ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন/বিদ্যুৎ উৎপাদন

শিক্ষার পরে আমাদের যে বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেটা হলো ভৌত-অবকাঠামোর উন্নয়ন।
শোনা যাচ্ছে সর্বত্র ভূমিকর আর সম্পত্তি-কর আরোপ করার চিন্তা ভাবনা চলছে, যা গরিবের জন্য মোটেও সুখের সংবাদ নয়। এ ধরনের কর আরোপের চিন্তা বাতিল করতে হবে। (নতুন নতুন কর আরোপ না করে রাজস্ব আদায়ে তৎপর হওয়া উচিত।)

আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা,ভূ-গর্ভস্থ তেল,গ্যাস,কয়লা ও খনিজ অনুসন্ধানের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ,প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হোক।

সাধারণের ভাগ্য উন্নয়নে গ্রামের অবকাঠামো যথা রাস্তা-ঘাট, জলাধার পুন:খনন করা হোক। এর জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হোক।

দুঃস্থ ও ভূমিহীনদের জন্য আবাসনের প্রস্তাব রাখা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হোক।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে হাসপাতাল সমূহের শয্যা বাড়ানো, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসকের পদ বাড়ানোর জন্য জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হোক।

প্রকৃতির বিরূপতার কথা, বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতির কথা মাথায় রেখে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে, না হলে অন্যের(আমদানির) উপর নির্ভরতা বাড়বে। খাদ্য শস্য উৎপাদনকে জাতীয় ভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হোক।সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংক গুলোকে পস্তাব দেয়া হোক।

উপজেলা পদ্ধতি আধুনিক করা হোক। উপজেলা পরিষদ কে কার্যকর করা হোক।

গ্রাম ছেড়ে শহর-মুখি লোকজন ঠেকাতে হলে উপজেলা, থানা পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়ানো দরকার আর সেই লক্ষ্যে ক্ষুদ্র-শিল্প উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে এবং কম সুদে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংক গুলোর কাছে প্রস্তাব করা হোক।

আমাদের যুব সমাজের একটা বড় অংশই অর্ধ-শিক্ষিত, শিক্ষিত বেকার। বেকারত্ব অবসানে প্রতিটি থানা, প্রতিটি উপজেলায় বেকার যুবকদের তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা হোক।

(আমাদের উৎপাদন এবং উন্নয়নের প্রধান প্রতিবন্ধকতা বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি)

বিদ্যুৎ,গ্যাস এর ঘাটতি, সুপেয় পানির অভাব জনগণের ভিতর অ-সহিষ্ণুতা বাড়াচ্ছে, জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে ; এসকল সমস্যার সমাধান বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ওয়াদার অংশ, কার্যত বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়েনি, গ্যাস সমস্যার সমাধান হয়নি।
জনগণের স্বার্থের কথা ভেবে এসব সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হোক, অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হোক।
যেহেতু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট স্থাপন এবং উৎপাদন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই:

১।এই গ্রীষ্ম মৌসুমেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কিম্বা মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হোক,বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা হোক।

২। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত সকল জেনারেটর এবং জেনারেটর রিপেয়ারে ব্যবহৃত সকল যন্ত্রাংশের উপর আমদানি শুল্ক,মূসক প্রত্যাহার করা হোক।

৩। সৌরতাপ বিদ্যুৎ(সোলার প্যানেল)আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা বছরে গড়ে ২৫০-৩০০ দিন সূর্যালোক পাই(বর্ষা কিম্বা বৃষ্টি বাদলের দিন গুলো ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও প্রখর সূর্যালোক আমরা পাই)। ভূপতিত এই সৌরশক্তিকে বিদ্যুতশক্তিতে রূপান্তর করা গেলেই বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম বিধায় আমরা ব্যাপক ভাবে সৌরতাপ বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে পারি। সৌরতাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল কাঁচামালের উপর আমদানি কর,মূসক প্রত্যাহার করা হোক।

৪। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারমানবিক শক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা এবং পরামর্শ,অনেকের আগ্রহ দেখে একটি কথা না বলে পারছিনা “পরীক্ষামূলক ভাবে হলেও পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সরকারী প্রস্তাব ও অর্থ বরাদ্দ চাই।”

৫। সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সহ উন্নত বিশ্বে বিদ্যুতের ভোল্টেজ দুই ভাগে ভাগ করে যথাক্রমে ১১০ এবং ২২০ ভোল্ট লাইন আবাসিক এবং অফিস গুলোতে সরবরাহ করা হয়। এই ১১০ভোল্টে বৈদ্যুতিক বাতি,বৈদ্যুতিক পাখা,ওয়াশিং মেশিন,রেফ্রিজারেটর,টিভি,ইস্ত্রি ইত্যাদি চলে। শুধুমাত্র এসি/কুলার ২২০ ভোল্টে চলে, এতে বিদ্যুতের বাড়তি চাপ কমছে ,,আমরা পরীক্ষামূলক ভাবে হলেও এর প্রয়োগে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ চাই।

৬। এনার্জি সেভিং লাইট,ব্যাটারি আমদানির উপর সকল কর প্রত্যাহার করা হোক।

বিদ্যুতের অনুৎপাদন, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটাতে এ মুহূর্তে সরকারের কি কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

***
দি বেঙ্গলি টাইমসে প্রকাশিত

***
বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট: আসুন দেখি কী হতে যাচ্ছে। প্রত্যাশা-১