ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

একটি মজার গল্প দিয়ে শুরু করি।
এক গ্রামে একটি মক্তব (যেখানে প্রতিদিন সকালে গ্রামের শিশু কিশোরদের ধর্ম শিক্ষা এবং পাঞ্জেগানা নামাজ পড়ান হয়)ছিল। সেই মক্তবে একজন যুবক মৌলবী নিযুক্ত ছিল তার নাম ফয়েজ উদ্দিন। তো সেই মক্তবে কয়েকটি যুবতী মেয়ে কোরআন শিক্ষা নিতে প্রতিদিন সকালে মক্তবে আসতো। তার মধ্যে একটি মেয়ের নাম ছিল শিউলি,তো প্রতিদিনের ন্যায় আজকে শিউলি এবং তার সহপাঠিরা মক্তবে আসার পথে দেখল এই গ্রামেরই এক ব্যাক্তি তার বউকে পেটাচ্ছে। সেই আলোচনা মক্তবে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে শিউলি এবং তার বান্ধবীদের মাঝে চলছিল।এক পর্যায়ে শিউলি বলল,মেয়েদের নাকি ষোল কলা বুদ্ধি,তো এক কলা ছেরে দিলেই তো ওমন পুরুষকে ঠান্ডা করে ফেলা যায়। আর এ কথাটি মক্তবের শিক্ষক ফয়েজ শুনে ফেলল। যথা সময়ে মক্তব ছুটি হল এবং একে একে ছাত্র/ছাত্রীরা সবাই যখন বেড় হয়ে যাচ্ছিল তখন মক্তবের হুজুর শিউলিকে ডেকে বলল একটু কথা শুনে যাওয়ার জন্য। শিউলি মক্তব ঘরে রয়ে গেল এবং তার সহপাঠিরা বাহিরে একটু দুরে অপেক্ষা করতে লাগলো। ফয়েজ হুজুর শিউলির কাছে জানতে চাইল,আচ্ছা তুমি আগে মেয়েদের ষোল কলা বুদ্ধি বললে তার মানে কি? উত্তরে শিউলি বলল হুজুর এটা একটা কথার কথা এটা আমি আপনাকে বুঝাতে পারবো না। হুজুর চাপ দিয়ে বলল এসব বললে হবে না তুমি আজ আমাকে বুঝিয়ে দিতেই হবে। অগ্যাত শিউলি বলল ঠিক আছে আমি ষোল কলার মাঝে একটি আপনাকে দেখাচ্ছি তবে আপনি সব বিষয়ে আমার সাথে হ্যা বলতে হবে এবং এ রহস্য কাউকে বলতে পারবেন না ওয়াদা দিতে হবে। হুজুর সরল বিশ্বাসে তার সাথে ওয়াদা করল। তখন শিউলি ওঠে গিয়ে মক্তবের দড়জা বন্ধ করল এবং খুব জোড়ে চিৎকার শুরু করল। হুজুর হতবিহ্বল হয়ে বলতে লাগলো এই তুমি কি করছ কিন্তু শিউলি আরো জোড়ে চিৎকার করতে লাগলো। বাহিরে অপেক্ষামান তার বান্ধবী এবং আশে-পাশের মানুষ চিৎকার শুনে মক্তবের দিকে এগিয়ে আসার শব্দ শুনতে পেয়ে হুজুর এমন ভয় পেল যে সে একপ্রকার অবচেতনের মত আল্লাহু-আল্লাহু-আল্লাহু বলছে আর হাত-পা কাপাতে কাপাতে তার বিছানায় পাড়ে ছটফট করতে লাগলো। মানুষজন দড়জা ধাক্কিয়ে ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকল এবং দেখল শিউলি হুজুরের পায়ের কাছে উপুর হয়ে পড়ে কাদছে আর হুজুর আল্লাহু আল্লাহু রব করছে কিন্তু চোখ খুলছে না কিন্তু দু চোখ বেয়ে পানি পড়ছে এবং কারো ডাকের জবাবও দিচ্ছে না। শিউলির বাবা ছিলেন এ গ্রামের মাতব্বর টাইপের গন্য মান্য ব্যাক্তি,সব শুনে তিনি দৌড়ে এলেন মক্তবে এবং শিউলির কাছে জানতে চাইল ঘটনা কি,শিউলি বলল আমি সব বলব কিন্তু তার আগে গ্রামের সবাইকে ডেকে এক সাথে জড় করতে হবে আর তখনই সবার সামনে সব খুলে বলব। শিউলির বাবা তাৎক্ষনিক গ্রামের সবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং হুজুরকে বললেন আপনি এখানেই থাকুন সবাই আসলে আপনি বাহিরে বের হয়ে আসবেন।

