ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

১২ ই মার্চ নিয়ে যত কথা,জল্পনা-কল্পনা,গুজব,শংকা এমনকি নানা ঘটনার আশংকায় আতংকিত করে তুলেছিল বাংলার আপামর জনগনকে। আমার বিশ্বাস অতীতে কোন রাজনৈতিক দলের কোন সমাবেশ নিয়ে এমন অবস্থার তৈরি হয়নি।সব আশংকা এবং গুজব বা আলোচনা সমালোচনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ১২ই মার্চের সমাবেশ শেষ হল। এখন আমাদের প্রাণপ্রিয় বুদ্ধি বাজারের দোকানদারেরা আশা করছি এই সমাবেশ নিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান আজ রাত হতেই শুরু করবেন এবং আমরা তা শুনে ধন্য হব।

এ পর্যন্ত আমার জানামতে সমাবেশকে ঘিরে যতটা উৎকন্ঠা জনমনে তৈরি হয়েছিল তার প্রতিফলন না ঘটা কিংবা বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় অন্তত আপাত দৃষ্টিতে বলা চলে সরকার নিরাপত্তা এবং আইনশৃংখলা রক্ষায় অনেকটাই সফল হয়েছে।কিন্তু সরকারের এই নিরাপত্তা কিংবা আইনশৃংখলা রক্ষা যাই বলুন এ ব্যপারে যথাযথ ভুমিকা রাখার জন্য যে সব আলোচনা সমালোচনা শুনতে হয়েছে তার মূল্যও একেবারেই কম নয়।

যাই হোক এতো ঢাকঢোল আর প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির এই সমাবেশ নিয়ে সাধারণ জনগনের আতংক উৎকণ্ঠার সাথে কিছু প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু দেশ এবং দেশের জনগনের স্বার্থে এই সমাবেশ থেকে জাতি কি পেল।যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য এই সমাবেশ বলে প্রচার করছিল সরকার কিন্তু বিএনপি এই সমাবেশকে জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের মহা সমাবেশ বললেও পক্ষান্তরে সরকারের প্রচার প্রচারণাকে সত্যি করে দিয়ে জমাত-শিবিরকে ঢাকার রাজপথে নিরাপদে ওঠে আসার সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কি দিতে পারলেন।হ্যা তিনি সাথে সাথে ২৯ই মার্চ এক দিনের জন্য হরতাল এবং সরকারকে কিছু হুমকিধমকি দিয়েছেন।

এখন আমার কথা হল এই সব কথা বিএনপি তো ইচ্ছা করলে তাদের দলীয় কার্যালয় হতে বললে আমাদের তরিৎকর্মা মিডিয়ার কল্যাণে বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যেত নিমিষেই।তা হলে এতো আয়োজন কেন? আমার মনে হয় সরকারকে তাদের শক্তি ও দলের সাপোর্ট দেখানোর জন্যই। কিন্তু আদতে এই সমাবেশ হতে বিএনপি নেতাকর্মীরা হয়ত সাময়িক উজ্জীবিত হল কিন্তু এই সমাবেশকে ঘিরে সারা দেশে হাজার হাজার নেতা কর্মী সরকারের রোষানলে পড়া কিংবা যারা পড়বে তাদের দায়িত্ব কে নেবে। আর এ কদিনে সাধারণ জনগনের সীমাহীন দুর্ভোগ-দুর্দশার কারন হয়ে ওঠা বিএনপিকে কোন চোখে দেখবে জনগন।

এতো কিছুর পরও খালেদা জিয়ার বক্তব্যে আমরা সাধারণ জনগন শত আশংকার পরও হয়ত কিছু ভাল আশা করেছিলাম। আজকের সমাবেশ হওয়ার পর বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা যতটা না উজ্জীবিত হয়ে ওঠবে ঠিক ততটাই সরকারের মনে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে ভিতি কমে গেল এবং তারা হয়ত হয়ে ওঠবে আরো বেপরোয়া। অত এব জাতি নানা আশংকার সাথে সাথে এই মহাসমাবেশ হতে একটি অশ্বডিম্ব ছাড়া আর কি পেল?

***
ফিচার ছবি: আসাদুজ্জামান প্রামানিক/ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ ঢাকা, মার্চ ১২, ২০১২