ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

সৌদি আরবে বেকারত্ব বেড়ে যখন ১০.৫ শতাংশে উন্নীত হয় তখনই সৌদি সরকার তার দেশের নাগরিকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টর গুলোতে কমপক্ষে ১০% সৌদি নাগরিকের চাকুরী প্রদানের জন্য কঠিন নীতিমালা ঘোষণা করে।

NITAQAT সিস্টেম নামের এই কর্মসূচিতে সমস্ত সৌদি প্রতিষ্ঠান গুলোতে সৌদি নাগরিকের কর্মসংস্থান, জেনারেল অর্গানাইজেশন অব সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স(GOSI) এর রিপোর্টের ভিত্তিতে, শ্রমিকের সমস্যা সমাধান অর্থাৎ দেশটির বিদ্যমান কোম্পানি আইন ভঙ্গকারী ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠান সমূহকে ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:-হলুদ, লাল এবং সবুজ।

যেসব কোম্পানি হলুদ ক্যাটাগরিতে পড়েছে সেসব কোম্পানি তার বিদেশী শ্রমিকের ভিসা বা আকামা নবায়ন করতে পারবেনা যদি ঐসব কোম্পানিতে বিদেশী শ্রমিক ৬ বৎসর এর নিচে কাজ করে থাকে তবে ৬ বছর পুরো হওয়া পর্যন্ত কাজ করতে পারবে। তাদের ভিসা বা আকামা নবায়ন হবে। ইতিমধ্যে ৬ বছর পুরো হয়ে গেলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে!

যেসব কোম্পানি লাল ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত হয়েছে সেসব কোম্পানির বিদেশী শ্রমিকের ভিসা বা আকামা কোন ভাবেই নবায়ন করা হবেনা।

সবুজ চিহ্নিত কোম্পানি গুলো সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবার পাশাপাশি তারা তাদের জন্য নতুন বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ এবং আকামা নবায়ন সহ কোম্পানি ত্যাগ ইচ্ছুক শ্রমিকদের অন্য কোন স্পন্সর খুঁজে পাওয়া সাপেক্ষে মালিকানা পরিবর্তন করতে পারবে।

যেসব নিয়োগকর্তার ১ থেকে ১০ এর নিচে বিদেশী শ্রমিক রয়েছে তারা NITAQAT সিস্টেমের আওতার বাইরে থাকবে।

দেশটি এধরনের ঘোষণা দেবার পর এরই মধ্যে দেড় লাখ সৌদি নাগরিকের চাকুরীর আবেদন বিভিন্ন দফতরে জমা পড়েছে,যা এই নভেম্বর এর মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

এছাড়া বিদেশীদের পাসপোর্ট এতদিন তার নিয়োগ কর্তার কাছে থাকত বিধায় অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে সৌদি নাগরিকদের কাছে যেসব ক্যাটাগরি জব পছন্দনীয় তা সনাক্ত করা যাচ্ছিলোনা। সরকারের মানব সম্পদ ও শ্রম বিভাগ এখন থেকে বিদেশীদের পাসপোর্ট তাদের জিম্মায় নেবে বলেও খবরে জানা যায়।
সৌদি নাগরিকদের জন্য প্রথম শ্রেণীর সকল পদ নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আইনের প্রয়োগ শুরু হলে শুধুমাত্র ফিলিপাইনের ৪০ শতাংশ নাগরিককে দেশে ফিরে যেতে হবে,দেশটির মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১২ লাখ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশের আনুমানিক ৪০ শতাংশ শ্রমিক চাকুরী হারাবে কিম্বা তাদের আকামা নবায়ন করা হবেনা। আর যারা অবৈধ হয়ে পড়বেন তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট ফ্রিজ করা সহ ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে নেবে বলে জানা গেছে।

দৈনিক আরব নিউজ গত ৫-ই আগস্ট.২০১১ সৌদি আরবের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী শূরা কাউন্সিলের মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুসাক এর উদ্ধৃতি এবং পরামর্শ নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার করে। যেখানে তিনি সৌদি আরবে উদ্ভূত বেকার সমস্যা সমাধানে এবং প্রবাসীরা যাতে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় সেই লক্ষ্যে বিদেশী শ্রমিকের সংখ্যা একটা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগের নিচে রাখার পরামর্শও আসছে।

গত জুলাই মাসে সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের নিয়োগ অনুমোদন সংক্রান্ত একটি খবর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রচার করা হয়, বলা হয়েছিল, “সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার গাড়ি চালক,মালী,এবং খাদ্দামা নেবে”। সে সময় বিষয়টি দুই দেশের মিডিয়াতেই প্রকাশিত হয়েছিল। আর খাদ্দামা প্রেরণ নিয়ে বাংলাদেশী মিডিয়ায় ব্যাপক হৈ-চৈ ও হয়েছিল। বাস্তবে সেই ঘোষণা এখনো আলোর মুখ দেখেনি!

এরই মধ্যে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সৌজন্যে জানা গেল যে “মালয়েশিয়ার পর এবার সৌদি আরবে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে”। কি প্রক্রিয়ায় এসব অবৈধ শ্রমিক তার স্পন্সর খুঁজে পাবে, কি প্রক্রিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেয়া হবে সে বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে আদৌ কোন তথ্য নেই। সৌদি সরকার যখন “Saudization” প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎপর ঠিক তথন বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সত্যি সত্যি যদি এধরনের উদ্যোগ নেয়া হয় থাকে তবে সরকার নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় কাজ করছে ভেবে সাধুবাদ জানাই।

কথা হল বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও এমন খবরের সত্যতা পেলাম না।এদেশের কোন সংবাদ মাধ্যমে খবরটি ছাপা হয়েছে বলে আমি পাইনি!

কারো কাছে কোন সূত্র থাকলে আমায় সাহায্য করুন।

এটা যদি শুধু কথার কথা হয়ে থাকে তবে মন্ত্রীদের মুখে লাগাম দেয়া উচিত। আপনারা জনগণের কাছে নিজেদের হাস্যকর করবেন না। এমনিতেই সমস্যার শেষ নাই। পারলে দুই দেশের মধ্যে শীতল সম্পর্কের উন্নয়ন করুন।

***
তথ্য সূত্রঃ আরব নিউজ, এরাবিয়ান বিজনেস ডট কম।