ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেষ অংশ নদী তীরবর্তী সৈয়দপুর। সৈয়দপুরের এই অংশটি শ্রীনগর থানাধীন। প্রতিবারের চেয়ে এবার মহা ধুম-ধামে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের। ফলে পূজা-পার্বণে হিন্দু-মুসলিম মিলে-মিশে একাকার।

সৈয়দপুর দুটি মাদ্রাসা ও রয়েছে ,রয়েছে মসজিদ। পূজায় ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে আনন্দে মেতে ছিল গোটা এলাকা। কাছা-কাছি তিন তিনটি মণ্ডপ, ঢোল ঢাকের শব্দে মুখরিত। দূর-দূরান্তের লোকজন এসে ভিড় জমাচ্ছিল মণ্ডপগুলোতে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের শেষ নেই এবার তাদের নির্বাচিত সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ! কৃষ্ণকলি পূজা উদযাপন কমিটি গতকাল এক কনসার্ট এর আয়োজন করে। ক্লোজ আপ তারকা রিঙ্কু, হ্যাপী, পলাশ ছাড়াও বেশ কিছু শিল্পী তারকা অংশ নেবে খবর পেয়ে কয়েক হাজার জনতা উপস্থিত হয়েছিল। অতিথি শিল্পী রিঙ্কু ২ বা তিনটি গান গাইবার পর শুরু হয় তরুণদের উন্মাদনা! কেউ একজন পেপসির বোতল খুলে ছিটিয়ে দেয় দর্শকের উপর! এটা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত,কথা কাটা কাটি।

রায়হান নামক ১৫/১৬ বছরের যুবক এক ছাত্রকে সন্ত্রাসীরা মণ্ডপ থেকে এক-দেড়শ গজ দুরে টেনে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার গলায় গুলি করে! ঘটনাস্থলে ১০/১২ জনের একটি পুলিশ টিম ছিল বলে জানা গেছে,এবং পুলিশ এর উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা হত্যা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আহত রায়হানকে নিয়ে পাগলের মত লোকজন বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে যায়,,কোথাও ভর্তি করাতে না পেরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এ নিয়ে যাওয়া হয়। প্রচণ্ড রক্ত ক্ষরণে নিস্তেজ যুবক ভর্তি করার আগেই মৃত্যুর কলে ঢলে পড়ে। লাশ মর্গে আছে এমন খবর পেয়েছি আজ সকালে।

এলাকাবাসী নির্বাক,নিস্তব্ধ গণ-গ্রেফতারীর ভয়ে এরই মধ্যে অনেকে এলাকা ছেড়েছেন। দেবী বিসর্জনের আগেই তাদের চোখের জলে একজন রায়হানকে বিসর্জন দিতে হয়েছে।

প্রশাসনের ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। বিষয়টিকে ইস্যু বানিয়ে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পরে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠদের কড়া নজর রাখা উচিত। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শোকাহত পরিবার কে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। হত্যাকারীরা যে বা যারাই হয় তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। কর্তব্যে অবহেলায় দায়ে দায়িত্ব-রত পুলিশকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হোক।

ছবি:দৈনিক সমকালের সৌজন্যে পাপ্ত।