর্জন যেন কোন ভ্রান্ত চক্রান্তে কলুষিত না হয় তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে আমাদের পুর্বসুরীদের মতই।