শিউলিদের বাড়ির ওঠানে গ্রামের সকল মহিলা-পুরুষ,ছোট-বড় জড়ো হয়েছে এবং হুজুরকে ডেকে আনতে পাঠানো হল। অন্য দিকে হুজুর ভাবছে আমার জীবনে আমি কোন মেয়ের দিকে কুদৃষ্টি দিয়ে তাকালাম না,মিথ্যা কথা বললাম না,বুঝ হওয়ার পর নামাজ কাজা করলাম না কিন্তু আজ এ আমি কোন মহা বিপদে পড়লাম। ঐ মেয়েতো আমায় ওয়াদা করিয়েছে সে যা বলব তাতেই হ্যা বলতে হবে এমনকি এখন ঐ মেয়ে যা বলবে তাকেই আমি সত্য বলতে হবে। এখন এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া আমাকে আর কেউ বাচাতে পারবে না। নয়ত অপবাদ নিয়ে এই মানুষ গুলির রোষানলে পড়ে শেষ পর্যন্ত না আমার প্রান পর্যন্ত যায় আর প্রানে বাচলেও মান সম্মান যা কিছু অর্জন সবইতো যাবে এটা ভেবে হুজুর আরও জোড়ে জোড়ে আল্লাহু-আল্লাহু-আল্লাহু করতে করতে জন সমাবেশে এসে হাজির হল। এবার শিউলিকে সব খুলে বলতে বলা হলে সে বলল,আমাকে যখন হুজুর বললেন একটু মক্তব ঘরটা ঝারু দিয়ে যাওয়ার জন্য তখন আমি মক্তব ঝারু দিতে শুরু করলাম এবং অল্প সময় পরেই দেখি মক্তব ঘরের দড়জা,জানালা আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে গেল এবং পুরো মক্তব ঘরটি একটি ঝাকুনি দিয়ে ওঠল ও হুজুরের শরিরের ভিতরে একটি আলোক খন্ড এসে প্রবেশ করল আর তারপর থেকে হুজুরে হাত,পা,শরিরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শুধু আল্লাহু-আল্লাহু ডাক শুরু করে দিল আর আমি ভয়ে চিৎকার করতে লাগলাম। হুজুর এতক্ষন দাড়িয়ে ছিল কিন্তু এ কথা শুনার পর শিউলির বাবা বসা থেকে ওঠে নিজের চেয়ারে ফয়েজ হুজুরকে বসাতে বসাতে বললেন হুজুর আপনি দয়া করে কিছু বলেন। হুজুর বসতে বসতে বললেন মহা বিপদ-ষোল’র মাঝে এক,মহা বিপদ-ষোল’র মাঝে এক আল্লাহু-আল্লাহু-আল্লাহু। শিউলিদের ছিল ষোলটি গাভি এর মাঝে একটি গাভি ছিল গর্ভবতি ঠিক সেই সময়ে গাভিটি প্রসব করতে গিয়ে মারা গেল আর সমাবেশ স্থলে এসে বাড়ির রাখাল জানাল মাতব্বর সাহেবের ষোলটি গরুর মাঝে একটি গরু এই মুহুর্তে মারা গেছে। সাথে সাখে সবাই বলে ওঠল হুজুর এই মাত্র বলেছেন-মহা বিপদ ষোল’র মাঝে এক মানে হুজুরতো অনেক কিছু জানেন এবং অত্যান্ত কামেল মানুষ। আর তারপর থেকে শুরু হল হজুরের রম-রমা অবস্থা,এক সময় হুজুরের দান-ছদকা চারিপাশের গ্রাম গুলি থেকেও আসতে লাগলো এবং ভক্ত বাড়তে লাগলো দিনকে দিন। আর এ ভাবেই হুজুর প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে ওঠলেন। এক পর্যায়ে শিউলির সাথে হুজুরের বিাবহ হল এবং বাসর ঘরে মিউলিকে জিজ্ঞেস করল তুমি এমন কেন করলে,উত্তরে শিউলি বলল ষোল কলার মাত্র একটি দেখিয়েছি বাকি কিন্তু আরো পনেরটি আমার হাতে আছে,অতএব সাবধান।

