ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

“অ-তে অজগর, আ-তে আমেরিকা।
বর্ণমালা শেখা শেষ। মাইট ইজ রাইট!
আমার বর্ণমালা এটুকই যথেষ্ট, আমি বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তির দেশ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জ্ঞান-গম্মিতে আমার তুলনা আমি।”

“ক-তে কূটনীতিক খ-তে খালি!
আমারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানাইছে খালি খালি!
যদি আমি বর্ণমালায় এগিয়ে তারপর আমি একটু অনুগ্রহ পাবার আশায় ছুটে গেছি! যেতে হয়।নো ওয়ে!”

সম্প্রতি দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বসেছিলেন একান্ত সাক্ষাতে। উইকিলিকস তারবার্তায় কিভাবে ঘটনাটার বিবরণ ফাঁস করতে পারতো আসুন দেখি দুজনের কথোপকথন!

হিলারি: শুনেছি বাক-স্বাধীনতা আর মিডিয়ার উপর খড়গ চালাবার পরিকল্পনা করছেন?

দিপু: আমরা বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। যদিও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলছেন, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন হলে প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করতে।
(তিনি তখন মনে হয় জানতেন না বিশ্ব ব্যাঙ্ক, জাইকা দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিবেন! এসব ঘটনা ছাপা হচ্ছে,কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়নি!এতে বুঝে নিন দেশে বাক-স্বাধীনতা আছে।)
এছাড়া সরকার একটা ভুল করলে তিলকে তাল বানিয়ে ছাপা হচ্ছে,,টক-শো তে তেঁতুল-টক কথা বার্তা হচ্ছে।

হিলারি: শুনে রাখুন ( উইকিলিকস কোথায় ফাঁদ পেতে আছে কে জানে তাই বলছি) আমরা চাই বা স্বাধীনতা বজায় রাখুন।

দিপু: আজ্ঞে মনে থাকবে।

হিলারি: নোবেল পদকের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এর কার্যক্রমে সহায়তা দিতে হবে।
আপনারা হয়ত জানেন ডঃ ইউনুস এর মাইক্রো-ক্রেডিট ফর্মুলা আমেরিকা তথা গোটা বিশ্বের কাছে সমাদৃত হয়েছে,আমরা এটা তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে মডেল হিসেবে নিচ্ছি।(এই ফর্মুলা আমাদের নিজেদের আরো বিত্তবান করবে)। আপনারা বাগড়া দেবেন না। তাঁর (ডাঃইউনুস) প্রতি সম্মান দেখান।

দিপু: হে হে কি যে বলেন না আমরা এখন আর ডঃ ইউনুস কে সুদখোর বলছিনা! তিনি নাকি মাইনাস-২ ফর্মুলার পক্ষে ছিলেন, রাজনীতি করার খায়েশ ও একটু দেখিয়েছিলেন তাই একটু বাজিয়ে দেখা আর কি!
আর যদি নোবেলপ্রাইজ এর কথা বলেন তবে শান্তিতে নোবেল প্রাইজ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া উচিত ছিল! দেশে অশান্তি নেই,সম্প্রতি জাতিসংঘে তিনি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন। নোবেল পদক আরও একজন কে দেয়া উচিত। দয়া করে ভেবে দেখবেন যোগাযোগে উন্নয়নের জন্য যদি কোনও পদক থাকে, তবে সেটা জনাব আবুল হোসেন কে দিতে সুপারিশ করুন।
আর শেয়ার বাজারে চমৎকার করার জন্য অর্থনীতিতে আমাদের আবুল-মাল-মুহিতকে নোবেল দিতে বলুন। আমরা ডঃ ইউনুসকে নিয়ে কাউ কাউ করবোনা।
তবে সবার আগে শান্তিতে নোবেলটা দিন।

হিলারি: দীপুমনি শুনুন আরও একটা কথা ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য যে আদালত গঠন করেছেন সেটা FAIR নয়, আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন বলে অভিযোগ উঠেছে! এটা নিশ্চিত করেন যুদ্ধাপরাধীদের কোন সংজ্ঞায় ফেলবেন, বিচার কি ণূরেমবার্গ মিলিটারি ট্রাইব্যুনালের মত করবেন নাকি Khmer Rouge Genocide Tribuna,
নাকি জেনেভা কনভেনশন মেনে করবেন। (The Trial of Klaus Barbie উদাহরণটা দেখবেন)
যাই করেন সাবধান! এদের বিচারে স্বচ্ছতা না থাকলে দেশে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হবে। ইসলামী মৌলবাদীদের উত্থান ঘটবে,জঙ্গি হামলা এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা বেড়ে যাবে।

দিপু: আমরা রাজাকার নিধন কর্মসূচি দিয়ে এই প্রজন্মের ভোট পেয়েছি। বিচার আমাদের করতেই হবে। আর আমাদের আইন মন্ত্রী,প্রতি-মন্ত্রী সব কেতাব পড়েই বিচারের রূপরেখা তৈরি করেছেন! এখন আপনারা যখন আপত্তি জানালেন!( আসলে আমরাও অপেক্ষায় ছিলাম এটা কখন বলবেন, এতে সাপ ও মরবে লাঠিও ভাঙবেনা)

হিলারি: একপেশে বিচার হয়েছে এটা ভেবে যাতে জামায়াত-শিবির প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠতে না পারে,এটা ধর্মপ্রাণ মানুষকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলতে পারে।
এই মুহূর্তে আপনাদের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা।
পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে দেখুন সেখানে ইসলামী মৌলবাদ,জঙ্গিবাদ গোটা দেশকে অস্থির করে তুলেছে, অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
তারা আজ মসজিদ এ ঢুকে মানুষ মারছে…মুসলমান মুসলমানকে হত্যা করছে (আমাদের জন্য এসব শাপে বর হিহি)

দিপু: বুঝেছি, আর বলতে হবেনা।

হিলারি: কিছুই বুঝেন নাইগো আফা ,,,

দিপু: আবার জিগায়!

হিলারি: Excuse me! কিছু কইলেন মনে হয়!

দিপু: আপনি বলার আগে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন শুরু হয়ে গেছে!

হিলারি: কিভাবে!

দিপু: Julian Assange মনে হয় পেছনেই ছিল!