ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

 

আমি তখন সবে মাত্র কলেজের আঙ্গিনায় পা দিয়েছি,আর বয়সটি তখন এমনই যা দেখি তাই ভাল লাগে। কোন মেয়ে একটু ভাল করে তাকালে বা ঠোঁটে মুচকি হাসির রেখা দেখা দিলেই মনে হত এই বুঝি প্রেম হয়ে গেল। অবস্থা এমন-

”মন কিযে চায় বল
যারে দেখি লাগে ভাল
মন সে তো বাঁধা মানে না
কি জানি কেন জানি না।।”

আর যাই হোক আর দশটা ছেলের থেকে আমি মনে হয় কিছুটা ব্যতিক্রমই ছিলাম আর তা হয়ত আমার পারিপার্শ্বিক নানা কারনেই। ঐ বয়সে এলাকায় উঠতি শিক্ষক বা বিনাশ্রম মাষ্টার হিসাবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলাম আর এ নিয়ে মায়ের বকুনিটা বরাবর আমার উপর টর্নেডোর মত বর্ষিত হতে দেখে ছোট ভাই-বোনের হর্ষধ্বনি যথার্থই গায়ে জ্বলন ধারতে সক্ষম হত সহজেই। তো সেই সময়ে আমার এক ছাত্রী অর্থৎ বিনা পারিশ্রমিকের মাস্টারির ফসল পাশের বাসার এক সু-নয়না, সুদর্শিনী এক সকালে খুব সুন্দর একটি র‌্যপিং পেপারে মোড়া গিফট বক্স ও টক টকে লাল একটি গোলাপ সমেত আমার হৃদয় দুয়ারে নয় ঘরের দরজায় কড়া নাড়িয়া ভেতরে আসার অনুমতির অপেক্ষায় দেখিয়া অজানা প্রেমের হাতছানি মনে করিয়া এবং হৃদয় বন্দরে ভালবাসার নৌকা ভেরার পদধ্বনির স্পষ্ট আভাসে পুলকিত স্বরে ভিতরে আসার অনুমতি দিতে কালবিলম্ব করিলাম না। বিশেষত সেই দিনটি এমনিতেই আমার জন্য অত্যন্ত শুভ দিন,১ এপ্রিল আমার জন্মদিন অতএব সোনায় সোহাগা। যাই হোক সেই সু-নয়না অত্যান্ত আদবের সাথেই চোখে চোখ না রেখে বিনা বাক্য ব্যায়ে গিফট বক্স সমেত গোলাপ ফুলটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিল এবং আমি কাঁপা কাঁপা হাতে উপহার নিজের আয়ত্বে আনা কালিন সময়ে অজান্তেই কিছু বলেছিলাম কি না তা এখন আর স্মরণে আসিতেছে না। তো সু-নয়না কাল বিলম্ব না করিয়া আসি বলে কাঙ্খিত সেই মুচকি হাসি হাসিয়া হৃদয় মাঝে ঝড় তুলিয়া যথার্থই ঘুর্নিপাকের মত অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত চোখের ফ্রেমে ধরিয়া রাখার চেষ্টা করিলাম এবং যখন সম্বিত ফিরিয়া বুঝিতে পারিলাম সত্যই সে আমার দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গিয়েছে তখন ব্যতিব্যস্ত হইয়া তাহার দেওয়া গিফট বক্সের ভিতরের ভালবাসার নিদর্শন খুঁজিতে শুরু করিলাম। কিন্তু হায়,পোড়া কপাল,বক্স খুলিয়া যেন আকাশ হইতে হঠাৎ ধপাস করে মাটিতে লুটাইয়া পড়িয়া কাঁদব না হাসবো বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না। তবে বক্সের ভিতর বেশ কিছু ইট ও মাটির টুকরোর সাথে দেওয়া চিরকুটের লেখাটি আজও প্রতি পহেলা এপ্রিল যেন কাটার মতই বিঁধে। চির কুটে যাহা লিখা ছিল-

”সুপ্রিয়, ভাইয়া,বক্সের ভিতরের উপহার আজকের দিনটির জন্য আর লাল গোলাপটি আপনার শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা ভরা উপহার-ইতি-!!!!”

সে এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতা যা কারো সাথে শেয়ার করা মানে নিজের পায়ে নিজেই কুঠারাঘাত করে সমুহ বিপদ কাধে নেওয়া।তার পরও এখন মনে হচ্ছে হয়ত বয়সটা এখন আর সেই জায়গাতে নেই,আর বাস্তবতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে গিয়ে এখন আর সে গোপন রহস্য আমার প্রাত্যহিক জীবনে কোন ব্যাঘাত ঘটাবে না। তবে এ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে অনেক কিছুই,তবে অবশ্যই ঘটনার পরিক্রমা হয়ত একেকজনের কাছে একেক রকম এই যা।

আর ইসলামের দৃষ্টিতে এই দিবসটি নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি আছে,কেননা এই দিবসের কর্মকাণ্ডটি এসেছে মুসলমান অধ্যুষিত একটি রাষ্ট্র হতে তাদের পরাজিত করার জন্য ছলনা বা কৌশলের অবতারনা করে বোকা বানিয়ে রাষ্ট্র জয়ের কারন থেকে। ঐ দিবসটিকে মুসলমান হিসাবে শান্তির ধর্ম ইসলামকে যেমন কটাক্ষ করার মধ্য দিয়ে এসেছে ঠিক তেমনি একজন সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ মানেই একজন মানুষ অন্য মানুষকে বোকা বানানোর হীন কাজ হতে বিরত থাকাই হল বিবেক প্রসূত কাজ।

অত এব,আমরা কাউকে বোকা বানাতে গিয়ে হয়ত অজান্তেই দিয়ে দিচ্ছি বিশাল বড় কোন কষ্ট,আবার একই কাজ করতে গিয়ে হয়ত সারা জীবনের জন্য তার কাছে হয়ে যাচ্ছি একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার নিরব স্বাক্ষী।