সুরঞ্জিত বাবু সংশ্লিষ্ট কেলেংকারিতে সারা দেশের চায়ের দোকান হতে শুরু করে সব জায়গাতে আলোচিত হচ্ছে। ওনাকে স্বচ্ছ এবং নির্দোশ প্রমান করার সুযোগ সাগরে সুই খোজার মত ব্যার্থ চেষ্টা ছারা আর কিছু নয়। আর একই করনে সুরঞ্জিত বাবুর যতটা না ক্ষতি হল তার চাইতে বড় ক্ষতিটি হল আওয়ামী লীগ নামের দলটির। এই একটি করনে দলের ভোট কমেছে কতটা তার সঠিক হিসাব জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আগামী নির্বচন পর্যন্ত তবে আসন্ন ডিসিসি নির্বাচনেও এর প্রভাব বেশ কিছুটা পড়বে বলেই মনে হচ্ছে। অতএব সামগ্রিকভাবে বলা যায় আ’লীগকে এর মুল্য দেওয়া হতে বাঁচানোর আপাত দৃষ্টিতে কোন পথ খোলা দেখা যাচ্ছে না।

কেউ কোন অপরাধ করলে তার শাস্তি দেওয়ার পিছনে অনেক কারনের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারন হল সমাজের অন্যান্য মানুষগুলোকে একটি মেসেজ দেওয়া যে অপরাধ করলে তোমাদেরও একইভাবে স্বাস্থীর সম্মুখীন হতে হবে। আর সুরঞ্জিত বাবুর এই ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিবে এবং নিতে বাধ্য এটা বলা বাহুল্য। আর এ কারনে আ’লীগ যদিও ক্ষতির সম্মুখীন হবে তবে আপাত দৃষ্টিতে বলা চলে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও সামনের সময়ে দুর্নীতি করার সময়ে সরকারের ক্ষমতাবানদের নিরুৎসাহিত করবে তাতে জনগনের উপকার হবে বলেই বিশ্বাস করি।কারন আর যাই হোক এই একটি ঘটনা আবারো প্রমান করিল,চোরের সাত দিন তো গৃহস্থের একদিন।

রাজনীতির ষোল কলার এক কলায় বিপর্যস্ত সুরঞ্জিত বাবু,অতএব জনগনের হাতে এখনও রাজনীতির পনের কলাই রক্ষিত। সাবধান প্রতিটি দলের নেতা হতে শুরু করে প্রতিটি কর্মিকে এর চেয়ে বড় আর কোন মেসেজ পেতে হলে একটু অপেক্ষা করতে হবে আর যাদের শিক্ষা হবে তারাই হবে উপকৃত।পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ফেসবুক,ব্লগ সহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈশাখ উৎসবের বিরোধিতা করে কিছু মানুষ বেশ সতর্ক করে চলেছিল্ ধর্মীয় অনুভুতি কাজে লাগিয়ে। কিন্তু সব অপপ্রচার নৎসাত করে দিয়ে বাংলার প্রতিটি সমাজ সচেতন মানুষ হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বর্ষ বরনের রঙ্গিন উৎসব উদযাপন আবারো প্রমান করল শত অপপ্রচারের মাঝেও আমরা আমাদের বাঙালিয়ানা ভুলে যাই না,ভুলে যাইনা আমাদের সামাজিকতা এবং আমাদের ঐতিহ্য ভরা ভ্রাতৃত্ববোধ। আর তাই সুদৃঢ় কন্ঠেই বলতে পারি শত প্রতিকূলতাকে জয় করে আমাদের কাঙ্খিত প্রভাতের আলো ফুটবেই।

বিঃদ্রঃ গল্পের সাথে লেখার মুল বক্তব্যের যৌক্তিকতা কেউ খুঁজে নিতে চাইলে তা নিজ দায়িত্বে নিতে হবে।