ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

মাতৃভাষার উপর নানা অগ্রাসনে উদ্দিগ্ন হয়ে ১৯৯৮ সনের ২৯ মার্চ সুদুর প্রবাসের দুই বাঙ্গালী সহ ভাষা প্রেমী অন্যান্য আরও ছয়টি ভাষার ৮ জন ব্যাক্তি এক চিঠিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বরাবর mother language lover of the world নামক একটি বহু ভাষার সম্মিলীত কিছু ব্যাক্তিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংঘঠন ভাষার উপর আসা যে কোন আঘাত মোকাবেলায় একটি সুনির্দিষ্ট শক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের আবেদন জানান। ঐ চিঠিতে বলা হয় বাংলা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রোয়ারী প্রান বিসর্জন দিয়ে বাঙ্গালীরা অনণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে,আর তাই ২১শে ফেব্রোয়ারীকে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে ভাষার প্রতি তার প্রাপ্ত সম্মান দেওয়া হোক।সংঘঠনটির অন্যান্য সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার জন্য বাঙ্গালীদের আত্মত্যাগের করুন ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে ২১শে ফেব্রুয়ারিই বিশ্ব ভাষা দিবসের উৎকৃষ্ট দিন হতে পারে তা বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে দুই বাঙ্গালী উনারা হলেন রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম। ৫২র ভাষা আন্দোলনের যে সালাম,রফিক,বরকত,জব্বারেরা রক্ত দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে উপহার দিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের আর তার উত্তরসুরী হিসাবে সালাম ও রফিক ২১শে ফেব্রোয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করার পেছনে রাখলেন গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা। এখন দাবী উঠেছে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দানের আর এর বাস্তবায়নে সরকারী পদক্ষেপ নেওয় হয়েছে। কিন্তু এর বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপশি নিতে হব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত ভূমিকা,গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। যুগে-যুগে আবির্ভূত হওয়া সালাম রফিকদের উত্তরসুরী হিসাবে এর বস্তবায়নের আন্দোলন আমাদেরই করতে হবে। নানা সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রবাসে থাকা বাঙ্গালীরা রাখতে পারেন গুরুত্বপর্ন ভূমিকা,দেশে থাকা প্রতিটি বাঙ্গালী ঐক্যমতের ভিত্তিতে সরকারকে রখতে হবে চাপে।