ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

“হাসপাতালে প্রসব করান, মা ও শিশুর জীবন বাঁচান” স্লোগান সামনে রেখে আজ সারাদেশ ব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস।

গর্ভবতী মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্য ও প্রসবকালীন মৃত্যু হার কমানোর কথা চিন্তা করে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’।

সাম্প্রতিক বছর গুলোতে মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমলেও নিরাপদ শিশু জন্মদানের জন্য বাংলাদেশের সকল মা এখনো হাসপাতালের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। গ্রামাঞ্চলে সন্তান জন্মের সময় এখনো অনেকেই অনভিজ্ঞ দাইয়ের শরণাপন্ন হচ্ছে এবং তাদের হাতে এখনো মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটছে। কিম্বা প্রসব পরবর্তী মৃত্যু-ঝুঁকি,নবজাতকের নানা রকম শারিরীক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে বাংলাদেশে এখনো প্রতি ঘণ্টায় একজন করে মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিবছর সারাবিশ্বে ২১ কোটি নারী গর্ভবতী হয় এবং দুই কোটিরও বেশি নারী গর্ভ-জনিত স্বাস্থ্য-সমস্যায় ভোগে। এদের মধ্যে আবার ৮০ লাখের জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়। শহরাঞ্চলের মায়েদের হাসপাতাল সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস কারি গর্ভবতী মায়েদের কাছে এখনো
আধুনিক চিকিৎসা সহজলভ্য হয় উঠেনি। নানা ধরনের কুসংস্কার,অজ্ঞতা,কঠোর ধর্মীয় মানসিকতার কারণে অনেকেই দাই নির্ভর হয়ে থাকেন।

আর এই অনিরাপদ ডেলিভারি মা ও শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়,অনেক সময় সন্তান প্রসবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগলে গায়ে, হাতে-পায়ে পানি, অতিরিক্ত মাথা ধরা, ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া, একলামশিয়া চিকিৎসার জন্য চাই অভিজ্ঞ ডাক্তার কিম্বা হাসপাতাল। কাজেই গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি হাসপাতাল,চিকিৎসা,পর্যাপ্ত ডাঃ,আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এখনো প্রকট। মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র,স্যাটেলাইট ক্লিনিক(NGO) এবং বিভিন্ন সংস্থার মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোর দশা এতোটাই খারাপ যে সার্বক্ষণিক ডাঃ এর অভাব খুব প্রকট,এসব ক্লিনিকে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না,বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবার কথা থাকলেও একশ্রেণীর নার্স,আয়া রোগী কিম্বা তাঁদের আত্মীয়-স্বজনকে বাইরে থেকে বিভিন্ন ঔষধ কিনতে বাধ্য করছেন।

আমরা নারী স্বাধীনতার কথা বলি,প্রশ্ন হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে নারীরা কতটা স্বাধীন? যেখানে সংসারের সকল কিছু কর্তার ইচ্ছের উপর নির্ভর করে?

‘জরুরি প্রসূতি সেবা নিতে প্রসূতি মা যেন হাসপাতাল মুখী হন’ এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে;ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন-ই পারে মা ও শিশুকে নিরাপদ রাখতে।

আসুন সকলে মিলে ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার,অজ্ঞতা থেকে নারীকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করি।

***
ছবি সূত্র:ইন্টারনেট

***
ফিচার ছবি: আইরিন সুলতানা’র বিডিনিউজ২৪ ব্লগ ফটো এ্যালবাম থেকে।