ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

তিন বেলা খাবার জোটেনি মোঃ সুমনের এরপরও থেমে থাকনি সে। আধা পেট খেয়ে, কখনো বা খালি পেটেই রাত জেগে লেখাপড়া করেছে। এখন সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছ্। সুমন মায়ের সঙ্গে রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেছে। পাশাপাশি চালিয়েগেছে পড়াশোনাটাও। সংসারের খরচ যোগাতে তাকে স্কুল ফেলে যেতে হয়েছে মায়ের সাথে রাস্তার মাটি কাটতে। সে আজ পর্যন্ত স্কুলে কোন টাকা দেয়নি। শিক্ষকেরা সার্বিক সহযোগিতা না করলে হয়তো তার পড়ালেখাই বন্ধ হয়ে যেত। তার মেধা আছে কিন্তু টাকা নেই। সে মুরাদনগরের কাজিয়াতল রহিম রহমান মোল্লা উচ্চ
বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কাজিয়াতল গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মোঃ সুমন। বাবা বিভিন্ন বাজারে ফেরি করে হলূদ-রসুন বিক্রি করেন। মা রাস্তায় মাটি কাটেন। দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ফারুক হোসেন একই স্কুলে ৯ম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। সেও গত জে,এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা-মা কোনদিন পড়ার খরচ হিসেবে একটি টাকাও তাদের হাতে দিতে পারেনি।

গতকাল সুমনের সঙ্গে কথা হয়, সে জানায় রাতে কিছুই খায়নি। সকালে শুধু একটি পাউরুটি খেয়েছে। বাবা শাহজাহান মিয়া জানান, নিজেদের কোন জায়গা-জমি নেই। সন্তানদের তিন বেলা খেতে দিতে পারেন না। যে কারনে সুমন পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। সুমন আরো জানায়,স্বচ্ছল সহপাঠিরা সাজ গোছ করে স্কুলে আসত, আর সে অতি সাধারন বেশেই চালিয়ে গেছে ক্লাস। অনেক সহপাঠিরা নিয়মিত প্রাইভেট পড়ত, যা তার পক্ষে সম্ভব হতনা। শিক্ষকদের কাছে সে কৃতজ্ঞ। প্রধান শিক্ষক ৬ মাস তাকে ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থা করে দেন। এমনকি পরীক্ষায় ফরম পূরণের টাকাও শিক্ষকেরা মিলে চাঁদা তুলে দিয়েছেন। সেই ঋন এভাবেই সে শোধ করার প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন। কিন্তু তার এখন একটাই চিন্তা কলেজে ভর্তি হলে পড়প শোনার খরচ যোগাবে কিভাবে? তার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন। কিন্ত সে স্বপ্নের নাগাল পাওয়ার কোনো উপায় আদৌ কি আছে তার সামনে ?

ছবি-নিজ