ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধ,বাঙ্গালী রমণীরা রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কখনও তাদের স্ব-প্রনোদিত অংশগ্রহণ কিংবা স্বামী,সন্তানকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্যে যুদ্ধে যুগিয়েছে অনুপ্রেরনা,দিয়েছে অনেক আত্নত্যাগ, হারিয়েছে ইজ্জত। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ,স্কুল,ব্যাবসা-বানিজ্য,শিল্প-কারখানা ও রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত নারীদের অংশগ্রহণে উন্নায়নশীল অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। টাইগারের হুংকারে যখন অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নতুন করে আর সেই দেশের নারীরা দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলার দামাল ছেলেদের উৎসাহ যোগতে মাঠে না গিয়ে ঘরে বসে থাকবে এটা ভাবাই যায় না। তাই বিশ্ব কাপের অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচেই পুরুষদের পাশাপাশি মাঠে নারী দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মত। আর এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আত্নবিশ্বস বাড়াতে সাহায্য করেছে অনেকটাই এটা বলা চলে নিঃসন্দেহে। এই নারী দর্শকদের উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে আবারও প্রতিষ্ঠিত হল-বাংলাদেশ কোন উগ্র ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে নারীকে ঘরে বন্দি করে রাখার মন-মানষিকতা পোষন করে না। তাছাড়া শালিনতা আর ভদ্রভাবে যে কোন অনুষ্ঠানেই বাঙ্গালী পুরুষের পাশাপাশি রমণীদের উপস্থিতি বাংলা সংস্কৃতির ধারক-বাহকও বটে। মৌলবাদী ও উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠির কাছে হয়ত এই বিষয়টি এত সহজে মেনে নেওয়া কিংবা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার বিরোধিতা আসাটাই ছিল স্বাভাবিক,কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের এই কার্যক্রম হালে পানি পাবে না তাও তারা বুঝতে পারছে। চার দেয়ালে বন্দি করে রাখার মন মানসিকতা এখনও যাদের মনের কোনে আছে বা ছিল তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে অনেক আগেই পিছু হটেছেন কারন বাংলাদেশে এমন কোন পেশা নেই যেখানে নারী উপস্থিতি কম-বেশী নেই, সফলতাও এসেছে কাংক্ষিত। শুধু মাঠে নয় ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখতে দেখতে তসবিহ হাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শুভ কামনায় চোখের জল ফেলেছে আনেক মা।

পরিশেষে শুধু বলতে চাই অনেক কিছু হারিয়ে আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষা, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি বাংলাদেশ। এবার এই বাংলার দামাল ছেলেরাই বাংলা ভাষা আর বাংলাদেশকে তুলে ধরবে বিশ্ব বাসির কাছে “আমরাও এগুতে জানি,অমরাও কিছু করতে পারি”। সাবাশ বাংলাদেশ এগিয়ে চল তোমরা ১১জন। সাথে আছে ১৬ কোটি বাঙ্গালীর হৃদয় নিংরানো ভালোবাসা আর মা-বোনের দোয়া-আশির্বাদ। ৫২-৭১ এর পর এই যুদ্ধে জয়ী আমরা হবই। হতেই হবে। শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।